Showing posts with label বিবিধ. Show all posts
Showing posts with label বিবিধ. Show all posts

একই সালে বিশিষ্ট লেখকদের জন্ম-মৃত্যু



একই সালে বিশিষ্ট লেখকদের জন্ম-মৃত্যু
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

★১৫৫৮ : সনাতন গোস্বামীর মৃত্যু / রূপ গোস্বামীর মৃত্যু।

★১৫৬৪ : গ্যালিলিও গ্যালিলিইয়ের জন্ম / উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জন্ম।

★১৮২০ : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম / কার্তীকেয়চন্দ্র রায়ের জন্ম / অক্ষয়কুমার দত্তের জন্ম।

★১৮৩৮ : সুরেন্দ্রনাথ মজুমদারের জন্ম / বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম।

★১৮৬০ : আন্তন চেখভের জন্ম / অক্ষয়কুমার বড়ালের জন্ম / মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের জন্ম।

★১৮৬১ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম / কাদম্বিনী বসুর জন্ম / প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্ম / নীলরতন সরকারের জন্ম।

★১৮৬৪ : রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর জন্ম / আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম / কামিনী রায়ের জন্ম।

★১৮৮০ : রাজশেখর বসুর জন্ম / মুন্সি প্রেমচন্দের জন্ম / বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনের জন্ম।

★১৮৮২ : নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের জন্ম / সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম।

★১৮৮৫ : মহম্মদ শহীদুল্লাহের জন্ম / কার্তীকেয়চন্দ্র রায়ের মৃত্যু।

★১৮৮৬ : অক্ষয়কুমার দত্তের মৃত্যু / অজিতকুমার চক্রবর্তীর জন্ম।

★১৮৮৭ : যতীন্দ্রনাদ সেনগুপ্তের জন্ম / সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের জন্ম / বিপিনবিহারী গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম।

★১৮৮৮ : রমেশচন্দ্র মজুমদারের জন্ম / মোহিতলাল মজুমদারের জন্ম / হেমেন্দ্রকুমার রায়ের জন্ম / টি. এস. এলিয়টের জন্ম।

★১৮৮৯ : শিশির কুমার ভাদুড়ীর জন্ম / জওহরলাল নেহরুর জন্ম / কালিদাস রায়ের জন্ম।

★১৮৯০ : সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম / এস. (শেখ) ওয়াজেদ আলীর জন্ম।

★১৮৯৩ : মেঘনাদ সাহার জন্ম / ধীরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম / গি দ্য মপাসাঁর মৃত্যু।

★১৮৯৪ : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম / সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জন্ম।

★১৮৯৭ : তুলসী লাহিড়ীর জন্ম / সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম।

★১৮৯৮ : তারা‌শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম / বের্টোল্ট ব্রেখটের জন্ম / হরিনাথ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম।

★১৮৯৯ : জীবনানন্দ দাশের জন্ম / কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম / শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম / বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম / আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ের জন্ম / মন্মথ রায়ের জন্ম / সুকুমার সেনের জন্ম / বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু।

★১৯০২ : স্বামী বিবেকানন্দের মৃত্যু / ল্যাংস্টন হিউজের জন্ম / গোপাল হালদারের জন্ম।

★১৯০৩ : শিবরাম চক্রবর্তীর জন্ম / রাধারাণী দেবীর জন্ম / অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের জন্ম / বিজয় সরকারের জন্ম / হীরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম।

★১৯০৪ : আন্তন চেখভের মৃত্যু / প্রেমেন্দ্র মিত্রের জন্ম / সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম / পাবলো নেরুদার জন্ম / জসীমউদ্দীনের জন্ম।

★১৯০৭ : বিধায়ক ভট্টাচার্যের জন্ম / সত্যেন সেনের জন্ম।

★১৯০৮ : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম / বুদ্ধদেব বসুর জন্ম / লীলা মজুমদারের জন্ম।

★১৯০৯ : সুবোধ ঘোষের জন্ম / আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম / বিষ্ণু দের জন্ম / অরুণ মিত্রের জন্ম।

★১৯১০ : ‌লিও টলস্টয়ের মৃত্যু / নলিনী দাসের জন্ম।

★১৯১২ : গিরিশচন্দ্র ঘোষের মৃত্যু / মীর মশাররফ হোসেনের মৃত্যু।

★১৯১৩ : দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের মৃত্যু / দিনেশ দাসের জন্ম।

★১৯১৭ : বিজন ভট্টাচার্যের জন্ম / অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরীর মৃত্যু / বিনয় ঘোষের জন্ম / শওকত ওসমানের জন্ম / নবেন্দু ঘোষের জন্ম।

★১৯১৮ : নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম / অমীয়ভূষণ মজুমদারের জন্ম / অজিতকুমার চক্রবর্তীর জন্ম।

★১৯১৯ : মণীন্দ্র রায়ের জন্ম / সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম / শিবনাথ শাস্ত্রীর মৃত্যু / অমৃতা কাউর প্রীতমের জন্ম / অক্ষয়কুমার বড়ালের মৃত্যু / রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর মৃত্যু / এডমন্ড হিলারির জন্ম।

★১৯২০ : সন্তোষকুমার ঘোষের জন্ম / বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম / মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম।

★১৯২২ : সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহের জন্ম / সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু / আনন্দগোপাল সেনগুপ্তের জন্ম / রমাপদ চৌধুরীর জন্ম।

★১৯২৩ : কাদম্বিনী বসুর মৃত্যু / গৌরকিশোর ঘোষের জন্ম / মৃণাল সেনের জন্ম / সলিল চৌধুরীর জন্ম / মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের মৃত্যু।

★১৯২৪ : সূর্যেন্দুবিকাশ করমহাপাত্রের জন্ম / সমরেশ বসুর জন্ম / তপন সিংহের জন্ম / আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু।

★১৯২৫ : বাদল সরকারের জন্ম / জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু / ঋত্বিক কুমার ঘটকের জন্ম।

★১৯২৬ : মহাশ্বেতা দেবীর জন্ম / সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম / শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম / কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু।

★১৯২৮ : বিজয় ধনপান্ত তেন্ডুলকরের জন্ম / অজয় রায়ের জন্ম।

★১৯৩০ : আইয়াপ্পা পানিকরের জন্ম / সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের জন্ম।

★১৯৩১ : হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মৃত্যু / সুন্দর রামস্বামীর জন্ম / কবিতা সিংহের জন্ম।

★১৯৩২ : শঙ্খ ঘোষের জন্ম / স্বর্ণকুমারী দেবীর মৃত্যু / বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু / প্রদ্যুস্ন ভট্টাচার্যের জন্ম / অমমিয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের জন্ম।

★১৯৩৩ : শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম / অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম / সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম / প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের জন্ম / কামিনী রায়ের মৃত্যু / মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের জন্ম / শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম।

★১৯৩৪ : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম / অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম / প্রফুল্ল রায়ের জন্ম / মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম / সাধনা মুখোপাধ্যায়ের জন্ম / বিনয় মজুমদারের জন্ম।

★১৯৩৫ : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম / সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম।

★১৯৩৬ : মুন্সি প্রেমচন্দের মৃত্যু / তারাপদ রায়ের জন্ম / উজ্জ্বলকুমার মজুমদারের জন্ম।

★১৯৪২ : শহিদ কাদরির জন্ম / দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম / দিলীপ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম।

★১৯৫১ : অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু / এস (শেখ) ওয়াজেদ আলীর মৃত্যু / অপূর্ব দত্তের জন্ম / স্বপ্নময় চক্রবর্তীর জন্ম।

★১৯৫২ : মোহিতলাল মজুমদারের মৃত্যু / সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্তের মৃত্যু।

★১৯৫৪ : জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু / যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের মৃত্যু / জয় গোস্বামীর জন্ম / বিপিনবিহারী গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু।

★১৯৫৬ : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু / বের্টোল্ট ব্রেখটের মৃত্যু / মেঘনাদ সাহার মৃত্যু।

★১৯৫৯ : শিশির কুমার ভাদুড়ীর মৃত্যু / তুলসী লাহিড়ীর মৃত্যু।

★১৯৬১ : সচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের মৃত্যু / সুকুমার সেনের মৃত্যু / আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ের মৃত্যু।

★১৯৭০ : শরদিন্দু  বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু / নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু।

★১৯৭১ : তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু / সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহের মৃত্যু।

★১৯৭৪ : সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মৃত্যু / সৈয়দ মুজতবা আলীর মৃত্যু / বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যু।

★১৯৭৬ : জসীমউদ্দীনের মৃত্যু / অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের মৃত্যু / ঋত্বিক কুমার ঘটকের মৃত্যু / কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু।

★১৯৭৮ : বিজন ভট্টাচার্যের মৃত্যু / ধীরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু।

★১৯৮০ : সুবোধ ঘোষের মৃত্যু / শিবরাম চক্রবর্তীর মৃত্যু / রমেশচন্দ্র মজুমদারের মৃত্যু / বিনয় ঘোষের মৃত্যু।

★১৯৮২ : নলিনী দাসের মৃত্যু / বিষ্ণু দের মৃত্যু।

★১৯৮৫ : সন্তোষকুমার ঘোষের মৃত্যু / দিনেশ দাসের মৃত্যু / বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু / বিজয় সরকারের মৃত্যু।

★১৯৮৭ : সমর সেনের মৃত্যু / বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু / মনোজ বসুর মৃত্যু।

★১৯৮৮ : প্রেমেন্দ্র মিত্রের মৃত্যু / মন্মথ রায়ের মৃত্যু / সমরেশ বসুর মৃত্যু।

★১৯৯১ : গোপীনাথ মোহান্তীর মৃত্যু / বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মৃত্যু।

★১৯৯৩ : উৎপল দত্তের মৃত্যু / গোপাল হালদারের মৃত্যু।

★১৯৯৫ : শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু / সলিল চৌধুরীর মৃত্যু / আশাপূর্ণা দেবীর মৃত্যু / হীরেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু।

★১৯৯৭ : শম্ভু মিত্রের মৃত্যু / আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াসের মৃত্যু।

★২০০০ : গৌরকিশোর ঘোষের মৃত্যু / অরুণ মিত্রের মৃত্যু।

★২০০৩ : সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু / বিমল করের মৃত্যু / মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু।

★২০০৫ : সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু / অমৃতা কাউর প্রীতমের মৃত্যু / সুন্দর রামস্বামীর মৃত্যু।

★২০০৬ : আইয়াপ্পা পানিকরের মৃত্যু / শামসুর রহমানের মৃত্যু।

★২০০৭ : লীলা মজুমদারের মৃত্যু / সূর্যেন্দুবিকাশ করমহাপাত্রের মৃত্যু / প্রণবেন্দু দাশগুপ্তের মৃত্যু / তারাপদ রায়ের মৃত্যু / নবেন্দু ঘোষের মৃত্যু।

★২০০৮ : এডমন্ড হিলারির মৃত্যু / বিজয় ধনপান্ত তেন্ডুলকরের মৃত্যু / আবদুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যু।

★২০১২ : সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের মৃত্যু / সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু / মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু।

★২০১৬ : শচীন দাসের মৃত্যু / অমিয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু / দিলীপ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু / আনন্দগোপাল সেনগুপ্তের মৃত্যু / মহাশ্বেতা দেবীর মৃত্যু / শহিদ কাদরির মৃত্যু / সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যু / প্রদ্যুস্ন ভট্টাচার্যের মৃত্যু / অপূর্ব দত্তের মৃত্যু / অজয় রায়ের মৃত্যু / শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু / দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু / অলোক সরকারের মৃত্যু / অরুণকুমার বসুর মৃত্যু / উজ্জ্বলকুমার মজুমদারের মৃত্যু।

★২০১৭ : তরুণ সান্যালের মৃত্যু / হীরেন চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু।

★২০১৮ : মদন ভড়ের মৃত্যু / ভি. এস. নইপালের মৃত্যু / রমাপদ চৌধুরীর মৃত্যু / আশরাফ আহমেদের মৃত্যু / অটলবিহারী বাজপায়ীর মৃত্যু।

¤ এখানে কিছু জন বিশেষ ব্যক্তির নাম আছে, যাঁরা হয়তো লেখক নয়। কিন্তু সাহিত্যেজগতের সঙ্গে এনারা বিশেষভাবে যুক্ত বা সাহিত্যজগতে এনারা বিশেষভাবে পরিচিত। ¤

#আলোচকসৌম্যমাইতি
# অ্যাডমিন
#Success_Bangla
#Date :- ২৬•০৮•২০১৮

সত্যজিৎ রায়ের পুরস্কৃত চলচ্চিত্রের তালিকা

♣ সত্যজিৎ রায়ের পুরস্কৃত ছবির তালিকা ♣
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

         সত্যজিৎ রায়ের আগে পর্যন্ত ভারতীয় সিনেমা একঘেয়েমির ক্লান্তিতে ডুবেছিল। নর্তকী, মাতাল, ভাঁড়ামির প্রাধান্য ছিল। সেই অসুস্থ সময়ের মধ্যে থেকেও সত্যজিৎ প্রমাণ করেছেন, কামনা-বাসনা, হতাশা-যন্ত্রণা, আর জৈবিক ক্ষুধার ভেতর দিয়েও জীবনের গভীর তলদেশ ছুঁয়ে যাওয়া যায়। বিশিষ্ট অভিনেত্রী মাধবী চক্রবর্তী বলেছেন, 'একজন সফল চিত্রকার উনি। একজন জেনুইন শিল্পী। যিনি কখনও ব্যবসার কথা ভেবে ছবি তৈরি করেননি।'

        পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ও মহাদেশে সত্যজিতের ছবি যেভাবে ভারতের মহিমা প্রচার করেছে তা কোন রাজনৈতিক নেতা বা রাষ্ট্রদূতের পক্ষে সম্ভব হয়েছে বলে মনে হয় না। দেশ-বিদেশে তাঁর ছবি যেভাবে পুরস্কৃত ও সম্মানিত হয়েছে তা পৃথিবীর খুব কম চিত্র-পরিচালকের ভাগ্যে জুটেছে। তাঁর পুরস্কৃত ছবির তালিকা থেকেই তা উপলব্ধি করা যায় :-

১) 'পথের পাঁচালী' (১৯৫৫) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণ ও রৌপ্যপদক, ভারত। শ্রেষ্ঠ মানবিক দলিল, কান, ১৯৫৬। ডিপ্লোমা অফ্ মেরিট, এডিনবার্গ, ১৯৫৬। গোল্ডেন কারবাও, ম্যানিলা, ১৯৫৬। নষ্ট ছবি ও পরিচালনা, সানফ্রান্সিস্কো, ১৯৫৭। সেলজনিক গোল্ডেন লরেল, বার্লিন, ১৯৫৭। শ্রেষ্ঠ ছবি, ভ্যাঙ্কুবার, কানাজ, ১৯৫৮। সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ স্টাটফোর্ড, কানাডা, ১৯৫৮। শ্রেষ্ঠ বিদেশি ছবি, আফ্রো আর্টস থিয়েটার, নিউইয়র্ক, ১৯৫৯। অপুত্রয়ীর প্রতিটির জন্য উইংটন পুরস্কার, লন্ডন, ১৯৬০। শ্রেষ্ঠ অ-ইউরোপীয় ছবি হিসেবে বদিল পুরস্কার, ডেনমার্ক, ১৯৬৬। শ্রেষ্ঠ বিদেশি ছবি, কিনিমা জামপো পুরস্কার, টোকিও, ১৯৬৬।

২) 'অপরাজিত' (১৯৫৬) : গোল্ডেন লায়ন অফ্ সেন্ট মার্ক, ভেনিস, ১৯৫৭। সিনেমা ন্যুভো, ভেনিস, ১৯৫৭। সমালোচকদের পুরস্কার, ভেনিস, ১৯৫৭। সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ ছবি ও পরিচালনা, সানফ্রান্সিস্কো, ১৯৫৮। শ্রেষ্ঠ বিদেশি ছবির জন্য গোল্ডেন লরেন, আমেরিকা, ১৯৫৮। সেলজনিক গোল্ডেন লরেন, বার্লিন, ১৯৬০। অপু ত্রয়ীর প্রতিটির জন্য উইংটন পুরস্কার, লন্ডন, ১৯৬০। শ্রেষ্ঠ অ-ইউরোপীয় ছবির জন্য বদিল পুরস্কার, ডেনমার্ক, ১৯৬৭।

৩) 'জলসাঘর' (১৯৫৮) : রাষ্ট্রপতির রৌপ্যপদক, ভারত, ১৯৫৮। সঙ্গীতের জন্য রৌপ্যপদক, মস্কো, ১৯৫৯।

৪) 'অপুর সংসার' (১৯৫৯) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, ভারত, ১৯৫৯। শ্রেষ্ঠ চৌলিক এবং আবেগ প্রবণ ছবি হিসেবে সাদারল্যান্ড পুরস্কার, লন্ডন, ১৯৬০। ডিপ্লোমা অফ্ মেরিট, এডিনবার্গ, ১৯৬০। শ্রেষ্ঠ বিদেশি ছবি, ন্যাশনাল বোর্ড অফ্ রিভিউ অফ্ মোশন পিকচারস, আমেরিকা, ১৯৬০। অপু ত্রয়ীর প্রতিটির জন্য উইংটন পুরস্কার, লন্ডন, ১৯৬০।

৫) 'দেবী' (১৯৬০) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, ভারত, ১৯৬০।

৬) 'তিনকন্যা' (১৯৬১) : সমাপ্তি চরিত্রের জন্য রাষ্ট্রপতির রৌপ্যপদক, ভারত, ১৯৬১। সমাপ্তি চরিত্র ও পোস্টমাস্টারদের জন্য মেলবোর্ন ট্রফি, মেলবোর্ন, ১৯৬২। সেলজনিক গোল্ডেন লরন, বার্লিন, ১৯৬৩।

৭) 'অভিযান' (১৯৬২) : রাষ্ট্রপতির রৌপ্যপদক, ভারত, ১৯৬২।

৮) 'মহানগর' (১৯৬৩) : সার্টিফিকেট অফ্ মেরিট, ভারত, ১৯৬৩। শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে রৌপ্য ভালুক, বার্লিন, ১৯৬৪।

৯) 'চারুলতা' (১৯৬৪) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, ভারত, ১৯৬৪। শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে রৌপ্য ভালুক, বার্লিন, ১৯৬৫। ক্যাথলিক পুরস্কার, বার্লিন, ১৯৬৫। শ্রেষ্ঠ ছবি, আদাপুলকে, মেক্সিকো, ১৯৬৫।

১০) 'নায়ক' (১৯৬৬) : রাষ্ট্রপতির রৌপ্যপদক, ভারত, ১৯৬৬। রাষ্ট্রপতির পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য ও কাহিনি, ভারত, ১৯৬৬। বিশেষ জুরি পুরস্কার, বার্লিন, ১৯৬৬। ইউনিক্রিট সমালোচকদের দেওয়া পুরস্কার, বার্লিন, ১৯৬৬।

১১) 'চিড়িয়াখানা' (১৯৬৭) : শ্রেষ্ঠ পরিচালক, ভারত, ১৯৬৭।

১২) 'গুপী গাইন বাঘা বাইন' (১৯৬৯) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, ভারত, ১৯৬৯। রাষ্ট্রপতির রৌপ্যপদক, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, ভারত, ১৯৬৯। শ্রেষ্ঠ পরিচালক, সিলভার ক্রস পুরস্কার, অ্যাডিলেড, ১৯৬৯। শ্রেষ্ঠ মৌলিক ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক, অকল্যান্ড, ১৯৬৯। মেরিট অ্যাওয়ার্ড, টোকিও, ১৯৭০। শ্রেষ্ঠ ছবি, মেলবোর্ন, ১৯৭০।

১৩) 'প্রতিদ্বন্দ্বী' (১৯৭০) : রাষ্ট্রপতির রৌপ্যপদক, ভারত, ১৯৭০। দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ছবি, ভারত, ১৯৭০। বিশেষ পুরস্কার, ভারত, ১৯৭০।

১৪) 'সীমাবদ্ধ' (১৯৭১) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, ভারত, ১৯৭২। এফ. আই. পি. আর ইস...সি...আই পুরস্কার, ভেনিস, ১৯৭২।

১৫) 'অশনি সংকেত' (১৯৭৩) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, ভারত, ১৯৭৩। শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক, ভারত, ১৯৭৩। গোল্ডেন গুগো, সিকাগো, ১৯৭৩। শ্রেষ্ঠ ছবির জন্য স্বর্ণ ভালুক, বার্লিন, ১৯৭৪।

১৬) 'সোনার কেল্লা' (১৯৭৪) : রাষ্ট্রপতির রৌপ্যপদক, ভারত, ১৯৭৪। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য, ভারত, ১৯৭৪। শ্রেষ্ঠ ছবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৭৪। শ্রেষ্ঠ পরিচালক, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৭৪। শিশু ও কিশোরদের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনি চিত্র, তেহরান, ১৯৭৫।

১৭) 'জন অরণ্য' (১৯৭৫) : শ্রেষ্ঠ পরিচালক, ভারত, ১৯৭৫। শ্রেষ্ঠ ছবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৭৫। শ্রেষ্ঠ পরিচালক, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৭৫। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৭৫। কালোভি ভ্যারি পুরস্কার, ১৯৭৬।

১৮) 'শতরঞ্চ কে খিলাড়ি' (১৯৭৭) : শ্রেষ্ঠ হিন্দি ছবি, ভারত, ১৯৭৭।

১৯) 'জয় বাবা ফেলুনাথ' (১৯৭৮) : শ্রেষ্ঠ শিশু চলচ্চিত্র, ভারত, ১৯৭৮। গোল্ডেন হুগো, শিকাগো, ১৯৭৯। বিশেষ পুরস্কার, সাইপ্রাস, ১৯৮০।

২০) 'হীরক রাজার দেশে' (১৯৮০) : রাষ্ট্রপতির পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক, ভারত, ১৯৮০।

২১) 'গণশত্রু' (১৯৮৯) : শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি, ভারত, ১৯৮৯।

* এই বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলি ছাড়াও তিনি তাঁর বিখ্যাত তথ্যচিত্রের জন্যও পুরস্কৃত হয়েছেন। সেই পুরস্কৃত তথ্যচিত্রগুলি হল :-

১) 'রবীন্দ্রনাথ' (১৯৬১) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, ভারত, ১৯৬১। শ্রেষ্ঠ তথ্যচিত্র, সোকানো, ১৯৬১।

২) 'দ্য ইনার আই' (১৯৭২) : রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, ভারত, ১৯৭২।

        এই পুরস্কার তালিকা থেকেই বুঝে নেওয়া যায় যে সত্যজিৎ রায় ভারতের সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে পৃথিবীর বুকে কতখানি বড় করে তুলে ধরেছেন। খ্যাতিমান বিদেশি পরিচালকেরা সত্যজিতের ছবি দেখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে পারেন, বহু বিশিষ্ট মানুষ ব্যয় করতে পারেন তাঁদের অমূল্য সময়।

★আলোচক : সৌম্য মাইতি 
(ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, কিংসটন কলেজ, মেছেদা, পূর্ব মেদিনীপুর)

★ অ্যাডমিন -- সাকসেস বাংলা★


সিপাহী বিদ্রোহ কেন্দ্রীক রচিত গ্রন্থ

♥♥ সিপাহী বিদ্রোহ কেন্দ্রীক রচিত গ্রন্থ ♥♥
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

♦ উপন্যাস ♦
১) অপর্ণাপ্রসাদ সেনগুপ্তের "বাংলা ঐতিহাসিক উপন্যাস"
২) বিজিত কুমার দত্তের "বাংলা সাহিত্যে ঐতিহাসিক উপন্যাস"
৩) সুকুমার মিত্রের "১৮৫৭ ও বাংলাদেশ"
৪) শঙ্করপ্রসাদ চক্রবর্তীর "মহাবিদ্রোহ" (২০০৭)
৫) গোবিন্দচন্দ্র ঘোষের "চিত্ত বিনোদিনী" (১৮৭৪)
[প্রথম মহাবিদ্রোহকে কেন্দ্র করে লেখা উপন্যাস]
৬) প্রমথ চৌধুরীর "ভগ্নী"
৭) প্রসন্নময়ী দেবীর "অশোকা"
৮) উপেন্দ্রচন্দ্র মিত্রের "নানাসাহেব"
৯) চণ্ডীচরণ সেনের "ঝাঁসির রাণী"
১০) কালিনী প্রসন্ন দত্তের "বিজয়"
১১) নগেন্দ্র গুপ্তের "অমর সিংহ"
১২) সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের "স্বপ্নসুন্দরী"
১৩) গজেন্দ্রকুমার মিত্রের "বহ্নি বন্যা"
১৪) প্রমথনাথ বিশীর "লালকেল্লা"
১৫) মহাশ্বেতা দেবীর "নটী" (১৯৫৭)
১৬) মহাশ্বেতা দেবীর "অমৃত সঞ্চয়"
১৭) অমিয়ভূষণ মজুমদারের "নয়নতারা"
১৮) সমরেশ বসুর "উত্তরঙ্গ"
১৯) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের "সেই সময়"
২০) প্রফুল্ল রায়ের "মানুষের যুদ্ধ"
২১) সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের "আবর্ত বিদ্যাসাগর"
২২) যদুনাথ সর্বাধিকারীর "তীর্থভ্রমণ" (আত্মকথা)
২৩) গিরিশচন্দ্র ঘোষের "চন্দ্রা"

♦ নাটক ♦
১) অতুলকৃষ্ণ মিত্রের "নির্বাসিত দীপ" (১৮৭৬)
[মহাবিদ্রোহকে কেন্দ্র করে লেখা প্রথম নাটক]
২) তৃপ্তি মিত্রের "বিদ্রোহিণী"
৩) উৎপল দত্তের "মহাবিদ্রোহ" [পূর্ব নাম "টোটা"]

♦ যাত্রাপালা ♦
১) উৎপল দত্তের "কুঠার"
২) উৎপল দত্তের "বিবিঘর"

♦ ছোটগল্প ♦
১) নগেন্দ্রনাথ গুপ্তের "ভৈরবী"
২) স্বর্ণকুমারী দেবীর "মিউটিনি"
৩) সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "পরিণাম"

♦ প্রবন্ধ ♦
১) শিবনাথ শাস্ত্রীর "রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালিন
বঙ্গসমাজ" (১৯০২)

♦ কবিতা ♦
১) সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের "বর্ষীয়ান"
২) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের "দেলখুসা"
৩) জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের "রাজধানী"
৪) সুকান্ত ভট্টাচার্যের "সিপাহি বিদ্রোহ" [এটি মহাবিদ্রোহকে কেন্দ্র করে সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা স্মরণীয় কবিতা। এই কবিতাটিতে তিনি লিখেছেন : "নানাসাহেব, তাঁতিয়া টোপি, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মী।
এদের নামে দৃপ্ত কিশোর খুলবে তোমার চোখ কি?"]

♦ কিশোর সংকলন ♦
১) "ইন্দ্রধনু" - সুনির্মল বসু [এতে সুনির্মল বসু লিখেছেন : "ঝাঁসি নাহি দিব"]

★আলোচক : সৌম্য মাইতি 
(ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, কিংসটন কলেজ, মেছেদা, পূর্ব মেদিনীপুর)

★ মডারেটর -- সাকসেস বাংলা★


গানের ভেলায় রবীন্দ্রনাথ


                    ♦গানের ভেলায় রবীন্দ্রনাথ♦
 
                                (এক)

  উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা গানের ভুবনে যেন এক নবজোয়ার এল। ১৮৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম। যদিও এর ঠিক এক দশকের মধ্যেই বাংলাদেশে এমন কয়েকজন প্রতিভার আবির্ভাব ঘটে, যাঁদের কথা অন্তত একবার না জানানো নিতান্তই অন্যায়। তাঁরা হলেন,দ্বিজেন্দ্রলাল রায়(রবীন্দ্রনাথের থেকে দুবছরের ছোট),রজনীকান্ত সেন(চার বছরের ছোট),অতুলপ্রসাদ সেন(দশ বছরের ছোট)। রবীন্দ্রনাথ সহ এঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক।

       বাংলাদেশের সমাজ,বাঙালির মানসিকতা ও সংস্কৃতিকে উপলব্ধি করার জন্যে যে পরিবেশ ও পরিবারের প্রয়োজন হয়েছিল,তা অতি শৈশবকাল থেকেই রবীন্দ্রনাথকে প্রভাবিত করেছিল। আর এই কারণেই,
 'রবীন্দ্রনাথের মতো বিরাট এবং বহুমুখী প্রতিভা বঙ্গদেশে আর জন্মগ্রহণ করেননি।'(১) জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি সেইসময়ের কলকাতার সাহিত্য, সঙ্গীত, সংস্কৃতি, চিত্রকলা ও নাটকের পীঠস্থান ছিল। জানা যায়,প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ভালো গান ও বাজনা জানতেন। দেবেন্দ্রনাথও ব্যাতিক্রম ছিলেন না। তিনি অনেক গান লিখে তাতে সুর দিয়েছিলেন। তাঁর পুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ,সত্যেন্দ্রনাথ এবং জ্যোতিরিন্দ্রনাথ বড়ো সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। এই পরিবেশেই বেড়ে উঠলেন সঙ্গীতপ্রিয় রবীন্দ্রনাথ। প্রথাগত ঘরানায় রবীন্দ্রনাথ গান শিখতে আগ্রহী না থাকলেও তাঁকে বাধ্য হয়ে যদু ভট্ট,বিষ্ণু চক্রবর্তী, রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী এবং শ্যামসুন্দর মিশ্র প্রমুখ ব‍্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে গান শিখতে হয়। তিনি যে ওস্তাদদের কাছে গান শিখেছিলেন,তাঁরা বেশিরভাগই গাইতেন ধ্রুপদ। রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্ম ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। সেই সময়ের ব্রাহ্মসমাজে গাওয়া হতো ধ্রুপদাঙ্গ ব্রহ্মসঙ্গীত। ফলে প্রয়োজনে ও আন্তরিক তাগিদে রবীন্দ্রনাথ কৈশোরকাল থেকেই এই জাতীয় সঙ্গীত রচনায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

     সাধারণত ধ্রুপদ সঙ্গীতের চারটি তুক থাকে। সেগুলি যথাক্রমে - স্থায়ী,অন্তরা,সঞ্চারী এবং অভোগ। রবীন্দ্রনাথ এই তুকগুলিকে  মেনে গান লিখতে শুরু করলেন। এমনকি তিনি যখন কোনো লোকসঙ্গীত রচনা করেছেন,তখনো এই কাঠামোকে অস্বীকার করেননি। ধ্রুপদ গানের একটি প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হলো,এ গান সাধারণত গুরুগম্ভীর ও উপাষনামূলক। রবীন্দ্রনাথের সমগ্র জীবনের অনেক গানে এই বৈশিষ্ট্য লক্ষ্যণীয়। সামগ্রিক দৃষ্টিতে বলা যেতে পারে যে,তিনি ধ্রুপদ গানের দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত খেয়াল আঙ্গিকের কোনো গান রচনা করেননি। এমনকি ঠুংরি টাইপের গান আরো কম রচনা করেন,যদিও তিনি প্রচুর টপ্পা গান লিখেছিলেন।

                                  (দুই)

   রবীন্দ্রনাথের মেজদা বাড়িতে পিয়ানো বাজিয়ে পাশ্চাত্য সঙ্গীতচর্চা করতেন। রবীন্দ্রনাথ তখন আঠারো বছরের যুবক,বিলাতে গেলেন লেখাপড়া শিখতে। স্বাভাবিক ভাবেই এই পর্বে পাশ্চাত্যের সাঙ্গীতিক আবহাওয়া তাঁকে আচ্ছন্ন করে। ইতিমধ্যে; লন্ডনে জন স্কটের যে বড়িতে তিনি থাকতেন,সেখানেও তিনি গান সেখার সুযোগ পান। স্কট পরিবারের ছোট মেয়ে লুসি রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বছর আটেকের বড়ো হলেও রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসতেন। কেউ কেউ মনে করেন, রবীন্দ্রনাথও বোধহয় লুসিকে ভালোবাসতেন।(ওগো বিদেশিনী,তুমি থাকো../গান) লুসির সঙ্গে তাঁর একটা চুক্তি হয়,তিনি লুসিকে বাংলা শেখাবেন,আর লুসি তাঁকে শেখাবেন পাশ্চাত্য সঙ্গীত। বলাবাহুল্য; নবযৌবনের নবকলেবরে রবীন্দ্রনাথের গীতিময় আত্মা পাশ্চাত্যের সঙ্গীত তরঙ্গকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিল।
    বিলেতফেরত রবীন্দ্রনাথ ফিরে আসার কয়েকমাসের মধ্যেই লিখলেন 'বাল্মীকি প্রতিভা'। এই গীতিনাট্যে বিলিতি সুরে কমপক্ষে তিনটি গান আছে। পাশ্চাত্যের অপেরার আদর্শে এই নাটকে গীতিময়তা এসেছে। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গীতিনাট্যে গানের ব‍্যবহার,নিতান্তই সঙ্গীতপ্রীতিরই দ্যোতক। গান সাধারণত দুপ্রকার- কথাপ্রধান ও সুরপ্রধান। রবীন্দ্রনাথ সামান্য পরিমানে সুরপ্রধান গান রচনা করলেও,বিলিতি আদর্শে কথাপ্রধান গান রচনা করেছেন বেশি।

                                  (তিন)

      রবীন্দ্রনাথ বাঙালির আত্মার আত্মীয়। কেননা, তিনি বিলাত থেকে ফেরার এক দশকের মধ্যেই পূর্ববঙ্গের বৃহত্তর বাঙালি সমাজের সঙ্গে পরিচিত হন। এই পরিচয়ের নিগূঢ় পরিচয় পাই তাঁর কবিতা, ছোটগল্প আর গানে(২)। পূর্ববঙ্গের মেঠোপথ,নদীপাহাড়,প্রকৃতি ও মানুষজন রবীন্দ্রনাথের গানের বিষয় হয়ে উঠেছিল এই পর্বে। 'প্রবাসী' পত্রিকা থেকে জানা যায়,তিনি লালন ফকিরের অনেক বাউল গান সংগ্রহ করে ছাপিয়েছিলেন। বাউল সুর যে সঙ্গীতশাস্ত্রের জ্ঞানবর্জিত সাধারণ মানুষের অন্তরের সুর,তা তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেছেন। বাউল গান সাংসারিক বন্ধন মুক্তির আধ‍্যাত্মিক গান।শিলাইদহে যাবার প্রায় পনেরো বছর পরে রবীন্দ্রনাথ বাউলগান লিখতে শুরু করেন।
      বাউলদের মরমী,হৃদয়ভেদী ও আবেগপ্রবণ সুর রবীন্দ্রনাথের আস্তিক‍্যবাদী চিত্তকে উদ্বেলিত করেছিল। তাই তিনি রাগরাগিণী,তাল-লয়ের ধ্বজা ভেঙে দিয়ে আন্তরিক আকুতিকেই বড়ো করে দেখলেন বাউল গানগুলিতে।

                                 (চার)

      সময়টা ১৯০৫ সাল। চারিদিকে বঙ্গভঙ্গের কলরব কলতান চলছিল। এই সময়পর্বে রবীন্দ্রনাথ বেশ কিছু দেশাত্মবোধক গান রচনা করেন। এই ধরনের গানগুলির প্রধানত দুটি সুর। প্রথম পর্যায়ের গানগুলি তিনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কাঠামো মেনে রচনা করেন('তোমারি তরে মা সঁপিনু দেহ'/গান)। আর পরবর্তীতে বঙ্গভঙ্গের আবহকে করুণ করে তুলতে তিনি বেছে নিয়েছেন, বাউল সুরকে। শুধুমাত্র দেশাত্মবোধক গানই নয়,প্রেম ও প্রার্থনা বিষয়ক গানেও ব‍্যাপকভাবে মিশে গিয়েছে বাউল গানের সুর। বাউলগান ছাড়া অন্য কোনো লোকগীতি তাঁকে তেমনটা প্রভাবিত করতে পারেনি বলেই হয়তো শশিভূষণ দাশগুপ্ত রবীন্দ্রনাথকে 'বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ বাউল' বলে সম্মানিত করেছেন।
  এছাড়াও কীর্তনের সুর তাঁর গানকে ব‍্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, 'রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড়ো কৃতিত্ব এই যে,তিনি বাংলা গানকে সত্যিকার বাংলা গানে পরিণত করেছিলেন।'(৩)অর্থাৎ কীর্তন এবং বাউল যেমন বাংলার নিজস্ব সঙ্গীত, তিনিও তেমনি নতুন ধারায় বাংলা গানের প্রবর্তন করলেন।যে গানের ভাষাই শুধু বাংলা নয়; সুর,কথা,আবেগ,অনুভূতি সবদিক থেকেই তা বাঙালি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

   গীতাঞ্জলি-র যুগভূমিতে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ সারা বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষকে নিজের বাহুডোরে আলিঙ্গন করার উদ্যেশ্যে আহ্বান করলেন। এই পর্যায়ের গানগুলি তাই আধ‍্যাত্মিকতা ও ঈশ্বর চিন্তায় নিমজ্জিত। এই গানগুলি রবীন্দ্রনাথের পূজা পর্যায়ের গানগুলির নামান্তর। অনেকেই বলেন যে,রবীন্দ্রনাথের হাতে কথা এবং সুর মিশে এক অপূর্ব বস্তুর সৃষ্টি হয়েছে। দৃষ্টান্ত:(সত্য মঙ্গল প্রেমময় তুমি, ধ্রুবজ্যোতি তুমি অন্ধকারে।,গীতবিতান,অখণ্ড:পূজা ৪৫২)
 তবে তাঁর শেষ জীবনের গানগুলিতে আপাতদৃষ্টিতে যতটা জায়গা জুড়ে কথা আছে,সুর কিন্তু ততটা গুরুত্ব লাভ করেছে বলে মনে হয় না।
  * 'একলা বসে হেরো তোমার ছবি..'
  * 'মনে কি দ্বিধা রেখে গেলে চলি ..'
  * 'মন মোর মেঘের সঙ্গী....'
  প্রভৃতি গানগুলি কথাপ্রধান,সুর এখানে আরোপিত। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত জীবনের প্রায় সার্ধশতবর্ষ পরে,বর্তমানেও বাংলা গান চারটা তুকে বিভক্ত এবং কথাপ্রধান। এখানেই তো তাঁর সঙ্গীতচর্চার চরম সার্থকতা!

                                (পাঁচ)

   তৎকালীন শিক্ষিত সমাজে রবীন্দ্রনাথ সৃষ্ট সঙ্গীতগুলি বিশেষ প্রাধান্য লাভ করেছিল। কেননা,রবীন্দ্রসঙ্গীতে আমরা আমাদের সত্তাকে খুঁজে পাই এবং আমরা আমাদের হৃদয়ের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। এছাড়াও তাঁর গানের কথাগুলি আমাদের চেতন ও অবচেতন মনকে এক অকৃত্রিম অনুভূতির ভাবজগতে দোলায়িত করে তোলে। সহজ-সরল ভাব ও ভাষার বুঁনতে রচিত তাঁর গানগুলি। তিনি শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের কঠোর অনুশাসনের শৃঙ্খল ভেঙে সঙ্গীতকে চিরমুক্তি দিয়েছেন বাংলা গানের নীলাকাশে। রবীন্দ্রনাথ নিজেই সুকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন, কিন্তু তাঁর গলার স্বর ভারী ছিল না। বিশ শতকের গোড়ার প্রথম এক দশকে গ্রামফোন রেকর্ডে তাঁর চেয়ে বেশি গান আর কেউ গাননি। তিনি ছাড়া সেই সময়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের উৎকৃষ্ট গায়ক ছিলেন দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শান্তিদেব ঘোষ। এঁদের প্রত্যেকের কণ্ঠ ছিল হাল্কা ও চড়া। প্রথম ভারী গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন,পঙ্কজ কুমার মল্লিক। তারপর হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং দেবব্রত বিশ্বাস। এঁরা প্রত্যেকেই বিশ শতকের তিনের দশকের জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতকার। বস্তুত, এই ত্রয়ী সঙ্গীতকার তাঁদের ভারী গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের বহমান ঐতিহ্য ও আদর্শকে পর্ব থেকে পর্বান্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে শেষ করছি শুধু একটি কথা বলে যে, রবীন্দ্রনাথ বাংলা গানের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট গীতিকার এবং কারো কারো মতে সুরকারও। আধুনিক বাংলা সহ অন্যান্য অনেক প্রাদেশিক সঙ্গীত, রবীন্দ্রসঙ্গীতের কাছে তাই চিরকাল বিশেষভাবেই ঋণী হয়ে থাকবে।।
(সংক্ষেপিত)

 #_তথ্যসূত্র: 
   (১) মুরসিদ;গোলাম, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি,অবসর প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা,পৃ.৩৩১.

   (২) মুরসিদ; গোলাম, রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, প্রকাশনী পূর্বল্লেখ,সূত্র কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বক্তৃতামালা।

   (৩) মুরসিদ; গোলাম, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি, অবসর প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা,পৃ.৩৩৫.

#_সহায়ক_গ্রন্থাবলী:
  (১) সঙ্গীত জিজ্ঞাসা: শ্রী রামপ্রসাদ রায় (Theory and practical)
  (২) স্বরবিতান : (বিভিন্ন খণ্ড)
  (৩) হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি: গোলাম মুরসিদ
  (৪) রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ ও পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ: গোলাম মুরসিদ।
  (৫) রবীন্দ্রনাথ সংগৃহীত লালনের গানের পাণ্ডুলিপি: আবুল আহসান চৌধুরী।

♦আলোচক: ধনঞ্জয় চক্রবর্তী♦

 ♦অ্যাডমিন--সাকসেস বাংলা♦

পত্রিকায় প্রকাশিত শরৎচন্দ্রের রচনা


শরৎচন্দ্রের সাহিত্যসম্ভারগুলির বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশের তালিকা :- 
--------------------------------------------------------------------------------

উপন্যাসঃ-

১. বড়দিদি - ভারতী পত্রিকায়

২. শ্রীকান্ত ১ম - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

২. শ্রীকান্ত ২য় - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৩. শ্রীকান্ত ৩য় - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৪. শ্রীকান্ত ৪র্থ - বিচিত্রা পত্রিকায়

৫. পল্লীসমাজ - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৬. নববিধান - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৭. দত্তা -  ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৮. দেবদাস - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৯. দেনাপাওনা - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

১০. পণ্ডিতমশাই -  ভারতবর্ষ পত্রিকায়

১১. নিষ্কৃতি - যমুনা পত্রিকায় (ঘরভাঙ্গা নামে) ।

১২. বৈকুন্ঠের উইল - ভারতবর্ষ পত্রিকায়।

১৩. চন্দ্রনাথ - যমুনা পত্রিকায়

১৪. পরিনীতা - যমুনা পত্রিকায়

১৫. চরিত্রহীন - যমুনা পত্রিকায়

১৬. গৃহদাহ - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

১৭. শেষপ্রশ্ন - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

১৮. পথের দাবি - বঙ্গবাণী পত্রিকায়।

১৯. বিপ্রদাস - বেণু পত্রিকায়। পরে বিচিত্রা পত্রিকায়।

২০. শেষের পরিচয় - ভারতবর্ষ পত্রিকায়।

ছোটগল্পঃ-

১. বিরাজ বৌ - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

২. রামের সুমতি - যমুনা পত্রিকায়

৩. পথ নির্দেশ - যমুনা পত্রিকায়

৪. বিন্দুর ছেলে - যমুনা পত্রিকায়

৫. মেজদিদি - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৬. দর্পচূর্ন - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৭. আধারে আলো - ভারতবর্ষ পত্রিকায়

৮. কাশীনাথ - সাহিত্য পত্রিকায়

৯. আলো ছায়া - যমুনা পত্রিকায়

১০. মন্দির - কুন্তলীন পত্রিকায়

১১. বোঝা - যমুনা পত্রিকায়

১২. অনুপমার প্রেম - সাহিত্য পত্রিকায়

১৩. ছবি - আগমণী পত্রিকায়

১৪. বিলাসী - ভারতী পত্রিকায়

১৫. মামলার ফল - পার্বণী পত্রিকায়

১৬. হরিলক্ষ্মী - বসুমতী পত্রিকায়

১৭. মহেশ - বঙ্গবাণী ও পল্লীশ্রী পত্রিকায়

১৮. অভাগীর স্বর্গ - বঙ্গবাণী পত্রিকায়

১৯. অনুরাধা - ভারতবর্ষ পত্রিকায়।

২০. সতী - বঙ্গবাণী পত্রিকায় ।


♦তথ্যসংগ্রহ -- প্রীতম চক্রবর্তী ♦
(ছাত্র-বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়,
চন্দননগর,হুগলি।)
♦অ্যাডমিন-- Success বাংলা গ্রুপ♦


কীর্তন- বাঙালীর প্রাণ বাংলার গান।।


             💐কীর্তনের মধুর সুরে💐

বাংলা গানের একটি বিশিষ্ট ধারা কীর্তন । সংস্কৃত কীর্তন [কীর্ত্তি (বর্ণনা করা) +অন (ল্যুট), ভাববাচ্য] শব্দের একাধিক অর্থের ভিতরে বিশেষ কয়েকটি অর্থ হলো- গুণকথন, গুণগানকরণ, স্তবন। এই অর্থের সাথে বাংলা গানের কীর্তন-এর ভাবের সবিশেষ মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কীর্তন-এর এই ভাব যেকোনো বিষয়ের গুণকীর্তন নয়। মূলত এর সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে হিন্দু পৌরাণিক দেবতা বিষ্ণু, বিষ্ণুর দ্বাপর যুগের প্রথম অবতার এবং দশম অবতারের অষ্টম অবতার হিসাবে নির্দেশিত শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধার সাথে সম্পর্কিত বিষয়াবলী। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে- কংস নামক এক অত্যাচারী রাজার অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দেবতারা ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলে, ব্রহ্মা সকল দেবতাদের নিয়ে সমুদ্রের ধারে বসে বিষ্ণুর আরাধনা শুরু করেন। বিষ্ণু সে আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর সাদা ও কালো রঙের দুটি চুল দিয়ে বললেন যে,
তিনি বসুদেবের ঔরসে দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করবেন। কৃষ্ণের প্রতীক হলো কালো চুল। তাঁর সহযোগী হলেন বলরাম, তাঁর প্রতীক হলো সাদা চুল। এই সূত্রে
বসুদেবের ঔরসে দেবকীর অষ্টম গর্ভে কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। পক্ষান্তরে রাধাকে কৃষ্ণের প্রণয়িনী হিসাবে দেখা হয়। পদ্মপুরাণ ও ভাগবতের মতে, গোলকধামে কৃষ্ণের বামপাশ থেকে রাধার উৎপত্তি হয়েছিল। জন্মের পর পরই ইনি কৃষ্ণের আরাধনা শুরু করেন। ইনি উৎপত্তিকালে ১৬ বৎসরের নব-যৌবনারূপে কৃষ্ণের সিংহাসনের বামপাশে অবস্থান নেন। এই সময় রাধার লোমকূপ হতে লক্ষকোটি গোপিকা ও কৃষ্ণের লোমকূপ থেকে লক্ষকোটি গোপের জন্ম হয়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের মতে- একবার বিষ্ণু রম্যবনে প্রবেশ করে রমণ ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ফলে কৃষ্ণের ডান অংশ থেকে কৃষ্ণমূর্তি ও বাম অংশ থেকে রাধা মূর্তি প্রকাশ পায়। রাধা কৃষ্ণকে কামাতুর দেখে তাঁর দিকে অগ্রসর হন। রা অর্থ লাভ এবং ধা অর্থ ধাবমান। ইনি অগ্রসর হয়ে কৃষ্ণকে লাভ করেছিলেন বলে- এঁর নাম হয়েছিল রাধা।

ভাবের বিচারে কীর্তন গান হলো- সুর-তাল সহযোগে কৃষ্ণের মধ্য দিয়ে বিষ্ণুর দশম অবতারের গুণকথন বা রাধাকৃষ্ণের পার্থিব লীলার ভিতর দিয়ে ঈশ্বর লীলা অনুধাবনের চেষ্টা। সঙ্গীতের এই বিশেষ ধারার আদি উৎস হিসাবে ধরা হয়, সংস্কৃত ভাষার কবি জয়দেবের রচিত গীতগোবিন্দম্ । এই আখ্যানকাব্যে যে পদগুলো পাওয়া যায়, সেগুলোর সাথে রাগ-তালের নাম পাওয়া যায়। তবে খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ রচিত এই গ্রন্থের পদগুলোর গীতরীতি কেমন ছিল, তা জানা যায় না। এরপর একই ধারায় কীর্তনের সূচনা ঘটেছিল খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতকে বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন -এর মাধ্যমে। এর ভাষাকে মধ্যযুগীয় বাংলা হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এই গ্রন্থটি অনেকাংশই গীতগোবিন্দম্ দ্বারা প্রভাবিত। এরপর বা এর কাছাকাছি সময়ে বিদ্যাপতি, গোবিন্দদাস প্রমূখ পদকর্তারা রাধাকৃষ্ণের পার্থিব লীলাকে উপজীব্য করে পদ রচনা করেছিলেন। কিন্তু এই পদগুলো
গীতগোবিন্দম্ বা শ্রীকৃষ্ণকীর্তন -এর মতো কোনো অখণ্ড আখ্যান-কাব্য হিসাবে গ্রথিত হয় নি। এ সকল পদের সুর হারিয়ে গেছে।
বড়ুচণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন -এর সূত্রে বঙ্গদেশের পরবর্তী বৈষ্ণব কবিরা সৃষ্টি করেছিলেন রাধাকৃষ্ণের লীলাভিত্তিক এক ধরনের গান। কালক্রমে এই গানের সাধারণ নাম হয়ে ছিল কীর্তন। এই গানের চর্চা বৈষ্ণবদের অদ্বৈতাচার্য , যবন হরিদাস এবং শ্রীবাস পণ্ডিতদের প্রতিষ্ঠিত বৈষ্ণব গোষ্ঠীর ভিতরে প্রচলিত ছিল। সে সময় বৈষ্ণবগোষ্ঠী ক্ষুদ্রাকার একটি গোষ্ঠী হিসেবে নদীয়ায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। এঁরা মূলত রাধাকৃষ্ণের লীলা বিষয়ক কীর্তন গান করতেন। ১৫১০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে
শ্রীচৈতন্ য বৈষ্ণবগোষ্ঠীর অন্যতম সদ্স্য হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন। গীতগোবিন্দম্
কীর্তনের মধ্য দিয়ে যে লীলাকীর্তনের ধারা ক্রমে ক্রমে সমৃদ্ধতর হয়ে উঠেছিল।
শ্রীচৈতন্ য বিষ্ণু বা কৃষ্ণের আরাধনার সহজতর উপায় হিসাবে, সুর ও ছন্দে এঁদের নাম ক্রমাগত উচ্চারণের রীতি প্রচলন করেন। এই ধারায় নাম হিসাবে বেছে নেওয়া হলো- হরে (বিষ্ণুর অপর নাম) এবং কৃষ্ণ। এই দুইটি শব্দ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সুর-সহযোগে আবৃত্তি করার মধ্য এই কীর্তন ধারাটি প্রচলিত হয়েছিল। মূলত শ্রীচৈতন্ য সেকালের কীর্তনের আদলে হরে-কৃষ্ণ মন্ত্রটিকে জপমন্ত্রে পরিণত করেছিলেন। এই সময় বৈষ্ণবগোষ্ঠীদের কীর্তনের নাম হয় 'লীলাকীর্তন'। পক্ষান্তরে শ্রীচৈতন্য প্রবর্তিত নবতর কীর্তনের নাম দেওয়া হয়েছিল নামকীর্তন। চৈতন্যদেবের সময় নামকীর্তনের ধাক্কায় নদীয়ায় লীলাকীর্তন অনেকাংশই ম্লান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে নাম-কীর্তনের পাশাপাশি লীলা-কীর্তনের চর্চা অব্যাহত ছিল। আঞ্চলিকতার প্রভাবে ক্রমে ক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লীলা-কীর্তন আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিকশিত হয়ে উঠেছিল। তবে এর সবচেয়ে চর্চা হয়েছে − উত্তরবঙ্গ, বীরভূম, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা সংলগ্ন বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলসহ মেদিনীপুর, নদীয়া এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে। আঞ্চলিকতার প্রভাবে এবং বিভিন্ন কীর্তনীয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন ধারার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে শিষ্য পরম্পরায় এই ধারাগুলো পরিপুষ্ট হয়েছিল।
মঙ্গলকাব্যের কবিরা চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল, মনসামঙ্গল, শীতলামঙ্গলের মাধ্যমে কীর্তনের রস পরিবেশন করতেন বটে, তাতে মূলকীর্তনের ধারা থেকে কিছুটা বিচ্যুত ছিল। মধ্যযুগের শেষে এসে বাংলা গান কীর্তন দ্বারা দুই ভাবে সমৃদ্ধ লাভ করেছে। এর একটি ধারায় মূল কীর্তনীয়ার কীর্তনের আদর্শ ধরে রেখে নতুন নতুন কীর্তন সৃষ্টি করেছেন। অন্য ধারায়, কীর্তনের সুরশৈলী অনুসরণে অন্য ধরনের গান রচনা করেছেন। কীর্তনের আদলে সৃষ্ট গানকে বলা হয় কীর্তনাঙ্গের গান।
বর্তমানে  পুরীধাম ও বাংলাভাষাভাষী অঞ্চলে প্রচলন সর্বাধিক। কীর্তিনীয়াদের মধ্যে প্রাচীনকালে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য, ব্রহ্ম হরিদাস, শ্রী মহাপ্রভু, শ্রীবাস পণ্ডিত সবিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। শ্রীপুরীধামে কীর্তনীয়াগনের মধ্যে স্বরূপ দামোদার, দামোদার পণ্ডিত, শ্রী গোবিন্দ ঘোষ, বল্লভ সেন, ছোট হরিদাস বিখ্যাত। বঙ্গের কীর্তনীয়াদের মধ্যে ময়নাডাল, শ্রী নিবাস আচার্য, সরোত্তম দাস ঠাকুর, শ্রী শ্যামানন্দ, রসিক দাস, গনেশ দাস, নন্দ কিশোর দাস, রাধাশ্যাম দাস, কৃষ্ণ চন্দ্র দে, রাধারানী , রথীন ঘোষ, ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিদাস কর, ব্রজেন সেন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
কীর্তনগানের অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্র ছিল শ্রীখোল ও করতাল ব্যবহৃত হয়। ইংরেজ শাসনমালে ইউরোপীয় যন্ত্র হারমোনিয়ামের ব্যবহার শুরু হয়েছে বাংলা গানের মধ্যুগের শেষের দিকে।
কীর্তন গান পরিবেশনা কীর্তন বাংলা সঙ্গীতের অন্যতম আদি ধারা। সাধারণ লোকের পক্ষে অতি সহজে ঈশ্বর সাধনার একটি উপায় হিসেবে এর উদ্ভব। গানের মাধ্যমে ধর্মচর্চার এ ধারা প্রাচীনকাল থেকেই এদেশে চলে আসছে। সে ধারাবাহিকতায় বাংলার বৈষ্ণবধর্মজাত সঙ্গীতধারার বিকশিত রূপই কীর্তন। এতে সাধারণত ঈশ্বরের গুণ ও লীলা বর্ণিত হয়।

💐💐কীর্তনের প্রকারভেদ:---💐💐

কীর্তন দুপ্রকার নামকীর্তন বা নামসংকীর্তন এবং লীলাকীর্তন বা রসকীর্তন। হরি বা বিষ্ণুকে সম্বোধন করে ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে\’ এ ষোল পদবিশিষ্ট কীর্তনই নামকীর্তন। অবশ্য নামকীর্তনের এ বোল ছাড়া আরও বোল আছে। সেগুলিও নামকীর্তন হিসেবেই প্রচলিত। আর রাধাকৃষ্ণ এবং গোপী-শ্রীকৃষ্ণের কাহিনী অবলম্বনে যে পালাগান তা লীলাকীর্তন। পরবর্তীকালে গৌরাঙ্গ বা শ্রীচৈতন্যের কাহিনী অবলম্বনেও লীলাকীর্তনের প্রচলন হয়। কয়েকটি প্রধান লীলাকীর্তন হলো গোষ্ঠ, মান, মাথুর, নৌকাবিলাস, নিমাই সন্ন্যাস ইত্যাদি। এগুলি পদাবলি কীর্তন নামেও পরিচিত।
জয়দেবের গীতগোবিন্দম্ কীর্তন গানের আদি উৎস। এতে বিভিন্ন রাগ ও তালের উল্লেখ আছে। এর পদগুলি যে সাঙ্গীতিক কাঠামোতে রচিত, পরবর্তীকালের কীর্তনের ধারায় তারই প্রভাব পড়েছে। বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন থেকেই কীর্তন নামের এ সঙ্গীতধারার বিকাশ ঘটে। এ সময়ের কাছাকাছি মিথিলার কবি বিদ্যাপতিও ব্রজবুলিতে কীর্তনাঙ্গের বৈষ্ণবপদ রচনা করেন। পনেরো শতকে চৈতন্যদেবের আবির্ভাবে কীর্তন গানে অসামান্য বেগ সঞ্চারিত হয়। তিনি ছিলেন নামকীর্তনের প্রচারক।
চৈতন্যদেব বুঝতে পেরেছিলেন যে, নারী-পুরুষ ও বয়স নির্বিশেষে সঙ্গীতের আবেদন সর্বাধিক এবং কোনো কঠিন বিষয়ের প্রতি অশিক্ষিত কিংবা স্বল্পশিক্ষিত জনগণকে আকৃষ্ট করার সহজতম উপায় হচ্ছে সঙ্গীত । তাই ঈশ্বর-সাধনার সহজতম পন্থা হিসেবে তিনি বেছে নেন কীর্তনকে। তিনি সকলকে জানান আর কোনো শাস্ত্র নয়, কেবল ‘হরে কৃষ্ণ...’ ইত্যাদি ষোল পদবিশিষ্ট কীর্তন করলেই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে। ঈশ্বর-সাধনার এ সহজ পথের সন্ধান পেয়ে সাধারণ লোকেরা তাঁকে অনুসরণ করে কীর্তন গাইতে শুরু করে। ফলে কীর্তন একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। এভাবেই চৈতন্যদেব কীর্তনের মাধ্যমে তাঁর আদর্শ, অধ্যাত্মচিন্তা এবং তাঁর সাম্যের ধর্ম সারা বাংলায় প্রচার করেন। তিনিই নামকীর্তনের পরিপূর্ণ সাঙ্গীতিক রূপ দান করেন এবং এ গানকে অধ্যাত্মমার্গে উন্নীত করে বাঙালির কাছে জনপ্রিয় করে তোলেন।
চৈতন্যোত্তর যুগে লীলাকীর্তন পাঁচটি ধারায় বিকশিত হয়: গড়ানহাটি, মনোহরশাহী, রেনেটি, মন্দারিণী ও ঝাড়খন্ডী। ধারাগুলি ঘরানা নামেও পরিচিত। উৎপত্তিস্থানের নামানুসারে এসব ধারার নামকরণ করা হয়। ষোল শতকে
রাজশাহী জেলার অন্তর্গত গড়ানহাটি পরগনার পদকর্তা নরোত্তম দাস কর্তৃক গড়ানহাটি ধারা প্রবর্তিত হয়। তিনি প্রথমে গৌরচন্দ্রিকা গেয়ে পরে কীর্তন গাওয়ার রীতি প্রবর্তন করেন। নরোত্তম দাস ধ্রুপদ সঙ্গীতে ব্যুৎপন্ন ছিলেন বলে তাঁর প্রবর্তিত গড়ানহাটি ধারাটি ছিল ধ্রুপদাঙ্গের কীর্তন। বীরভূমের মনোহরশাহী ধারার প্রবর্তক জ্ঞানদাস মনোহর। এতে খেয়াল গানের প্রভাব আছে। বর্ধমানের রেনেটি ধারার প্রবর্তক বিপ্রদাস ঘোষ। এতে টপ্পাঙ্গের প্রভাব আছে। মন্দারণ সরকার নামক জনৈক কীর্তনীয়া প্রবর্তিত ধারার নাম হয় মন্দারিণী এবং ঝাড়খন্ড অঞ্চলে উদ্ভূত ধারার নাম ঝাড়খন্ডী কীর্তন। মন্দারিণী ধারায় ঠুংরির প্রভাব লক্ষণীয়।
পরবর্তীকালে কলকাতায় টপ্পার প্রভাবে কীর্তনের এক নতুন ধারার সৃষ্টি হয়, যা ঢপকীর্তন নামে পরিচিত। নরোত্তম দাস কর্তৃক উদ্ভাবিত কীর্তনের এ ধারায় প্রথমে অনিবন্ধ গীতে আলাপ তথা স্বরালাপের মধ্য দিয়ে গানের শুরু হয়। আলাপের পর ধ্রুপদের গঠনভঙ্গি অনুযায়ী মূল গান অর্থাৎ নিবন্ধ গান গাওয়া হয়। নিবন্ধ গানের চারটি ধাতু উদ্গ্রাহ, মেলাপক, ধ্রুব ও আভোগ-এর গঠনরীতি অনুযায়ী পদাবলি কীর্তনের রূপ নির্মিত হয়েছে। বৈষ্ণব পন্ডিতদের মতে কীর্তনে ৬৪ প্রকার রসের উল্লেখ আছে। সাধারণত দাঁড়িয়ে অথবা নৃত্যসহযোগে কীর্তন পরিবেশিত হয়, তবে বৈঠকি স্বভাবে কীর্তন পরিবেশনেরও উল্লেখ পাওয়া যায়। কীর্তনের গঠন-প্রকৃতিতে রয়েছে কথা, আখর, দোহা, ছুট ও তুক্। এতে আখরের প্রয়োগ খুবই মধুর ও আকর্ষণীয়। কীর্তনের একটি পদ গাওয়ার পর আখর দ্বারা সঙ্গীতের মূল কথাটি ভাব ও রসে ভরিয়ে তোলা হয়। কীর্তন উচ্চাঙ্গসঙ্গীত ধারার গান। এর সুর ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের বিশেষ করে হিন্দুস্থানি সুরের প্রভাব থেকে মুক্ত এবং উদার ভক্তিভাবরসেপূর্ণ।
কীর্তন রাগসঙ্গীত ধারার গান হলেও এতে রাগের ব্যবহার অনেকটা শিথিল, কারণ কীর্তন তার মূল ভাব, রূপ ও রসের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হিন্দুস্থানি রাগ-রাগিণীর কঠিন বিধি-নিষেধ থেকে সব সময় ভিন্ন পথে অগ্রসর হয়েছে। তবে কীর্তন গানের একটি বিষয় লক্ষণীয় হলো যে, তা সাধারণত সম্পূর্ণ জাতিতে অর্থাৎ সাত স্বরে গীত হয়ে থাকে। ষাড়ব এবং ঔড়ব জাতির গান তুলনামূলকভাবে কম। কীর্তনে তোড়ী, কামোদ, শ্রীরাগ, পাহাড়ী, পটমঞ্জরী প্রভৃতি রাগ-রাগিণীর ব্যবহার ছাড়াও প্রাচীন রাগ-রাগিণীর পরিচয়ও পাওয়া যায়।
কীর্তন গানে ভারতীয় প্রাচীন তালের বৈচিত্র্য লক্ষণীয়। দ্রুত, মধ্য ও বিলম্বিত এ তিন লয়েই তাল বাজানো হয়। এর তাল বিভিন্ন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়, যেমন তাল, ফাঁক, কাল, কোশী বা কুশী ও অর্ধতালী। কীর্তনে বিভিন্ন প্রকার তাল ব্যবহূত হয়, যেমন ছোট লোফা, বড় লোফা, রূপক, যতি, তেওট, দোঠুকী, মধ্যম দশকোশী, বড় দশকোশী, দাশপেড়ে, শশীশেখর, বীর বিক্রম ইত্যাদি। বাদ্যযন্ত্র হিসেবে এ গানে আনদ্ধ ও ঘন বিশেষত শ্রীখোল এবং করতালের ব্যবহারই সমধিক।
ইংরেজ কর্তৃক কলকাতা শহরের পত্তনের পূর্ব পর্যন্ত কীর্তন গ্রামবাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে ছিল। অর্থনৈতিক কারণে গ্রামছাড়া মানুষ যখন কলকাতায় ভিড় জমাতে থাকে তখন তাদের সঙ্গে কীর্তন, পাঁচালি ইত্যাদি সঙ্গীতধারা কলকাতার নগরসমাজে প্রবেশ করে। ওই সময় কলকাতায় ঢপকীর্তন বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় সমগ্র বাংলাদেশেই হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে কীর্তনের শ্রোতৃজগৎ ছিল বিস্তৃত। পাকিস্তান আমলেও এদেশে গ্রামে গ্রামে কীর্তন গানের ব্যাপক প্রচলন ছিল। বর্তমানে এর প্রচলন সংকীর্ণ হলেও শ্রোতা আছে। আধুনিক বাংলা গানে অনেক সময় কীর্তনের মৌলিক সুর ও ভাব সংযোজনের প্রবণতাও দেখা যায়।

কীর্তনের সাধারণ শ্রেণি বিভাজন: বিষয় ও বাণীর বিচারে কীর্তনকে মোট দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগ দুটি হল- নামকীর্তন ও লীলা কীর্তন।
নামকীর্তন : শুধু হর ও কৃষ্ণ শব্দের ক্রমাগত উচ্চারণ যখন সুর ও ছন্দে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে নামকীর্তন বলা হয়। অবশ্য কখনো কখনো হরে ও কৃষ্ণ উচ্চারণের পাশাপাশি বিষ্ণুর অন্যান্য অবতারদের বা কৃষ্ণের অন্যান্য নাম বা রাধা নামও উচ্চারণ করা হয়। যেমন- রাধে গোবিন্দ, হরে হরে, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে, রাম রাম হরে হরে ইত্যাদি। এই কীর্তনে মন্দিরা প্রধান বাদ্য-উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কখনো কখনো এর সাথে শ্রীখোলও ব্যবহার করা হয়। এই কীর্তন একা বা একাধিক গায়ক বসে বসে বা ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় পরিবশেন করে থাকেন। চৈতন্যদেবের সময় থেকে কীর্তনের এই ধারাটি চালু হয়েছে।

লীলা-কীর্তন: এর অন্য নাম পদকীর্তন বা পদাবলী কীর্তন। এই কীর্তনে বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরাধার পার্থিব প্রেম-লীলার ভিতর দিয়ে আধ্যাত্মিক দর্শন অনুধাবনের চেষ্টা করা হয়। গ্রন্থনার বিচারে লীলা কীর্তনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ভাগ দুটো হলো- আখ্যান-কীর্তন ও ছুট কীর্তন। রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ আখ্যান-গীতি হিসাবে উপস্থাপনই হলো আখ্যানকীর্তন। অনেকে মনে করেন যে, 'আখ্যান কীর্তন' হলো- আদি কীর্তন। কারণ গীতগোবিন্দম্' -এর সূত্রে এই কীর্তনের সূচনা হয়েছিল। পক্ষান্তরে একটি স্বতন্ত্রভাবকে প্রকাশ করার জন্য পৃথকভাবে যে কীর্তন রচনা করা হয়, তাকে 'ছুট কীর্তন'। এই কীর্তন কোনো আখ্যান-এর অংশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে না। কিন্তু এই জাতীয় কীর্তন যে কোন আখ্যান-কীর্তনের অংশ হিসাবে চালিয়ে দেওয়া দেওয়া যেতে পারে।
লীলা-কীর্তনে একজন মূল গায়েন এবং তোঁহার মিলে শ্রীকৃষ্ণলীলাকে প্রকাশ করেন। এই কীর্তনে নন্দ, যশোমতী, শ্রীকৃষ্ণ, রাধা, ললিতা ইত্যাদি চরিত্রগুলো চরিত্র হিসেবে উপস্থিত থাকেন না। গায়েনের গানের ভিতর দিয়ে এদের কাহিনি, কথোপকথন প্রকাশ করা হয়।
লীলা কীর্তনের ধারা : গীতগোবিন্দম্ -এর সূত্রে লীলাকীর্তনের যে ধারার সূচনা হয়েছিল, চৈতন্যদেবের সময় নামকীর্তনের ধাক্কায় তার অনেকাংশই ম্লান হয়ে গিয়েছিল নদীয়া অঞ্চলে কমে গিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে নাম-কীর্তনের পাশাপাশি লীলা-কীর্তনের চর্চা অব্যাহত ছিল। আঞ্চলিকতার প্রভাবে ক্রমে ক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লীলা-কীর্তন আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিকশিত হয়ে উঠেছিল। তবে এর সবচেয়ে চর্চা হয়েছে- উত্তরবঙ্গ, বীরভূম, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা সংলগ্ন বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চলসহ মেদিনীপুর, নদীয়া এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে। আঞ্চলিকতার প্রভাবে এবং বিভিন্ন কীর্তনীয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন ধারার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে শিষ্য পরম্পরায় এই ধারাগুলো পরিপুষ্ট হয়েছিল। নিতান্তই ছোটো খাটো ধারাগুলো কালক্রমে হারিয়ে গেলেও কিছু ধারা এখনও অল্প-বিস্তর চর্চিত হয়ে থাকে। এর ভিতরে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলো হলো- গড়ানহাটি, মনোহরশাহী, রেনেটি, মন্দারিণী, ঝাড়খণ্ডী এবং ঢপ্।

গড়ানহাটি ধারা : খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে রাজশাহী জেলার গড়েরহাট বা গড়েনহাটি পরগণার পদকর্তা নরোত্তম দাস এই বিশেষ ধরনের কীর্তনের ধারা প্রবর্তন করেন। এই ধারায় মূল লীলা-কীর্তনের পূর্বে 'গৌরচন্দ্রিকা' নামক প্রারম্ভিক গান গাওয়ার রীতি প্রচলন করেন। নরোত্তম দাস ধ্রুপদ গানের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত ছিলেন। এই কারণে তাঁর গানে ধ্রুপদের প্রভাবটা বেশি ছিল। এই ধারার কীর্তনে ধ্রুপদের মতো প্রথমে স্বরালাপ করা হয়ে থাকে। এই আলাপ শেষে নিবদ্ধ গান পরিবেশন করা হয়। ধ্রুপদের মতো এই কীর্তনে চারটি তুক রয়েছে। এগুলোকে বলা হয়- উদ্গ্রাহ, মেলাপক, ধ্রুব ও আভোগ।
মনোহরশাহী : চৈতন্যদের সমসাময়িক কালে বর্ধমান জেলার মনোহরশাহী পরগণার শ্রীখণ্ডে কীর্তনের একটি নতুন ধারার প্রবর্তন করেছিলেন জ্ঞানদাস মনোহর। এই ধারাটি 'মনোহরশাহী' নামে অভিহিত হয়ে থাকে। এই ধারাকে যেসব প্রখ্যাত কীর্তনীয়ারা সমৃদ্ধ করেছিলেন, এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন – নরহরি সরকার, রঘুনন্দন আচার্য, কবি লোচন দাস, বাসুদেব ঘোষ প্রমুখ। এই কীর্তনে খেয়ালের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তবে এর সাথে মিশ্রিত হয়েছিল আঞ্চলিক লোকধারার সুর।

রেনেটি : খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের প্রথম দিকে বর্ধমান জেলার রাণীহাটি পরগণার কীর্তনের এই ধারটি বিকশিত হয়েছিল। এই অঞ্চলের বিপ্রদাস ঘোষ কীর্তনকে টপ্পার মতো করে পরিবেশন করার রীতি প্রচলন করেন। টপ্পা অঙ্গের গায়নরীতি যাঁরা পছন্দ করতেন, তাঁদের কাছে কীর্তনের এই ধারাটি বিশেষভাবে আদৃত ছিল। এই ধারাটি রাণীহাটী ধারা হিসাবে প্রথমদিকে প্রচলিত ছিল। পরবর্তী সময় এই নামটি লোকমুখে ধারাটি
'রেনেটি' নামে পরিচিতি লাভ করে।পরবর্তী সময়ে এই ধারাটিই কলকাতা অঞ্চলে আরো সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল।

মন্দারিণী : উড়িষ্যা ও মেদিনীপুরের মন্দারণ অঞ্চলের চর্চিত কীর্তন ধারাটি 'মন্দারিণী' নামে অভিহিত হয়ে থাকে। বংশীবদন নামক প্রখ্যাত কীর্তনীয়া এই ধারাটির প্রবর্তন করেন। এই গানে ঠুংরির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
ঝাড়খণ্ডী : শ্রীনিবাস আচার্যের শিষ্য গোকুলানন্দ ষোড়শ শতকের শেষে এই কীর্তন ধারার প্রবর্তন করেন। ঝাড়খণ্ডে এই কীর্তনের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধারাটি

ঝাড়খণ্ডী নামে অভিহিত হয়ে থাকে।
ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের লোকায়ত সুরাশ্রয়ী ও বাণীশৈলী দ্বারা এই ধারা পুষ্ট হয়েছিল।
চৈতন্য চরিতামৃত ও চৈতন্য ভাগবত গ্রন্থে এই কীর্তনের নাম পাওয়া যায়। কথিত আছে চৈতন্যদেব এই পথে বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন। এই ধারায় ঝাড়খণ্ড-এর লোকগানের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে এই ধারার কীর্তনের ব্যাপক চল নেই।

ঢপকীর্তন: খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতকে ঢপ্কীর্তন নামে নতুন একটি ধারার সূচনা হয়। এই ধারার সূচনা হয়েছিল কলকাতায়। এই ধারার গুরু হিসাবে মান্য করা হয় রাধামোহন ঠাকুর-কে। নতুন ধারার এই কীর্তনে বৈঠকি-মেজাজে কোনো না কোনো রাগের আশ্রয়ে সুরবিন্যাস করা হতো। গানের মাঝে মাঝে কথকতার ভঙ্গিতে কিছু বাক্য ব্যবহার রীতিও ক্রমে ক্রমে এই কীর্তনের অংশে পরিণত হয়। যেমন- রাধা কহিতেছেন, কৃষ্ণ কহিলেন ইত্যাদি। এছাড়া এই কীর্তনে আঞ্চলিক পালাগানের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। সেকালের কীর্তনীয়রা এই কীর্তনে বাউলের সুরভঙ্গিমা অত্যন্ত কুশলতার সাথে ব্যবহার করতেন। বৈঠকি আসরে ঢপকীর্তনে অনেক সময় খোলকর্তাল, মন্দিরা, হারমোনিয়াম সহযোগে রাগভিত্তিক সম্মিলিত বাদ্য পরিবেশন হতো। কথকতার নাট্যকীয়তা, বাদ্যযন্ত্রের অনুসঙ্গ, শিল্পীদের লীলায়িত নৃত্য ইত্যাদি মিলে ঢপ্কীর্তন গ্রাম বাংলায় যাত্রাগানের মতও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এক সময়। মধুসূদন কিন্নর বা মধুকান (১২২৫-১২৭৫ বঙ্গাব্দে) নামক যশোহর জেলার জনৈক কীর্তনীয় এই কীর্তনকে জনপ্রিয় করে তোলেন। অনেকের ধারণা, ঢপ্কীর্তন নামটি মধুসূদন কানের দেওয়া। পরবর্তী সময়ে এই ধারাকে ঐতিহ্যগত একটি ধারায় পরিণত করেন রূপচাঁদ পক্ষী, লোচন দাস, দ্বারিক দাস, শ্রীরাম দাস, নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়, দাশরথী রায়, কৃষ্ণচন্দ্র দে, পান্নাবাই, পটলবাই, ছাপান্ন ছুরী কমল ঝরিয়া, ললিতা বৈষ্ণবী প্রমুখেরা। ঢপ্কীর্তনে ব্যবহৃত হত লোফা, ঝাঁপ, চঞ্চুপুট, আদ্ধা প্রভৃতি তাল।
কালীকীর্তন: কীর্তনের সুরশৈলীতে কীলী দেবীর বন্দনা করা হয়, একেই কালীকীর্তন বলা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এর অল্পবিস্তর প্রচলন আছে। কালী কীর্তন মূলত শাক্তপদাবলীর গীতিরূপ মাত্র। এতে শক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবীর লীলা মাহাত্ম পায়। এই গানের জন্য দ্বিজরামপ্রসাদ, কমলাকান্ত, নীলকণ্ঠ বিশেষ খ্যতি লাভ করেছিল।
কীর্তনে কলঙ্কভঞ্জন
অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর দিকে 'কলঙ্কভঞ্জন' নামে পালাকীর্তনে পৃথকভাবে একটি অধ্যায় ব্যবহৃত হতো। কৃষ্ণের সাথে প্রণয়, কলহ, মান-অভিমানের সূত্রে কলঙ্ক রটতে পারে, এই কলঙ্কমোচনের দায় গায়েন নিজেই গানে গানে মোচন করতেন। কখনো অতিরিক্ত কাহিনিও যুক্ত করতেন। কলঙ্কভঞ্জনের এই বিষয়টি অনেক সময় সেকালের কৃষ্ণবিষয়ক পালাগান বা কবি গানেও ব্যবহৃত হতো।

💐কীর্তনের রাগ ও রস : কীর্তণে রাগাশ্রয়ী রূপ থাকলেও রাগরূপটি প্রাধান্য পায় না। মূলত কীর্তনে রাগের ছায়া বা কাঠামো পাওয়া যায় মাত্র। ওই কাঠামোর উপর ভিত্তি করে কীর্তনের মূল ভাবকে প্রকাশ করা হয়। কিছু বিশেষ রাগের উপর কীর্তন গান নিবদ্ধ হতে দেখা যায়। এই রাগগুলো হলো- তোড়ি, কামোদ, শ্রীরাগ, পাহাড়ী, পটমঞ্জরী ইত্যাদি। কীর্তনে ভাবের কারণে বিভিন্ন ভাবে প্রায় সকল স্বরই ব্যবহৃত হয়। সেক্ষেত্রে অধিকাংশ রাগের বিচারে কীর্তনের সুর অশুদ্ধ হতে পারে, কিন্তু রসের বিচারে তার মূল্য অনন্যসাধারণ। কীর্তনগুরুরা কীর্তনে ৬৪-রসের কথা বলে থাকেন। এই রস ফুটিয়ে তোলা হয়, সুরে নিবদ্ধ কথায় বা আখরে। কীর্তনের আসরে রস সৃষ্টির জন্য অনেক সময় দোহার-এর দল সঙ্গ দেয়।

💐 কীর্তনের তাল : কীর্তনে প্রকৃতিভেদে বিভিন্ন ধরনের তাল ব্যবহার করা হয়। এই সব তাল-বাদনে শ্রীখোলের ও মন্দিরা ব্যবহার করা হয়। কীর্তনের ভাব বা বিষয়ের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন তাল ব্যবহার করা হয়। যেমন- কাহারবা, দাদরা, একতাল, ছোট লোফা, বড় লোফা, রূপক, যৎ, তেওড়া, দোঠুকী, মধ্যম দশকোশী, দশকোশী, দাশপেড়ে, শশীশেখর, বীরবিক্রম ইত্যাদি।
কীর্তনের অঙ্গ : কীর্তন বিচিত্রভাবে শ্রোতাদের সামনে উপস্থাপিত করা হয়। উপস্থাপন বৈশিষ্ট্য হিসাবে কীর্তনের ভাবগুলোকে অঙ্গ নামে অভিহিত হয়ে থাকে। কীর্তনগুরুরা কীর্তনের অঙ্গকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন। এই ভাগগুলো হলো-
১. কথা : কীর্তনের বাণীকে সাধারণভাবে কথা বলা হয়। কথা হলো লীলা-কীর্তনের ভিত্তি। এই কারণে কথা-কে অনেক সময় মূল কীর্তন বলা হয়।
২. দোঁহা : কীর্তনের এই অঙ্গে কীর্তনের বিষয়কে আবৃত্তি করা হয়। এর ভিতর দিয়ে কীর্তনে বৈচিত্র্যতা প্রকাশ পায়। এবং দীর্ঘ সময় ধরে কীর্তন পরিবেশনের সময়, শ্রোতা একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পায়।
৩. আঁখর : কীর্তনের ভাবকে সহজভাবে সুর-তাল সহযোগে ব্যাখ্যা করার একটি প্রক্রিয়া। মূলত কীর্তনিয়া এই অঙ্গে তাঁর নিজের অভিমত ব্যাখ্যা সহযোগে জানিয়ে দেন। এর ভিতর দিয়ে কীর্তনীয়া তাঁর প্রতিভার প্রকাশ ঘটানোর সুযোগ লাভ করেন।
৪. তুক : কীর্তনের কাব্যগীতি অংশ হলো তুক। এই অঙ্গে অনুপ্রাসযুক্ত, ছন্দোময়, অন্ত্যমিলযুক্ত পদ পরিবেষণ করা হয়।
৫. ছুট : কীর্তনের কোনো পদকে সম্পূর্ণ পরিবেশন না করে, ছোটো ছোটো ছন্দে লীলায়িত ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়। এই অঙ্গটির মধ্য দিয়ে কীর্তনীয়ার ব্যক্তি পারঙ্গমতা বিশেষভাবে ফুটে ওঠে।
এছাড়া একটি ঐচ্ছিক অঙ্গ কোনো কোনো কীর্তনের আসরে ঝুমুর নামক একটি অঙ্গ পরিবেশন করা হয়। এক্ষেত্রে ঝুমুরের চটুল ছন্দে, নেচে নেচে কীর্তন পরিবেশন করা হয়। সাধারণত এই অঙ্গ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কীর্তন পালা শেষ করা হয়।


💐 তথ্যসূত্র :💐

কীর্তন গানের সুরে
 মাসিক পত্রিকা ---'প্রত্যয়', লেখা---অমিয়তোষ ঘোষ

সাহিত্যের ইতিহাস---তপন কুমার চট্টোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথের কীর্তনাঙ্গের গান। স্মৃতি চট্টোপাধ্যায়।

♦আলোচনায় :--অমিয়তোষ ঘোষ♦
(বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষা সাহিত্য বিভাগ)

♦অ্যাডমিন-- success বাংলা♦

নাট্যকারদের প্রথম রচনা

🔺বাংলা সাহিত্যের নাট্যকারদের প্রথম রচনা🔺
-----------------------------------------------------------------------
💐নাট্যকারদের নাম            প্রথম নাটক 💐

1) তারাচরণ শিকদার    
     ' ভদ্রার্জুন '(১৮৫২)           ------প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক।

 2) যোগেশচন্দ্র গুপ্ত            'কীর্তিবিলাস'(১৮৫২  )------প্রথম বিয়োগান্ত নাটক।

3)হরচন্দ্র ঘোষ        
         'ভানুমতী  চিওবিলাস'(১৮৫৩)———Merchant of vanice।

4)কালীপ্রসন্ন  সিংহ      
   'বাবু'(‌১৮৫৪)–––প্রথম প্রহসন রচনা।

5)রামনারায়ণ তর্করত্ন         'কুলীনকুলসর্বস্ব'(১৮৫৪) ––––প্রথম সামাজিক নাটক।

6)মধুসুদন দত্ত              
  'শর্মিষ্ঠা'(১৮৫৯)———প্রথম  পৌরানিক নাটক ।

7)দীনবন্ধু মিত্র            
  ' নীলদর্পন'(১৮৬০)–––প্রথম সামাজিক নাটক।

8)মনোমোহন বসু        
    'রামাভিষেক'(১৮৬৭) বা রামের অধিবাস ও বনবাস প্রথম পৌরানিক নাটক।

9)জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  'কিঞ্চিৎ জলযোগ '(১৮৭২)––প্রথম রচিত প্রহসন ।

10)উপেন্দ্রনাথ দাস
        'শরৎ-সরোজিনী'(১৮৭৪)।

11)রাজকৃষ্ণ রায়  
           'পতিব্রতা '(১৮৭৫)----প্রথম গীতিনাট্য।

12)গিরিশ চন্দ্র ঘোষ  
         'আগমনী' (১৮৭৭)––প্রথম মৌলিক নাটক ।

13)অমৃতলাল বসু        
 'হীরকচূর্ণ'(১৮৭৫)––প্রথম রচনা ।

14)দ্বিজেন্দ্রলাল ঠাকুর
  'একঘরে'(১৮৮৯)––প্রথম রচিত প্রহসন ।

15)রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর    
  'রুদ্রচন্ড'(১৮৮১)––প্রথম গীতিনাট্য ।

16)ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
  'ফুলশয্যা '(১৮৯৪)––প্রথম ঐতিহাসিক নাটক ।

17)মন্মথ রায় ------      
   'বঙ্গের মুসলমান '(১৯২০)।

18)শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-----
  'রক্তকমল'(১৯২৯)।

19)মহেন্দ্র গুপ্ত  ------    
     'দানব কেশরী'(১৯২১)।

20)বিধায়ক ভট্টাচার্য  ------
  'দেহ-যমুনা' যা পরে 'মেঘমুক্ত'(১৯৩৮)।

21)তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ------
  'দুই  পুরুষ '(১৯৩৮)।

22)প্রমথনাথ বিশী -------
    'রথযাত্রা '(১৯২২)।

23)নজরুল ইসলাম   --------
    'আলেয়া'(১৯৩১)।

24)মনোজ বসু   ------      
  'প্লাবন'(১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ।

25)বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায় ------
   'মন্ত্র মুগ্ধ'(১৯৩৮)।

26)দিগিন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়-----
   'অন্তরাল'(১৯৪৫)।

27)তুলসী লাহিড়ী -----    
    'দুঃখীর ইমান'(১৯৪৭)।

28)বিজন ভট্টাচার্য   -------
      ' আগুন '(১৯৪৩)।

29)সলিল সেন    ------
      'নতুন ইহুদি '(১৯৫১)।

30)বাদল সরকার  ------
     'সলিউশন একস্'(১৯৫৮)।

31)উৎপল দত্ত    ------
       'ছায়ানট'(১৯৫৮)।

32)মনোজ মিত্র -------
  ' মৃত্যুর চোখে জল'(১৯৫৯)।

33)তৃপ্তি  মিত্র  ----  
        'বলি' ।


♦তথ্যসংগ্রহ -- সুপর্ণা রক্ষিত♦
♦অ্যাডমিন -- success বাংলা♦
  

একনামের গ্রন্থ

***এক নামে বিভিন্ন সাহিত্যিক সাহিত্য লিখে থাকেন ফলে একটা সমস্যা হয়ে থাকে তাই যতটা পারা যায় গুরুত্বপূর্ন নাম গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করলাম, অনেকদিন আগে এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত পোষ্ট করেছিলাম, আজ তার পূর্ণরূপ, একপর্বে পোষ্টের সমাপ্তি***

 (১) "আমার জীবন"- মীর মোশাররফ হোসেন।
"আমার জীবন":- রাসসুন্দরী দেবী
"আমার জীবন" :- নবীনচন্দ্র সেন

(২)"হাজার বছর ধরে " কবিতা:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"হাজার বছর ধরে" উপন্যাস:- জহির রায়হান

(৩)"দেবী" নাটক:- তুলসী লাহিড়ী
    "দেবী" গল্প:- প্রভাতকুমার মু্খোপাধ্যায়।

(৪)"নীরক্তকরবী" কাব্য:- নীরেন্দ্রনাথ
চক্রবর্তী
" রক্তকরবী" নাটক:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

(৫)"জননী" উপন্যাস:- শওকত ওসমান
 " জননী" উপন্যাস:- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
 " জননী" নাটক:- শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত।

(৬)"সঞ্চয়িতা":- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
   "সঞ্চিতা":- কাজী নজরুল ইসলাম।

(৭)"অরণ্যের অধিকার" উপন্যাস:- মহাশ্বেতা দেবী
" অরণ্যের অধিকার"উপন্যাস:- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

(৮)"রবীন্দ্র-জীবনী":- প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়।
" রবি-জীবনী":- প্রশান্তকুমার পাল।
"রবি-রশ্মি"- চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

(৯)"নষ্টনীড়" গল্প:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 " নষ্টনীড়" কবিতা:- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
 " নষ্টনীড়" কবিতা:- সমর সেন

(১০)"ছাড়পত্র" কাব্য:- সুকান্ত ভট্টাচার্য।
 " ছাড়পত্র" উপন্যাস:- আশাপূর্ণা দেবী।

(১১)"প্রেম ও প্রয়োজন" উপন্যাস:- আশাপূর্ণা দেবী।
" প্রেম ও প্রয়োজন" উপন্যাস:- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

(১২)"গঙ্গা" উপন্যাস:- সমরেশ বসু
   "গঙ্গা একটি নদীর নাম" উপন্যাস:- শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়।

(১৩)"তিস্তা পারের বৃত্তান্ত"উপন্যাস:- দেবেশ রায়।
"নদীর নাম তিস্তা"উপন্যাস:- শামসুল হক

(১৪)"কুমুদ কাব্যমঞ্জুষা":- কুমুদরঞ্জন মল্লিক
"কাব্যমঞ্জুষা":- মোহিতলাল মজুমদার।

(১৫)"প্রতিধ্বনি" গল্পগ্রন্থ:-তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
" প্রতিধ্বনি ফেরে" উপন্যাস:- প্রেমেন্দ্র মিত্র।

(১৬)"চতুর্দশপদী কবিতাবলী":- মধুসূদন দত্ত।
"চতুর্দশপদী কবিতামালা":- রামদাস

(১৭)'তিনসঙ্গী" গল্পগ্রন্থ:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"তিনশূন্য" গল্পগ্রন্থ:- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

(১৮)"মহানগর" গল্পগ্রন্থ :- প্রেমেন্দ্র মিত্র।
"মহানগরী"উপন্যাস:- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

(১৯)"চোরাবালি" কাব্য:- বিষ্ণু দে
  "চোরাবালি" উপন্যাস:- নরেন্দ্রনাথ মিত্র।

(২০)"কাব্যালঙ্কার" অলংকার শাস্ত্র:- রুদ্রট
" কাব্যালঙ্কার" কাব্যতত্ত্ব:- ভামহ

(২১)"সিরাজদ্দৌল্লা" নাটক:- গিরিশ ঘোষ।
" সিরাজদ্দৌল্লা" নাটক:- শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত।

(২২)"একরাত্রি" ছোটগল্প:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
"একরাত্রি" গল্পগ্রন্থ:- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।

(২৩)"নতুন কবিতা" কাব্য:- প্রেমেন্দ্র মিত্র।
"নতুন কবিতা" কাব্য:- অমিয় চক্রবর্তী।
"নতুন পাতা" কাব্য:- বুদ্ধদেব বসু

(২৪)"মেমসাহেব":- গল্পগ্রন্থ:- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
"মেমসাহেব "উপন্যাস:- নিমাই ভট্টাচার্য।

(২৫)"পথের দাবী" উপন্যাস:- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
"মায়ের দাবী" নাটক:- তুলসী লাহিড়ী।

(২৬)"গল্পস্বল্প" গল্পগ্রন্থ:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"গল্পকল্প" গল্পগ্রন্থ :- রাজশেখর বসু।

(২৭)"আরোগ্য" উপন্যাস:- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
"আরোগ্য" কাব্য:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"আরোগ্য নিকেতন" উপন্যাস:- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

(২৮)"বিচারক" গল্প:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"বিচারক" উপন্যাস:- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

(২৯)"পদচিহ্ন" উপন্যাস:- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
"চিহ্ন" উপন্যাস:- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

(৩০)"সীতার বনবাস" গ্রন্থ:- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
"সীতার বনবাস" নাটক:- গিরিশ ঘোষ।

(৩১)"রূপনারায়নের কূলে" কবিতা:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
"রূপনারায়নের কূলে" আত্মজীবনী:- গোপাল হালদার।

(৩২)"পথিক" নাটক:- তুলসী লাহিড়ী
  "পথিক" উপন্যাস:- গোকুলচন্দ্র নাগ।

(৩৩)"ছায়ানট" কাব্য:- নজরুল ইসলাম
"ছায়ানট" নাটক:- উৎপল দত্ত

(৩৪)"ষোড়শী"(দেনাপাওনার নাট্যরূপ):- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
"ষোড়শী" গল্পগ্রন্থ:- প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়।

(৩৫)"অসংলগ্ন" উপন্যাস:- বনফুল
   "অসংলগ্ন" আলোচনা গ্রন্থ:- প্রেমেন্দ্র মিত্র।

(৩৬)" গুপ্তধন" গল্প:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"গুপ্তধন" গল্প:- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
"গুপ্তধন" বেতার নাটক:- মন্মথ রায়।

(৩৭)"চোখ গেল" গল্প:- বনফুল
  "চোখ গেল" গল্পসংকলন:- সুবোধ ঘোষ।

(৩৮)"ত্রিযামা" কাব্য:- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত।
"ত্রিযামা" উপন্যাস:- সুবোধ ঘোষ।

(৩৯)"ফেল"গল্প:- কবিগুরু
 "পাস- ফেল" গল্প:- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

(৪০)"ছন্দ- চতুর্দশী":- মোহিতলাল মজুমদার
"ছন্দ-সরস্বতী"- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
"ছন্দের বারান্দা":- শঙ্খ ঘোষ।

(৪১)"সেকাল আর একাল" :- রাজনারায়ণ বসু
"সেকাল থেকে একাল':- বিষ্ণু দে।
(৪২)"আত্মজীবনী:- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
"আত্মজীবনী":-প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।

(৪৩)"দুই পথিক" উপন্যাস:- বনফুল
   "এসো পথিক"উপন্যাস:- সুবোধ ঘোষ।

(৪৪)"অপরাজিত" উপন্যাস:- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
"অপরাজিতা" নাটক:- মন্মথ রায়।

(৪৪)"পঞ্চভূত" গ্রন্থ:- কবিগুরু
  "পঞ্চভূত" নাটক:- মন্মথ রায়।

(৪৫)"লালন ফকির" নাটক:- মন্মথ রায়
"লালন ফকির" নাটক:- কল্যান মিত্র।

(৪৬)"পথে- বিপথে" নাটক:- মন্মথ রায়
  "পথে প্রবাসে" ভ্রমনকাহিনী:- অন্নদাশঙ্কর রায়।

(৪৭)" রাত্রি" কবিতা:- জীবনানন্দ দাশ
"রাত্রি" কবিতা:- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
"রাত্রি" কবিতা:- অমিয় চক্রবর্তী
"রাত্রি" উপন্যাস:- বনফুল।

(৪৮)"অর্কেস্ট্রা" নাটক:- মন্মথ রায়।
  "অর্কেস্ট্রা" কাব্য:- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

(৪৯)" অশোক" নাটক:- গিরিশ ঘোষ
   "অশোক" নাটক:- মন্মথ রায়।

(৫০)"কষ্ঠিপাথর" উপন্যাস:- বনফুল
   "কষ্ঠিপাথর" নাটক:- মন্মথ রায়।

(৫১)"আগুন" নাটক:- বিজন ভট্টাচার্য
"আগুন" উপন্যাস:- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

(৫২)"কল্লোল যুগ" :- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
"কল্লোলের কাল":- জীবেন্দ্র সিংহ রায়।

(৫৩)"ভীষ্ম" নাটক:- ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ।
  "ভীষ্ম" নাটক:- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।

(৫৪)"কালমৃগয়া" কাব্য:- কবিগুরু
    "কালমৃগয়া" গীতিনাট্য নাটক:- কবিগুরু।

(৫৫)"শিক্ষার সংকট":- অন্নদাশঙ্কর রায়
"শিক্ষার ভবিষ্যৎ":- অন্নদাশঙ্কর রায়
"শিক্ষা":- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

(৫৬)"সে" গল্পগ্রন্থ:- কবিগুরু
     " সে ও আমি" উপন্যাস:- বনফুল

(৫৭)"ত্রিপত্র" কাব্য:- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
"ত্রিবর্ণ" উপন্যাস:- বনফুল।

(৫৮)"উদয়াস্ত" গল্প:- রমাপদ চৌধুরী
     "উদয়- অস্ত" উপন্যাস:- বনফুল।

**পোষ্টটি কাজে লাগলে আমার সার্থকতা**

          **সাকসেস বাংলা**
 **সকলের তরে সকলে আমরা**


★তথ্যসংগ্রহে-- সুব্রত সরকার★
(গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়,দক্ষিন দিনাজপুর)
★অ্যাডমিন-- সাকসেস বাংলা★


বিজন ভট্টাচার্যের নাটকের প্রথম অভিনয়

¤ বিজন ভট্টাচার্যের নাটকের প্রথম অভিনয় ¤
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

  ® পূর্ণাঙ্গ নাটক ®                 © প্রথম অভিনয় ©
~~~~~~~~~~~               ~~~~~~~~~~~~
১) 'নবান্ন' (১৯৪৪)                           'শ্রীরঙ্গম'
                                              (২৪ অক্টোবর, ১৯৪৪)

২) 'অবরোধ' (১৯৪৭)                    অনভিনীত

৩) 'জতুগৃহ' (১৯৫২)                      অনভিনীত

৪) 'গোত্রান্তর' (১৯৬০)                   'নিউএম্পায়ার'
                                                (১৬ আগস্ট, ১৯৫৯)
                                                                 
৫) 'মরাচাঁদ' (১৯৬০)                       'নিউএম্পায়ার'
                                                (১৬ আগস্ট, ১৯৫৯)
                                                                   
৬) 'ছায়াপথ' (১৯৬১)                   'মিনার্ভা থিয়েটার'
                                              (১১ অক্টোবর, ১৯৬১)
                                                                   
৭) 'মাস্টারমশাই' (১৯৬১)             'পাকসার্কাস'
                                      (রবীন্দ্র শতবার্ষিকী, ১৯৬১)

৮) 'দেবীগর্জন' (১৯৬৬)           'ওয়েলিংটন স্কোয়ার'
                                            (২১ ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৬)

৯)  'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৬৬)                     'রবীন্দ্রসদন'
                                             (১২ জানুয়ারি, ১৯৭৫)

১০) 'ধর্মগোলা' (১৯৬৭)                 ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে
                                                          অভিনীত

১১) 'গর্ভবতী জননী' (১৯৬৯)             'মুক্তাঙ্গন'
                                                       (মে, ১৯৬৯)

১২) 'আজ বসন্ত' (১৯৭০)                 'রবীন্দ্রসদন'
                                                          (১৯৭৫)

১৩) 'সোনার বাংলা' (১৯৭১)            'ইডেন গার্ডেন'
                                                            (১৯৭১)

১৪) 'গুপ্তধন' (১৯৭২)                        অনভিনীত

১৫) 'চলো সাগরে' (১৯৭২)              'তপন থিয়েটার'
                                                     (৩০ মার্চ, ১৯৭৭)

   ® একাঙ্ক নাটক ®                © প্রথম অভিনয় ©
 ~~~~~~~~~~~~            ~~~~~~~~~~~~
১) 'আগুন' (১৯৪৩)                         'নাট্যভারতী'
                                                         (১৯৪৩)

২) 'জবানবন্দী' (১৯৪৩)                'স্টার থিয়েটার'
                                                (৩ জানুয়ারি, ১৯৪৬)

৩) 'মরাচাঁদ' (১৯৪৬)                  'মহম্মদ আলি পার্ক'
                                                        (১৯৪৬)

৪) 'কলঙ্ক' (১৯৫০)              'ই. বি. আর ইনস্টিটিউট'
                                                        (১৯৫১)

৫) 'জননেতা' (১৯৫০)                     অনভিনীত

৬) 'সাগ্নিক' (১৯৬৮)                        অনভিনীত

৭) 'হাঁসখালির হাঁস' (১৯৭৭)       'ত্রিপুরা হিতসাধিনী
                                                     সভা' (১৯৮৫)

    ® গীতিনাট্য ®                  © প্রথম অভিনয় ©
  ~~~~~~~~~~              ~~~~~~~~~~~~
১) 'জীয়নকন্যা' (১৯৪৫)                   'রঙ্গমহল'
                                                         (১৯৪৭)

  ® রূপকনাট্য ®                  © প্রথম অভিনয় ©
 ~~~~~~~~~~              ~~~~~~~~~~~~
১) 'স্বর্ণকুম্ভ' (১৯৭০)                     অনভিনীত



★আলোচক : সৌম্য মাইতি 
(ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, কিংসটন কলেজ, মেছেদা, পূর্ব মেদিনীপুর)

★ মডারেটর -- সাকসেস বাংলা★



কয়েকটি উপন্যাস ও তার চরিত্র


           ♦কয়েকটি উপন্যাস ও তার চরিত্র♦

        ★:বঙ্কিম উপন্যাস চরিত্র:★

(১)"দুর্গেশনন্দিনী":-- বিমলা, আয়েসা, তিলোত্তমা,জগৎসিংহ, ওসমান।

(২)"কপালকুণ্ডলা":- কপালকুন্ডলা, মতিবিবি, নবকুমার, কাপালিক, শ্যামা।

(৩)"মৃণালিণী":- হেমচন্দ্র, মৃণালিনী,পশুপতি, মনোরমা,গিরীজা।

(৪)"বিষবৃক্ষ":- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, সূর্যমুখী, হীরা, কমলমনি।

(৫)"যুগলাঙ্গুরীয়":- হিরন্ময়ী, পুরন্দর।

(৬)"চন্দ্রশেখর":- চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবলিনী, লরেন্স ফস্টর।

(৭)"ইন্দিরা":- ইন্দিরা,সুভাসিনী।

(৮)"রজনী":- রজনী, অমরনাথ, শচীন্দ্রনাথ, লবঙ্গলতা।

(৯)"কৃষ্ণকান্তের উইল":- গোবিন্দলাল, ভ্রমর, রোহিনী, মাধবীনাথ

(১০)" রাজসিংহ":- চঞ্চলকুমারী, নির্মলকুমারী, মোবারক, রাজসিংহ, মানিকলাল।

(১১)" আনন্দমঠ":- ভবানন্দ, শান্তা, কল্যানী, জীবানন্দ,মহেন্দ্র, সত্যানন্দ।

(১২)"দেবী চৌধুরানী":- ভবানী পাঠক, রঙ্গরাজ, ব্রজেশ্বর প্রফুল্ল।

(১৩)"সীতারাম":- সীতারাম, শ্রী, নন্দা রমা জয়ন্তী।



         ★রবীন্দ্র উপন্যাসের চরিত্র★

(১) বউ ঠাকুরাণীর হাট:-  বিভা, প্রতাপাদিত্য, উদয়াদিত্য, বসন্তরায়।

(২)রাজর্ষি:- হাসি, জয়সিংহ, রঘুপতি, গোবিন্দমানিক্য, তাতা,গুনবতী, নক্ষত্ররায়।

(৩)চোখের বালি:- বিনোদিনী, আশালতা, মহেন্দ্র, রাজলক্ষ্মী, বিহারী, অন্নপূর্ণা।

(৪)নৌকাডুবি:- রমেশ, কমলা, হেমনলিনী, নলিনাক্ষ,  সুশীলা।

(৫)গোরা:- সুচরিতা, ললিতা, গোরা, আনন্দময়ী, বিনয়, হারাণ,পরেশবাবু,কৃষ্ণদয়ালবাবু।

(৬)ঘরে বাইরে:-  বিমলা, নিখিলেষ, সন্দীপ,অমূল্য,চন্দ্রনাথবাবু,মেজরানী

(৭)চতুরঙ্গ:- দামিনী,ননীবালা, শচীশ, শ্রীবিলাস, লীলানন্দ স্বামী, জেঠামশায়।

(৮)যোগাযোগ:- মধুসূদন, কুমুদিনী, বিপ্রদাস,অবিনাশ ঘোষাল, আনন্দ ঘোষাল।

(৯)শেষের কবিতা:- লাবণ্য, অমিত, শোভনলাল, কেটী মিত্র(কেতকী মিত্র)।

(১০) দুই বোন:-শর্মিলা, উর্মিমালা, নীরদ, শশাঙ্ক।


(১১) মালঞ্চ:-  নীরজা, অাদিত্য, সরলা।

(১২)চার অধ্যায়:--এলা, অতীন্দ্র, ইন্দ্রনাথ, কানাইগুপ্ত।


         ★শরৎ উপন্যাস চরিত্র★


(১)"শ্রীকান্ত"- শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি,নিরুদিদি, বজ্রানন্দ, অভয়া, নতুনদা, কমললতা।

(২) "চরিত্রহীন":- সাবিত্রী, সতীশ, কিরণময়ী,সুরবালা,উপেন্দ্র, সতী, দিবাকর,সরোজনী।

(৩) "দেবদাস":- দেবদাস, পারো, চন্দ্রমুখী, চুনিলাল।

(৪)"পল্লীসমাজ":- রমা, রমেশ,বেণীঘোষাল,বিশ্বেশ্বরী।

(৫)"দত্তা":- বিজয়,নরেন, রাসবিহারী,জীবানন্দ, ষোড়শী, হৈম।

(৬)"শেষপ্রশ্ন":- কমল, অজিত, আশুবাবু।

(৭)"পথের দাবী":- সব্যসাচী, ভারতী, অপূর্ব।

(৮)"গৃহদাহ":- মহিম, অচলা, সুরেশ, মৃণাল।

(৯)"বড়দিদি":- মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ।

(১০)" পরিণীতা":- শেখর, ললিতা।

(১১)" পন্ডিতমশায়":- বৃন্দাবন, কুসুম।

(১২) "শেষের পরিচয়":- সবিতা, রমণীবাবু,বিমলবাবু, ব্রজবাবু।

(১৩) "বিপ্রদাস":- বিপ্রদাস, দ্বিজদাস



         ★তারাশঙ্করেরর উপন্যাসের কিছু চরিত্র★

" হাঁসুলিবাকের উপকথা":-
বনোয়ারী,করালী,বাবাঠাকুর, কালারুদ্র, সুচাঁদ।

"কালিন্দী":- অহীন্দ্র,বিমল,ইন্দ্র,উমা,মহীন্দ্র, রামেশ্বর, সুনীতি,সারি।

"রাইকমল":- কমলিনী,রঞ্জন।

"কবি":- নিতাই কবিয়াল।

"আগুন":- চন্দ্রনাথ, হীরু।

"দুইপুরুষ":- নুটুবিহারী।

"ধাত্রীদেবতা":- শিবনাথ, পিসিমা,গৌরি, সুশীল,জ্যোতির্ময়ী, শৈলজা।

"গনদেবতা":- দেবুপন্ডিত,ছিরুলাল, পদ্মা,শ্রীহরিপাল, দুর্গা।

"রাধা":- মাধবানন্দ,কৃষ্ণাদাসী।

"আরোগ্য নিকেতন":- জীবনমশায়,প্রদ্যোৎ,বিপিনবাবু, দাঁতুঘোষাল,শশাঙ্ক, মতিকামারের মা,বনবিহারী, মঞ্জু।

"পঞ্চগ্রাম":- দেবুঘোষ, আমিন, সুধীর,বিলু, দ্বারকা চৌধুরী।

"সপ্তপদী":-  কৃষ্ণেন্দু(কালাচাঁদ গুপ্ত), রিনা ব্রাউন, জন ক্লেটন।

"গন্নাবেগম":-- আকবর, আদিল, গন্নাবেগম।

"নাগিনী কন্যার নাগিনী":- শবলা,পিঙ্গলা,নাগুঠাকুর।

      *বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়*

(১)"পথের পাঁচালী":- দুর্গা, সর্বজয়া,অপু, হরিহর,ইন্দিরা ঠাকরুণ।

(২)"অপরাজিত":- অপূর্ব রায়,সর্বজয়া, অপর্ণা, কাজল।

(৩)"আরণ্যক":- সত্যচরণ,পাটোয়ারী,রাজু পাঁড়ে,যুগলপ্রসাদ,বনোয়ারী, ভানুমতী।

(৪)"চাঁদের পাহাড়":- শঙ্কর,আলভারেজ,ডিয়েগো,তিরুমল।

(৫)"আদর্শ হিন্দু হোটেল":- হাজারী,বেচু চক্কত্তি,পদ্মা,ঠাকুর,কুসুম,অতসী।

(৬)"দৃষ্টিপ্রদীপ":- জিতু,মালতী,জ্যাঠামশাই, সীতা,জ্যাঠাইমা।

(৭)"ইছামতী":- ভবানী বাঁড়ুজ্যে,রাজারাম রায়,তিলু, নীলু,গয়ামেম, রামকানাই কবিরাজ।

(৮)"দেবযান"- যতীন, পুষ্প, আশা।

                ★রমেশচন্দ্র দত্ত★

(১)"বঙ্গবিজেতা":-  টোডরমল্ল, ইন্দ্রনাথ,নগেন্দ্রনাথ,বিমলা,সতীশচন্দ্র,সরলা,অমলা, মহাশ্বেতা,উপেন্দ্রনাথ, কমলা।

(২)"মাধবীকঙ্কন":- নরেন্দ্রনাথ, শ্রীশ,হেমলতা,সুজা,শাহজাহান, জোলেখা।

(৩)"মহারাষ্ট্র জীবনপ্রভাত":- রঘুনাথ, চন্দ্ররাও,জীজাবাঈ, শিবাজী।

(৪)"রাজপুত জীবনসন্ধ্যা":- প্রতাপসিংহ, রাণাসিংহ,তেজসিংহ,দুর্জয়সিংহ, অমল।

(৫)"সংসার":- বিন্দু,উমা, তারা,হেমচন্দ্র।

(৬)"সমাজ":- সুশীলা, দেবীপ্রসাদ,তারিণী মল্লিক,কামিনীকান্ত মুখোপাধ্যায়।


★তথ্যসংগ্রহ--সুব্রত সরকার ★
( বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়)
★অ্যাডমিন সাকসেস বাংলা★
    

উল্লেখযোগ্য কিছু শিশু সাহিত্য ও সাহিত্যিক


♦ উল্লেখযোগ্য কিছু শিশু সাহিত্য ও সাহিত্যিক♦

(১)অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর:- "ভূত্পেতনীর দেশে","বুড়ো আংলা", "ক্ষীরের পুতুল"।

(২)অন্নদাশঙ্কর রায়:- "উড়কি ধানের মুড়কি", "রাঙা ধানের খই", "ডালিম গাছের মৌ"।

(৩)উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী :- "টুনটুনির বই",  "ছেলেদের রামায়ণ", "মহাভারত",  "সেকালের কথা", গুপীগাইন বাঘা বাইন"।

(৪) কাজী নজরুল ইসলাম:- " পুতুলের বিয়ে",  "ঝিলিমিলি"।

(৫)দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:- "ঠাকুরমার ঝুলি",  "আমাল বই", "রজতজয়ন্তী ",  "ফার্স্ট বয়,লাস্ট বয়"।

(৬)লীলা মজুমদার :- " গুপীর গুপ্তখাতা", "দিন- দুপুরে", "পদীপিসির বর্মীবাক্স" "হলদে পাখির পালক"।

(৭)শিবরাম চক্রবর্তী:- "উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে", "বাড়ি থেকে পালিয়ে", "হর্ষবর্ধন গোবর্ধন"।

(৮)রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:- "সহজপাঠ", "চিত্র বিচিত্র", "বীরপপুরুষ",  "সে",  "ছড়ার ছবি", " ছুটির ছড়া", "মুকুট",  " নদী"।

(৯)অখিলবন্ধু নিয়োগী :- "উড়ন্ত চাকি", " কিশোর অভিযান",  "অশরীরী আত্মা"।

(১০)শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়:- " মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি",  " গোঁসাইবাগানের ভূত" "হেতমগড়ের গুপ্তধন"।

   

(১১)গজেন্দ্রকুমার মিত্র:- "মহাজীবনের মনিমুক্ত", "ঈশপের কাহিনী"।

(১২)জ্যোতিভূষণ চাকী:- "উলকূট ঢুলকুট", "বই তো পড়ো,টই পড়ো কি?"

(১৩)প্রেমেন্দ্র মিত্র:- "ঘনাদার গল্প", "কুমির কুমির", "পরাশর", "জোনাকিরা", "পিঁপড়ে পুরাণ"।

(১৪)নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়:- "চারমূর্তি",
"চারমূর্তির অভিযান", "টেনিদা ও টেনিদার ভূতের কামড়া", "খুশির হাওয়া"।

(১৫)বিমল মিত্র:- "টক-ঝাল-মিষ্টি",  "মৃত্যুহীন প্রাণ", "ইয়ালিং"।

(১৬)বিমল কর:- "ঝিলের ধারে একদিন", " শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা"।

(১৭)বুদ্ধদেব বসু :- "অপরূপ রূপকথা", "এলোমেলো", "ছায়া কালো কালো", "বারো মাসের ছড়া"।

(১৮)সুকুমার রায়:- "আবোল তাবোল",
"পাগলা দাশু", "হযবরল", "ঝালামালা"

(১৯)সুনির্মল বসু:- "আলপনা", "গুজবের জন্ম", "তেপান্তরের মাঠে", "বেড়ে মজা", "সব ভুতুড়ে", "ঝিলমিল"।

(২০)সত্যজিৎ রায়:-" সূজন হরবোলা", "বাদশাহী আংটি", "প্রোফেসর শঙ্কু", "যখন ছোট ছিলাম"।


(২১)সমরেশ বসু:- " জঙ্গল মহলে", "গোগোল", "চিক্কুস নাগাল্যান্ডে"

(২২)শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় :-" ভূমিকম্পের পটভূমি", "ব্যোমকেশ অমনিবাস"

(২৩)খগেন্দ্রনাথ মিত্র:- "আফ্রিকার জঙ্গলে", "ভোম্বল সর্দার", "বাগদি ডাকাত", "ঝিলে জঙ্গলে"।

(২৪)সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় :- "রুকু সুকু", "ইতিপলাশ", "অজ্ঞাতবাস"

(২৫)যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত:- "বাংলার ডাকাত", "অজানার দেশে"," নীলনদের দেশে"।

(২৬)যোগীন্দ্রনাথ সরকার:- " হাসিখেলা", " হাসিরাশি", "ছবি ও খেলা", খুকুমণির ছড়া"।

(২৭)পূর্ণেন্দু পত্রী:- " এক যে ছিল কলকাতা", "ম্যাকের বাবা খ্যাক", " ইল্লিবিল্লি"।

(২৮)বিমল ঘোষ:- " চেঙা-বেঙা", " ঝড়ের পালক", "তুতুল-পুতুল", "মৌমাছির চিঠি", "টুনটুনি আর ঝুনঝুনি"।

(২৯)বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় :- " আম আঁটির ভেপু", " চাঁদের পাহাড়", "তালনবমী",  " অনুবর্তন", " মরণের ডঙ্কা বাজে", " হীরামাণিক জ্বলে", মিসমিদের কবচ"

(৩০)বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়:- " পোনুর চিঠি", "হেসে যাও", " দুষ্টু লক্ষীদের গল্প"।

(৩১)মতি নন্দী:- "স্ট্রাইকার", স্টপআউট", " স্টপার",  " কোনি"।

(৩২)শঙ্খ ঘোষ:- "সকালবেলার আলো", " বিদ্যাসাগর", "ছোট্ট একটা স্কুল", " সুপুরি বনের সারি", " আমন ধানের ছড়া"।

(৩৩)আশাপূর্ণা দেবী :- " শোনো শোনো গল্প শোনো", " সেইসব গল্প" " ডাকাতের কবলে আমি", " সাজবদল", " রহস্যের সন্ধানে", " কাঁচ পুঁতি হীরে।

★তথ্যসংগ্রহ--সুব্রত সরকার ★

( বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়)

★অ্যাডমিন সাকসেস বাংলা★



    

প্রীতম চক্রবর্তী স্পেশাল পোস্ট

 অভিনেতা রবীন্দ্রনাথ   /   রবীন্দ্র অভিনয়ের তালিকা ★
--------------------------------------------------------------------------------

১. "এমন কর্ম আর করবো না" - অলীকবাবু চরিত্রে ১৮৭৭.

২. "মানময়ী" - মদন চরিত্রে ১৮৮০

৩. "বিবাহ উৎসব" - জনৈক নারী চরিত্রে

৪. "বাল্মীকি-প্রতিভা" - বাল্মীকি চরিত্রে ১৮৮১

৫. "কালমৃগয়া" - অন্ধমুনির চরিত্রে ১৮৮২

৬. "রাজা ও রানী" - বিক্রমদেব চরিত্রে ১৮৯০

৭. "বিসর্জন" - রঘুপতির চরিত্রে ১৮৯০

৮. "বৈকুন্ঠের খাতা" - কেদার চরিত্রে ১৯০৩

৯. "রাজা" - ঠাকুরদা চরিত্রে ১৯১১

১০. "ডাকঘর" - ঠাকুরদা চরিত্রে ১৯১১

১১. "অচলায়তন" - আচার্য অদীনপুণ্য চরিত্রে ১৯১৪

১২. "ফাল্গুনী" - অন্ধ বাউল চরিত্রে ১৯১৫

১৩. "বিসর্জন" - জয়সিংহ চরিত্রে ১৯২৩

১৪. "নটীর পূজা" - উপালি চরিত্রে ১৯২৬

১৫. "তপতী" - বিক্রমদেব চরিত্রে ১৯২৯

১৬. "শারদোৎসব" - সন্ন্যাসী চরিত্রে ১৯৩৫

১৭. " অরূপরতন" - ঠাকুরদা চরিত্রে ১৯৩৫

১৮. "অরূপরতন" - রাজা চরিত্রে ১৯৩৫
-----------------------------------------------

★বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "আরণ্যক" - প্রাদেশিক ভাষায় ★
---------------------------------------------------

১. "বনচরী" - অনুবাদক  "লক্ষ্মীনারায়ণ মহান্তি"  ১৯৬৩  (ওড়িয়া ভাষা)।



২. "আরণ্যক" - অনুবাদক  "চন্দ্রকান্ত মেহতা"  ১৯৬১ (গুজরাটি ভাষা)।


৩. "আরণ্যক" - অনুবাদক "শঙ্কর লালাজী শাস্ত্রী" ১৯৬৪ (মারাঠি ভাষা) ।


৪. "বনবাসী" - অনুবাদক "সুরমপুরী সীতারাম" ১৯৬১ (তেলেগু ভাষা)।


৫. "আরণ্যক" - অনুবাদক "পি বাসুদেব কুরুপ" ১৯৫৮ (মালয়ালম ভাষা)।


৬. "বনবাসী" - অনুবাদক "অমর ভারতী" ১৯৫৭ (পাঞ্জাবি ভাষায়)

৭. "আরণ্যক" - অনুবাদক "হংস কুমার তেওয়ারি" ১৯৫৭ (হিন্দি ভাষা) ।


★তারাশঙ্করের উপন্যাসের নাম / নামান্তর ★
------------------------------------------------------------------------
১. চৈতালি ঘূর্ণি (১৯৩১) > "শ্মশানের পথে"।
 
২. নীলকন্ঠ (১৯৩৩) >  "যোগ-বিয়োগ"। উপাসনা পত্রিকা ।

৩. প্রেম ও প্রয়োজন (১৯৩৬) > "বেসাতী"। উপাসনা পত্রিকা।

৪. আগুন (১৯৩৭) >  " কালপুরুষ " । দেশ পত্রিকা।

৫. ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯)  >  "জমিদারের মেয়ে" । বঙ্গশ্রী পত্রিকা।

৬. কালিন্দী (১৯৪০)  >  "ফল্গু"  । পরিচয় পত্রিকা।

৭. গণদেবতা (১৯৪৩)  >  "চন্ডীমন্ডপ"  । ভারতবর্ষ পত্রিকা।

৮. নাগিনী কন্যার কাহিনী (১৯৫৩)  > "শবলার কথা, পিঙ্গলার কথা"। সত্যযুগ পত্রিকা।

৯. সন্দীপন পাঠশালা (১৯৪৬)  >  "উদয়াস্ত" । কৃষক পত্রিকা।

১০. আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩)  >  "সঞ্জীবন ফার্মাসী" । শারদীয়া আনন্দ বাজার পত্রিকা।

১১. চাপাডাঙার বৌ  ( ১৯৫৫)  >  "বড় বৌ" । উপাসনা পত্রিকা।

১২. যোগভ্রষ্ট  (১৯৬০)  >  "যবণিকা" । উল্টোরথ পত্রিকা।

১৩. কান্না (১৯৬৩)  >  "অভিষেক" । নবকল্লোল পত্রিকা।

১৪. কালবৈশাখী ( ১৯৬৩)  >  "ঝড় ও ঝরাপাতা" ।

১৫. গুরুদক্ষিণা ( ১৯৬৬)  >  "হেডমাস্টার"  ।


★ এক ঝলকে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থের প্রকাশকাল ও উৎসর্গ তালিকা ★


১. "মেঘ-মল্লার" (শ্রাবণ ১৩৩৮) > মেজমামা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
২. "মৌরীফুল" (ভাদ্র ১৩৩৯) > বিভূতিভূষণ বসুকে।
৩. "যাত্রাবদল" (কার্তিক ১৩৪১) >  ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে।
৪. "জন্ম ও মৃত্যু" (আশ্বিন ১৩৪৪) > সুপ্রভাকে।
৫. "কিন্নর দল" (কার্তিক ১৩৪৫) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
৬. "বেণীগীর ফুলবাড়ি" (বৈশাখ ১৩৪৮) > জাহ্নবী দেবীকে।
৭. "নবাগত" (মাঘ ১৩৫০) > অধ্যাপক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে।
৮. "তালনবমী" (বৈশাখ ১৩৫১) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
৯. "উপলখন্ড" (বৈশাখ ১৩৫২) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
১০. "বিধুমাস্টার" (জ্যৈষ্ঠ ১৩৫২) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
১১. "ক্ষণভঙ্গুর" (ভাদ্র ১৩৫২) > মাতা মৃণালিনী দেবীকে।
১২. "অসাধারণ" (বৈশাখ ১৩৫৩) > তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
১৩. "মুখোশ ও মুখশ্রী" (অগ্রহায়ণ ১৩৫৪) > মামা বসন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায়কে।
১৪. "আচার্য কৃপালিনী কলোনি" (আশ্বিন ১৩৫৫) > বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল) কে।
১৫. "জ্যোতিরিঙ্গন" (চৈত্র ১৩৫৫) > বসন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায়কে।
১৬. "কুশল পাহাড়ী" (পৌষ ১৩৫৭) > কবিশেখর কালিদাস রায়কে।
১৭. "রূপ হলুদ" (জৈষ্ঠ ১৩৬৪) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
১৮. "অনুসন্ধান" (মাঘ ১৩৬৬) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
১৯. "ছায়াছবি" ( ফাল্গুন ১৩৬৬) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
২০. "বিভূতিভূষনের শ্রেষ্ঠ গল্প"(ভাদ্র ১৩৫৪) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
২১. "গল্প পঞ্চাশৎ" (পৌষ ১৩৬৩) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।
২২. "বিভূতিভূষণের ভৌতিক গল্প" (আষাঢ় ১৩৭৮) > কাউকে উৎসর্গ করেন নি।


★ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েকটি উপন্যাসের পূর্বনাম ও নামান্তর ★

---বর্তমান নাম    -----   পূর্বনাম  

                                                    
১. "দিবারাত্রির কাব্য"(১৯৩৫)     >>>    "একটি দিন ও একটি রাত" (একটি বস্তুসংকেতের কল্পনামূলক কাহিনী)।

২. "দর্পণ" (১৯৪৫)       >>>      "জাগো জাগো" (প্রভাতী পত্রিকা) ।

৩. "চিন্তামণি" (১৯৪৬)    >>>  "রাঙামাটির চাষী" (পূর্ব্বাশা পত্রিকা)।

৪. "জীয়ন্ত" (১৯৫০)      >>>    "কলম পেষার ইতিকথা" (পরিচয় পত্রিকা)।

৫. "স্বাধীনতার স্বাদ" (১৯৫১)   >>>    "নগরবাসী" (বসুমতী পত্রিকা)।

৬. "পরাধীন প্রেম" (১৯৫৫)    >>>    "বাস্তবিক" (অনন্যা পত্রিকা)।

৭. "প্রাণেশ্বরের উপাখ্যান" (১৯৫৬)   >>>   "প্রাণেশ্বর" (উল্টোরথ পত্রিকা)।

৮. "মাটি ঘেঁষা মানুষ" (১৯৫৭)   >>>   "একটি চাষীর মেয়ে" (বসুমতী পত্রিকা)।


★তথ্যসংগ্রহে -- প্রীতম চক্রবর্তী ★
★অ্যাডমিন সাকসেস বাংলা★

পুরানো দিনের হারানো সব বইয়ের তালিকা

♥ পুরানো দিনের হারানো সব বইয়ের তালিকা ♥


১) পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৬৬-১৯২৩) : "চুড়ি লিবি গো"।

২) মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৮৮-১৯২৯) : "পারম্পর্য"।

৩) রবীন্দ্রনাথ মৈত্রেয় (১৮৯৪-১৯৩২) : "মানময়ী গার্লস স্কুল" (১৯৩২)।

৪) রামসুন্দর বসাক : "বাল্যশিক্ষা"।

৫) তারাশঙ্কর তর্করত্ন (১৮২৮-১৮৫৮) : "কাদম্বরী" (১৮৫৪) [বাণভট্টের সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ]।

৬) রামকুমার বিদ্যারত্ন (১৮৩৬-১৯১০) : "কুলি কাহিনী"।

৭) কেদারনাথ দত্ত (১৮৩৭-১৯১১) : "সচিত্র গুলজারনগর" (১২৭৮ বঙ্গাব্দ)।

৮) কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য (১৮৪০-১৯৩২) : "দুরাকাঙ্ক্ষের বৃথাভ্রমণ" (১৮৫৮)।

৯) টেকচাঁদ ঠাকুর জুনিয়র (১৮৪২-১৯১৪) : "কলিকাতার নুকোচুরি" (১৮৫৭)।

১০) চন্দ্রনাথ বসু (১৮৪৪-১৯১৯) : "পশুপতি-সম্বাদ" [ঐতিহাসিক উপন্যাস] (১৮৮৪)।

১১) চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৪৫-১৮৮৫) : "জটাধারীর রোজনামচা" (১২৮৫ বঙ্গাব্দ) ।

১২) মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯২২) : "রত্নাবতী" [গদ্যে রচিত প্রথম বাঙ্গালী মুসলমান রচিত গল্প] (সেপ্টেম্বর, ১৮৬৯ / ৩০ শ্রাবণ, ১২৭৬)।

১৩) ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৭৮৭-১৮৪৮) : "নববাবুবিলাস" (১৮২৫), "কলিকাতা কমলালয়" (১৮২৩)।

১৪) মদনমোহন তর্কালঙ্কার (১৮১৭-১৮৫৮) : "শিশুশিক্ষা" (প্রথম ভাগ - ১৮৪৯, দ্বিতীয় ভাগ - ১৮৫০)।

১৫) দেওয়ান কার্তিকেয়চন্দ্র রায় (১৮২০-১৮৮৫) : "ক্ষিতীশ বংশাবলী চরিত" (১৮৫৭)।

১৬) গিরিশচন্দ্র বসু (১৮২৪-১৮৯৮) : "সেকালের দারোগার কাহিনী" (১৮৮৫)।

১৭) চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায় (১৮৪৯-১৯২২) : "উদভ্রান্ত প্রেম" (১৮৭৫)।

১৮) প্রাণকৃষ্ণ দত্ত (১৮৫১-১৯০৯) : "বদমাএস জন্মদ" (১৮৬৯)।

১৯) অক্ষয়কুমার বড়াল (১৮৬০-১৯১৯) : "রজনীর মৃত্যু" (১২৮৯ বঙ্গাব্দ)।

২০) অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০) : "ফিরিঙ্গি বণিক" (১৯২২)।

২১) ভোলানাথ মুখোপাধ্যায় (১৮২৫-১৮৯৫) : "আপনার মুখ আপুনি দেখ" (১৮৬৩)।

২২) রাজনারায়ণ বসু (১৮২৬-১৮৯৯) : "সেকাল আর একাল" (১৮৭৪)।

২৩) রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৮৭) : "পদ্মিনী উপাখ্যান" (১৮৫৮), "কলিকাতা কল্পলতা" (অনুমিত রচনাকাল ১৮৫০-৭০ খ্রিস্টাব্দ, কিন্তু মুদ্রিত হয় ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে)।

২৪) ভূদেব মুখোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৯৪) : "অঙ্গুরীয় বিনিময়" (এটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে, কিন্তু পরে এটি তাঁর "ঐতিহাসিক উপন্যাস"-এর সঙ্গে সংযোজিত হয়ে প্রকাশিত হয় ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে)।




★আলোচক : সৌম্য মাইতি
(ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, কিংসটন কলেজ, মেছেদা, পূর্ব মেদিনীপুর)

★ মডারেটর -- সাকসেস বাংলা★

বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ

♣কয়েকটি বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম ও লেখক♣


১) মনোত্রল দ্য আসসুম্পসাঁও - "Vocabulario em Bengalla a portugueze dividido em duas Partes" (১৭৪৩)।

২) ব্রাসি হ্যালহেড - " A Grammar of the Bengal Language" (১৭৭৮)।

৩) এ-আপজন - "ইংরেজি ও বাঙ্গালি বোকেবিলারি" (১৭৯৩)।

৪) মিলার - "The Tutor" (১৭৯৭)।

৫) হেনরি পিটস ফরস্টার - "A Vocabulary in two parts, English and Bangalee and Vice Versa" (১৮০২)।

৬) উইলিয়াম কেরি - "A Grammar of the Bangalee Language" (১৮০১) [১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন]।

৭) জি. সি. হটন - "Rudiments of Bengali Grammer" (১৮২১)।

৮) রাজা রামমোহন রায় - "Benglee Grammar in the English Language" (১৮২৬)।

৯) ডানকান ফোর্বস - "A Grammar of the Bengali Language" (১৮৬১)।

১০) জি. এফ. নিকল - "Manual of the Bengali Language comprising a Bengali Grammar and Lessons" (১৮৮৫)।

১১) জন বীমস - "Grammar of the Bengali Language Literary and Colloquial" (১৮৯১)।

১২) রাধাকান্ত দেব - "বাঙ্গালা শিক্ষাগ্রন্থ" (১৮১৮)।

১৩) রেভারেণ্ড জে. সকীথ (সংকলক) - "A Grammar of the Bangalee Language adopted to the young in easy questions and answers" (১৮২০)।

১৪) রাজা রামমোহন রায় - "গৌড়ীয় ব্যাকরণ" (১৮৩৩)।

১৫) শ্যামাচরণ সরকার - "বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৮৫২)।

১৬) লোহারাম শিরোরত্ন - "বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৮৬০)।

১৭) কৃষ্ণকিশোর বন্দ্যোপাধ্যায় - "সরল ব্যাকরণ" (১৮৭৭), "বাংলা ব্যাকরণ" (১৮৮০)।

১৮) জয়গোপাল গোস্বামী - "শব্দতত্ত্বকৌমুদী" (১৮৮১)।

১৯) নিত্যানন্দ গোস্বামী - "বঙ্গভাষা ব্যাকরণ" (১৮৮৫)।

২০) বীরেশ্বর পাঁড়ে - "বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৮৯১)।

২১) চিন্তামণি গঙ্গোপাধ্যায় - "বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৮৮১)।

২২) নকুলেশ্বর বিদ্যাভূষণ - "ভাষাবোধ বাংলা ব্যাকরণ" (১৮৯৮)।

২৩) হৃষীকেশ শাস্ত্রী - "বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৯০০)।

২৪) কালীচরণ অধিকারী - "ব্যাকরণ শিক্ষা" (১৮৭৮)।

২৫) ব্রজকিশোর গুপ্ত - "বঙ্গভাষা ব্যাকরণ" (১৮৪০)।

২৬) উমেশচন্দ্র গুপ্ত - "ব্যাকরণ মঞ্জুষা" (১৮৮০)।

২৭) বিপ্রচরণ চক্রবর্তী - "জ্ঞানশাখা ব্যাকরণ"।

২৮) আনন্দচন্দ্র চক্রবর্তী - "ব্যাকরণ দীধিতি" (১৮৬৭)।

২৯) প্রসন্নচন্দ্র চক্রবর্তী - "সাহিত্য প্রবেশ" (১৮৬৯)।

৩০) নিত্যানন্দ চক্রবর্তী - "ব্যাকরণ প্রবেশ" (১৮৭৫)।

৩১) কালীচরণ চট্টোপাধ্যায় - "সাহিত্য সোপান" (১৮৭৪)।

৩২) গোপালচন্দ্র চূড়ামণি - "ব্যাকরণ সংগ্রহ"।

৩৩) কেদারনাথ তর্করত্ন - "ব্যাকরণ মঞ্জরী" (১৮৬৫)।

৩৪) মধুসূদন তর্কালংকার - "শিশুবোধ ব্যাকরণ" (১৮৬৩)।

৩৫) রামগতি ন্যায়রত্ন - "বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৮৬৪)।

৩৬) কালীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় - "বঙ্গভাষার ব্যাকরণ" (১৮৮৪)।

৩৭) রমাপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন - "বাংলা ব্যাকরণ" (১৮৭৬)।

৩৮) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার - "প্রবোধচন্দ্রিকা" (১৮৩৩)।

৩৯) রাজেন্দ্রলাল মিত্র - "ব্যাকরণ প্রবেশ" (১৮৬২)।

৪০) মনোমোহন মিত্র - "ব্যাকরণ পরিচয়" (১৮৭৫)।

৪১) রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় - "প্রথম শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ" (১৮৭২)।

৪২) সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় - "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৯৩৯)।

৪৩) ড. সুকুমার সেন - "ভাষার ইতিবৃত্ত" (১৯৩৯)।

♦আলোচক : সৌম্য মাইতি
[ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, কিংসটন কলেজ, মেছেদা, পূর্ব মেদিনীপুর]♦

♦মডারেটর-- Success Bangla ♦

অনুবাদে রবীন্দ্রসাহিত্য


 ♦ অনুবাদে রবীন্দ্রসাহিত্য ♦

★ছোটগল্প ঃ-

১. ভিখারিনী - THE BEGGAR MAID - শিবপ্রসাদ বিশ্বাস ১৯৫৬

২. ঘাটের কথা - THE RIVER STAIRS - যদুনাথ সরকার ১৯১২

৩. ঘাটের কথা - THE LANDING STAIRWAY - রজনীরঞ্জন সেন ১৯১৩

৪. রাজপথের কথা - TALE OF THE HIGH ROAD - ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী ১৯৪৮

৫. তারাপ্রসন্নের কীর্তি - TARAPRASANNA"S MASTER PIECE - শৈল চট্টপাধ্যায় ১৯৬০

৬. দেনাপাওনা - DEBTS AND DEUS - শৈল চট্টপাধ্যায় ১৯৬০

৭. পোস্টমাস্টার - THE POSTMASTER - দেবেন্দ্রনাথ মিত্র ১৯১১

৮. খাতা - COPY BOOK - জিতেন সেন ১৯৫৩

৯. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন - MY LORD THE BABY - সি এফ অ্যানড্রুজ ১৯১৬

১০. সম্পত্তি সমর্পন - THE TRUST PROPERTY - প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় ১৯১০

১১. দালিয়া -  DALIA - শৈল চট্টপাধ্যায় ১৯৫৪

১২. দালিয়া - THE MAHARANI OF ARAKAN - জর্জ ক্যাল্ড্রন ১৯১৫

১৩. কঙ্কাল - THE SKELETON - প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় ১৯১০

১৪. ত্যাগ - RENUNCIATION - প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় ১৯১০

১৫. ত্যাগ - OUTCAST - সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩৬

১৬. একরাত্রি - THE SUPREME NIGHT - যদুনাথ সরকার ১৯১২

১৭. একটা আষাঢ়ে গল্প - THE KINGDOM OF CARDS - সি এফ অ্যানড্রুজ ১৯১৬

১৮. একটা আষাঢ়ে গল্প - TASHER DESH - কৃষ্ণ কৃপালিনী ১৯৩৯

১৯. জীবিত ও মৃত - LIVING OR DEAD -  সি এফ অ্যানড্রুজ ১৯১৬

২০. কাবুলিওয়ালা - THE CABULIWALLAH - সিস্টার নিবেদিতা ১৯১২

২১. সুভা - THE DUMB GIRL - অনাথনাথ মিত্র ১৯১০

২২. মহামায়া - THE ADAMENT - যদুনাথ সরকার ১৯১২

২৩. দান-প্রতিদান - GIF AND RETURN - শৈল চ্যাটার্জি ১৯৬১

২৪. শাস্তি - THE PUNISHMENT - শৈল চ্যাটার্জি ১৯৫৮

২৫. সমাপ্তি - THE CONCLUSION - সি এফ অ্যানড্রুজ ১৯১৭

২৬. সমস্যাপূরণ - THE SOLUTION OF THE PROBLEM - সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩৬

২৭. অনধিকার প্রবেশ - THE TRESPASS - ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী ১৯৫০

২৮. বিচারক - THE JUDGE - অমিয় চক্রবর্তী ১৯৪৪

২৯. নিশীথে - AT MIDNIGHT - অনাথনাথ মিত্র ও উইলি পিয়ারসন ১৯১০ ১৯১৭

৩০. দিদি - THE ELDER SISTER -রাসবিহারী মুখোপাধ্যায় ১৯১০

৩১. মানভঞ্জন - GIRIBALA -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৭

৩২. ক্ষুধিত পাষাণ - THE HUNGRY STONE - পান্নালাল বসু ১৯১০

৩৩. অতিথি - THE RUNWAY - সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৯

৩৪. রাজটীকা - WE CROWN THEE KING - প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় ১৯১১

৩৫. দুরাশা - A SHATTERD DREAM - সি এফ অ্যানড্রুজ ও সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৭ ১৯৩৬

৩৬. ডিটেক্টিভ - THE DETECTIVE - জিতেন সেন 1954

৩৭. মণিহারা - THE LOST JEWELS - উইলি পিয়ার্সন ও সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৭ ১৯৩৭

৩৮. নষ্টনীড় - BROKEN HOME - লীলা মজুমদার ১৯৫৫

৩৯. গুপ্তধন - THE HIDDEN TREASURE -  উইলি পিয়ার্সন ১৯২১

৪০. মাস্টার মশাই - MASTER MASHAI - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৮

৪১. হৈমন্তী -  HAIMANTI - জিতেন সেন ১৯৪৯

৪২. বোষ্টমী - THE WAYFARING WOMAN - সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩৬

৪৩. স্ত্রীর পত্র - THE WIFE'S LETTER - জিতেন সেন ১৯৫২

৪৪. শেষের রাত্রি - MASHI - উইলি পিয়ার্সন ১৯১৬

৪৫. অপরিচিতা - THE UNKNOWN MAIDEN - বিনয়েন্দ্র চৌধুরী ১৯৪৬


★তথ্যসংগ্রহে-- প্রীতম চক্রবর্তী★
★অ্যাডমিন-- success bangla★