Showing posts with label সাহিত্যের রূপ-রীতি. Show all posts
Showing posts with label সাহিত্যের রূপ-রীতি. Show all posts

গণনাট্য এবং নবনাট্য সমকালীন ও উত্তরকালের একাঙ্ক নাটক


  ♦♦একাঙ্ক নাটক♦♦
     ••••••••••••••••

¤ একাঙ্ক নাটক স্বরূপ ও বিকাশ :-
এক অঙ্কের স্বল্প পরিসরে স্বল্পকালের সীমায় মাত্র কয়েকটি চরিত্রের বুদ্ধিদীপ্ত ও ব্যঞ্জনাগর্ভী সংলাপে জীবনের গভীরভাব নাটকীয় তাৎপর্য লাভ করে যে শ্রেণির নাটকে, তাই হল একাঙ্ক নাটক।

¤ পঞ্চাঙ্ক নাটকের সঙ্গে পার্থক্য :-

পঞ্চাঙ্ক নাটককে পূর্ণাঙ্গ নাটক বলে। পঞ্চাঙ্ক নাটকের সঙ্গে একাঙ্ক নাটকের আকারগত ও শ্রেণিগত উভয়দিকে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। শ্রীশচন্দ্র দাস তাঁর 'সাহিত্য সন্দর্শন' গ্রন্থে বলেছেন, 'পঞ্চমাঙ্ক নাটকে এক বা বহু ঘটনার সমাবেশ থাকিতে পারে এবং স্থান হইতে স্থানান্তরে, দৃশ্য হইতে দৃশ্যান্তরে নাটকীয় বিষয়বস্তু বা কুশীলবগণের পরিবর্তন ইহাদের মধ্যে অস্বাভাবিক নহে। কিন্তু একাঙ্কিকায় একটিমাত্র বিশেষ ঘটনা সংস্থাপনের সংক্ষিপ্ত পরিধির মধ্যে একটি বিশেষ ভাব সৃষ্টির সহায় রূপে পরিকল্পিত হয়।'
                        আধুনিক ব্যস্ত মানুষের কাছে উপন্যাস অপেক্ষা ছোটগল্প যেমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, ঠিক তেমনই ভাবে পঞ্চমাঙ্ক নাটক অপেক্ষা একাঙ্ক নাটক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চমাঙ্কের পূর্ণাঙ্গ নাটক দেখতে দেখতে দর্শকেরা যখন ক্লান্ত, তখন সংক্ষিপ্ত পরিসরের নাটকীয় উৎকণ্ঠামুখর কাহিনি ও চরিত্রের তীব্র একমুখীনতা দর্শকদের ভিন্ন এক অনুভূতি এবং আনন্দের জগতে নিয়ে গেছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে নাট্যাভিনয় দেখার মতো অখণ্ড অবসর এই ব্যস্ত কালের মানুষের না থাকায়, একাঙ্ক নাটক বর্তমান দিনে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একাঙ্ক নাটকে একের বেশি চরিত্র থাকলেও একটি চরিত্রের বিকাশই নাট্যকারের অভিপ্রেত হয়। পঞ্চমাঙ্ক নাটকে এমনটি দেখা না গেলেও, একাঙ্ক নাটককে পঞ্চমাঙ্ক নাটকের ক্ষুদ্রতম সংস্করণ কখনও বলা যাবে না। একাঙ্ক নাটকে অল্পসময়ের মধ্যে নাটকীয় ঘটনার চরম পরিণতি দেখাতে হয়, পঞ্চমাঙ্ক নাটকে নাটকীয় ঘটনা ধীরে ধীরে পরিস্ফুট হয়।

¤ একাঙ্ক নাটকের বৈশিষ্ট্যসমূহ :-

১) তীব্র একমুখীন গতি থাকে একাঙ্ক নাটকে।
২) অল্প কয়েকটি চরিত্রের উপস্থিতি ঘটে এবং একটি চরিত্রের বিকাশই নাট্যকারের অভিপ্রেত হয়।
৩) ছোটগল্পের মতো 'singleness of aim' এবং 'singleness of effect'-র উপর একাঙ্ক নাটকের নাট্যকার গুরুত্ব প্রদান করেন।
৪) ছোটগল্পের মতো নাটক শেষ হওয়ার পর মনে হয় - 'শেষ হইয়াও হইল না শেষ'। তবে ছোটগল্প বর্ণনাত্মক, একাঙ্ক নাটক দৃশ্যকাব্য।
৫) আধুনিক জীবনের সংশয় ও দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটে একাঙ্ক নাটকে।
৬) একাঙ্ক নাটকে নাট্যকারের একটিমাত্র উদ্দেশ্য সক্রিয় থাকে।
৭) নাটকীয় ঘটনা দর্শকের কৌতূহল বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
৮) যবনিকা উন্মোচনের পর দ্রুতগতিতে কাহিনি ও ঘটনা পরিণতি লাভ করে।
৯) একাঙ্ক নাটকের একটি অঙ্কে একের বেশি দৃশ্য থাকতে পারে।
১০) একাঙ্ক নাটক ইঙ্গিতধর্মী হয়।

¤ বাংলা একাঙ্ক নাটকের উদ্ভব ও বিকাশ :-

একাঙ্ক নাটককে সম্পূর্ণভাবে আধুনিককালের সৃষ্টি বলা হলেও, শ্রীরূপ গোস্বামীর 'জলকেলী কৌমুদী'তে একাঙ্ক নাটকের সমস্ত বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়। ভরত মুনীর নাট্যশাস্ত্রে ভাণ, ব্যায়োগ, উৎসৃষ্টিকাঙ্ক, প্রহসন, বীথি নামে পাঁচ ধরনের একাঙ্ক নাটকের কথা উল্লেখিত হয়েছে। ভাসের 'দূত ঘটোৎকচ', মধ্যম ব্যায়োগ', 'দূতবাক্য', 'উরুভঙ্গ' প্রভৃতি নাটকে একাঙ্ক নাটকের অনেক বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়। বাংলা একাঙ্ক নাটকগুলির প্রেরণা এবং আদর্শ হয়েছে মূলত পাশ্চাত্য একাঙ্ক নাটক। অনেক সমালোচক বলেছেন, পঞ্চদশ শতকে লেখা ইংরেজি 'এভারম্যান' নাটক আদি পাশ্চাত্য একাঙ্ক নাটক।
     
                     তারপর দীর্ঘ ট্র্যাজেডি নাটকের আগে বা পরে স্বল্পক্ষণের লঘু হাস্যরসাত্মক কমেডি নাটক পরিবেশিত হত। এই কমেডিগুলিতে একাঙ্ক নাটকের অনেক বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ শতকে একাঙ্ক নাটকে বৈচিত্র্য এল। শুধু হাস্যরসাত্মক উপাদান নিয়ে একাঙ্ক নাটক সৃষ্টি হল না, জীবনের গুরুগম্ভীর বিষয় একাঙ্ক নাটকে স্থান করে নিল পাশ্চাত্য নাট্য সাহিত্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে অবলম্বন করে গিরিশচন্দ্র ঘোষের 'সপ্তমীতে বিসর্জন', দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের 'পুনর্জন্ম', রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খ্যাতির বিড়ম্বনা'-র হাত ধরে আধুনিক বাংলা একাঙ্ক নাটক পূর্ণতা লাভ করে মন্মথ রায়ের হাতে। 1923 খ্রিস্টাব্দে অভিনীত মন্মথ রায়ের 'মুক্তির ডাক'ই একালের প্রথম সার্থক একাঙ্ক নাটক।

                       আমরা এর আগে মন্মথ রায়, তুলসী লাহিড়ী, বিজন ভট্টাচার্য, দিগিন্দচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের একাঙ্ক নাটক আলোচনা করেছি। উৎপল দত্তের 'কাকদ্বীপের তকমা', 'নীলকণ্ঠ' প্রভৃতি একাঙ্ক নাটকগুলি একসময় খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

                        কিরণ মৈত্রের 'বিচারক', 'ভাগ্য লেখা', অমর গঙ্গোপাধ্যায়ের 'দ্বান্দ্বিক', সুনীল দত্তের 'লুঠতরাজ', সলিল সেনের 'সন্ন্যাসী', নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'বারোভূত', 'ভাড়াটে চাই', 'এক সন্ধ্যায়', সোমেন্দ্র নন্দীর 'মূলধন', ধনঞ্জয় বৈরাগীর 'এক পশলা বৃষ্টি', 'রঙের টেক্কা', শৈলেশ গুহ নিয়োগীর 'রিহার্সাল', 'পলিটিক্স', 'গোলপার্ক', জোছন দস্তিদারের 'কালোমাটির কান্না', মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের 'বাইরের দরজায়' প্রভৃতি একাঙ্ক নাটকগুলি বিষয় ও আঙ্গিক বৈচিত্র্যে স্মরণীয় হয়ে আছে।

        ♦ কয়েকটি স্মরণীয় একাঙ্ক নাটক ♦
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

মন্মথ রায়, তুলসী লাহিড়ী, বিজন ভট্টাচার্য, দিগিন্দচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের স্মরণীয় একাঙ্ক নাটক আমরা এর আগে আলোচনা করেছি। এখন এই পর্যায়ের অন্যান্য স্মরণীয় একাঙ্ক নাটকগুলি আলোচনা করছি।

¤ অনাদি বসুর একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'আলোর নিশানা' (১৯৭৯)
২) 'বিবর্তন' (১৯৮০)
৩) 'দূষণ' (১৩৯৫ বঙ্গাব্দ)
৪) 'শপথ' (১৯৯৫)
৫) 'ইতিহাস কথা কয়' (২০০১)
৬) 'জন্ম শতবর্ষ'

¤ অমল রায়ের একাঙ্ক নাটক :-
    ~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'কেননা মানুষ'
২) 'এ দেশেও নর্মান বেথুন' (১৯৭৮)
৩) 'ঘটোৎকচ'
৪) 'অন্য এক মারীচ'
৫) 'এখনি অস্ত্র শানাও'
৬) 'নচিকেতা'
৭) 'জতুগৃহ'
৮) 'বিদ্রোহের থিয়েটার' (১৯৮০)
৯) 'নিঃশেষে প্রাণ'
১০) 'শিব ঠাকুরের আপন দেশে' (১৩৮৫ বঙ্গাব্দ)
১১) 'শেষ প্রহর' (১৯৮৩)
১২) 'ধরম যুদ্ধ' (১৯৯০)
১৩) 'মানুষ কান পেতে আছে' (১৯৯১)
১৪) 'ইঁদুর দৌড়' (১৯৯৪)
১৫) 'বন্দীশালার ডাক'

¤ অসীম ঘোষের একাঙ্ক নাটক :-
    ~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'বাতিল' (১৯৯৩)
২) 'কাকলাস' (১৯৯৪)
৩) 'পৌপপুনিক' (১৯৯৪)
৪) 'নীড় থেকে নিরালয়' (২০০০)

¤ কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়ের একাঙ্ক নাটক :-
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'হজমশক্তি' (১৯৮৭)
২) 'স্পন্দন' (১৯৮৮)
৩) 'কেনা কুসুমের কথা' (১৯৮৮)
৪) 'সুখী বদন' (১৯৯০)
৫) 'মহীনের যুদ্ধ' (১৯৯১)
৬) 'একটি খোলা চিঠি ও আমরা' (১৯৯১)
৭) 'ভারতবর্ষ' (১৯৯২)

¤ চিত্তরঞ্জন দাশের একাঙ্ক নাটক :-
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'সন্ত্রাস' (১৯৬২)
২) 'মৃত্যুহীন' (১৯৬৫)
৩) 'সমুদ্রের স্বাদ' (১৯৬৫)
৪) 'উজান' (১৯৬৬)
৫) 'ভিয়েতনাম' (১৯৬৬)
৬) 'সংগ্রামের নাটক' (১৩৭৪ বঙ্গাব্দ)
৭) 'গণনাটক' (১৯৬৭)
৮) 'নীতিবাগীশ' (১৯৬৮)
৯) 'অন্ধকারের মুখ' (১৩৭৯ বঙ্গাব্দ)
১০) 'পদক্ষেপ' (১৯৬৮)
১১) 'মৃত্যু থেকে ফিরে' (১৯৬৯)
১২) 'কম্বোডিয়া' (১৯৭১)
১৩) 'সমরের ঘড়ি' (১৯৭২)
১৪) 'গফুর আমিনা সংবাদ' (১৯৭৫)
১৫) 'আমিনা কাহিনি' (১৯৭৬)
১৬) 'অন্ধকারের প্রভু' (১৯৮০)
১৭) 'যুদ্ধ শুরু আজ' (১৯৯০)
১৮) 'মৈনুদ্দিনের ভূত' (১৯৯৫)

¤ মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'বাইরের দরজা' (১৩৭৬ বঙ্গাব্দ)
২) 'রাক্ষস' (১৩৭৬ বঙ্গাব্দ)
৩) 'বাজপাখি' (১৩৭৬ বঙ্গাব্দ)
৪) 'সোনার চাবি' (১৯৭৩)
৫) 'বর্ণ বিপর্যয়' (১৯৭৩)
৬) 'মাছি' (১৯৮৯)
৭) 'দর্পণ' (১৯৯১)

¤ রাধারমণ ঘোষের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'অর্থ স্বর্গ বিচিত্রা' (১৯৫৮)
২) 'ইতিহাস কাঁদে' (১৯৭১)
৩) 'হারাধনের দশটি ছেলে' (১৯৭২)
৪) 'শতাব্দীর পদাবলী' (১৯৭৩)
৫) 'হইতে সাবধান' (১৯৭৩)
৬) 'সূর্য নেই স্বপ্ন আছে'
৭) 'মুচকি মঙ্গল কাব্য' (১৩৮০ বঙ্গাব্দ)
৮) 'কলিকালের কড়চা'
৯) 'অহম্-আবাম্-বয়ম'
১০) 'কৈলাস বদ্ধ উন্মাদ'
১১) 'বিবর্ণ বিস্ময়' (১৩৮৫ বঙ্গাব্দ)

¤ শ্যামলতনু দাশগুপ্তের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'যাদুকর'
২) 'বাদক'
৩) 'শীতের আগুন'
৪) 'ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্র'
৫) 'বন্ধদরজা'
৬) 'সাগর মোহনায়'
৭) 'উপজিল বিষহরি'
৮) 'অগ্নিগর্ভ হেকেমপুর ও পরাণ মণ্ডলের ঘর গেরাস্তি'
৯) 'চৌহদ্দি পেরিয়ে' (১৯৮৩)
১০) 'দিগন্ত' (১৯৮৭)
১১) 'নিখোজ চরিত' (১৯৮৯)
১২) 'লগন মাঝির ট্যাঙ্গি' (১৯৯১)
১৩) 'একটি সজল কাঠগড়া ও চৌধুরী বাড়ির অলকা' (১৯৯৩)

¤ সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'কলুষ' (১৯৮৯)
২) 'পিপাসা' (১৯৯১)
৩) 'আলোকরেখা' (১৯৯১)
৪) 'ফাঁকি' (১৯৯১)
৫) 'সদগতি' (১৩৯১ বঙ্গাব্দ)
৬) 'স্রোতের বাইরে' (১৯৯২)
৭) 'অনিন্দিতা' (১৯৯৩)
৮) 'চক্রব্যুহ'
৯) 'শাশ্বতী'
১০) 'প্রণয়বিভ্রাট' (১৪০২ বঙ্গাব্দ)
১১) 'সুহাসিনী একাঙ্কবালা' (১৪০৭ বঙ্গাব্দ)

¤ দেবাশীষ মজুমদারের একাঙ্ক নাটক :-
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'ইমন কল্যাণ' (১৯৮৭)

¤ সুরেশ হালদারের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'একাঙ্ক নাট্য সমাহার' [একাঙ্ক নাটকের সংকলন] (ডিসেম্বর, ২০০০) : এই গ্রন্থের পাঁচটি নাটক হল :- 'দেশ আমার দেশ', 'খোলস', 'দেবশিশু', 'পদ্ম বৌ', 'অনুশাসন'।

¤ মনোজ মিত্রের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'প্রভাত ফিরে এসো' (১৯৮৭)

¤ গিরিশঙ্করের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'শেষ সংলাপ' [একাঙ্ক নাটকের সংকলন] (১৯৫৮) : এখানকার স্মরণীয় নাটিকাগুলি হল :- 'একচিলতে', 'আশ্বাস', 'টান', 'শহীদ স্মৃতি', 'রোশনাই', 'শেষ সংলাপ', 'শিখা' ইত্যাদি।

¤ সমীর দাশগুপ্তের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'সময়ের চেহারা' (১৯৮৭)

¤ রমাপ্রসাদ বণিকের একাঙ্ক নাটক :-
   ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১) 'সহবাস' (১৯৮৮)

*** আশার আলো :-
     ~~~~~~~~~
বাংলা নাট্যশিল্পকে বর্তমানে আশার আলো দেখিয়েছে একাঙ্ক নাটক। বাঙালি দর্শকেরা যখন পূর্ণাঙ্গ নাটক দেখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন, তখন এই নতুন ধাঁচের আধুনিক জীবন-যন্ত্রণামথিত একাঙ্ক নাটকগুলি দেখে দর্শকেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। বর্তমানে বিখ্যাত বিদেশি একাঙ্ক নাটকগুলিকে অনুবাদ করে বাংলা রঙ্গমঞ্চকে মাতিয়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠিত নট ও নাট্যকাররা। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নানা রঙের দিন', সোমেন্দ্রচন্দ্র নন্দীর 'সকাল সন্ধ্যার নাটক' এ বিষয়ে সবার আগে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অনূদিত একাঙ্ক নাটকগুলিও জনপ্রিয় হয়েছে।


★আলোচক : সৌম্য মাইতি 
(ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, কিংসটন কলেজ, মেছেদা, পূর্ব মেদিনীপুর)

★ অ্যাডমিন -- সাকসেস বাংলা★

অালোচনার দর্পণে - ছোটগল্প

📚📚ছোটগল্প📚📚
        
● সংজ্ঞা--  ছোটগল্প লেখকের মানস প্রতীতি জাত একটি সংহত গদ্যকাহিনি,যার একতম বক্তব্য কোন ঘটনা,চরিত্র,পরিবেশ অবলম্বন করে ঐক্য সঙ্কটের মধ্য দিয়ে সমগ্রতা লাভ করে।

"ছোটো প্রাণ,ছোটো ব্যথা  ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
                     নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি                  প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
              তারি দু-চারটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা        ঘটনার ঘনঘটা
              নাহি তত্ত্ব,নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে,      সাঙ্গ করি মনে হবে
               শেষ হয়ে হইল না শেষ।"

                                     --রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

 ● ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য-----
1- একমুখিনতা।
2- ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটে।
3-  সাধারণ মানুষের সাধারণ ঘটনা গল্পের বিষয়।
4- রচনাটি মৌলিক হওয়া প্রয়োজন।
5- মূলে থাকে একটি plot ।
6- প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এক নিবিড় ভাব ঐক্য বর্তমান থাকে।
7- সংলাপ ব্যবহারের আধিক্য এড়িয়ে চলা।
8- কাহিনি হবে গতিময়।
9- ব্যঞ্জনাধর্মীতা।
10- রচনাশৈলী মনপিনদ্ধ।
11- আদর্শ ছোটগল্পের একটিমাত্র climax থাকে।

● বিভাগ- বিভাজন •••••(বিষয়ানুযায়ী)•••

1- প্রেমবিষয়ক--- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একরাত্রি,নষ্টনীড়।

2- সামাজিক--- দেনাপাওনা(রবীন্দ্রনাথ),মহেশ(শরৎচন্দ্র)।

3- প্রকৃতি ও মানুষ--- অতিথি,শুভা।

4- অতি-প্রাকৃত--- মণিহারা,ক্ষুধিত পাষাণ।

5- হাস্যরসাত্মক--- বলবান জামাতা(প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়),ছাগল(সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়),ভূশণ্ডীর মাঠ,লম্বকর্ণ(পরশুরাম)।

6- উদ্ভট---গগনচটি(পরশুরাম),অঙ্কস্যার(সত্যজিৎ রায়)।

7- সাংকেতিক গল্প/প্রতীক ধর্মী--- গুপ্তধন,জীবিত ও মৃত(রবীন্দ্রনাথ), তেলেনাপোতা আবিষ্কার(প্রমেন্দ্র মিত্র)।

8-ঐতিহাসিক গল্প---মৃৎপ্রদীপ,চুয়াচন্দন(শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়)।

9-বিজ্ঞান নির্ভর---ঘনাদার গল্প,শয়তানের দ্বীপ(প্রমেন্দ্র মিত্র)।

10-গার্হস্থ্য--- শাস্তি(রবীন্দ্রনাথ), মামলার ফল,পরেশ(শরৎচন্দ্র)।

11-মনস্তাত্ত্বিক---ঘাটের কথা,কাবুলিওয়ালা(রবীন্দ্রনাথ)।

12- মনুষ্যেতর--- আদরণী(প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়),কালপাহাড়(তারাশঙ্কর)।

13- বাস্তবনিষ্ট গল্প--- কয়লাকুঠির গল্প(শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়)।

14-গোয়েন্দ গল্প-- ফেলুদা,কাকাবাবু।

15- বিদেশী পটভূমিকাযুক্ত গল্প--হোটেলওয়ালা(মনীন্দ্রলাল বসু)।

16-রাজনৈতিক---ছোট বকুলপুরের যাত্রী,হারানের নাত জামাই(মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়)।

17-সাংস্কৃতিক গল্প--- জয়-পরাজয়(রবীন্দ্রনাথ)।

18-নীতিগল্প(Fable)--- কথামালা,ঈশপের গল্প(বিদ্যাসাগর)।

19- ফেবলো---কথোপকথন(উইলিয়াম কেরী)।

● প্রকৃতি অনুযায়ী গল্প•••••

1- ঘটনামুখ্য--- মুক্তির উপায়,ক্ষুধিত পাষাণ।

2- চরিত্রমুখ্য---আলোবাবু(বনফুল)।

3- প্রতীতিমুখ্য(Impression)--ছুটি,তুচ্ছ(বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায়)।

● বৃত্তগঠন••••

1-সোপানারোহ গঠন--- পোষ্টমাষ্টার,কাবুলিওয়ালা।

2-চকিতোন্নত গঠন--রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,শাস্তি।

3- ঘূর্ণরেখা গঠন---নিশীথে।

● ভাষারীতি•••••

1- বর্ণনাত্মক রীতি--- দেনাপাওনা,পোষ্টমাষ্টার।

2- নাটকীয় রীতি--- বদনাম,ল্যাবরেটরি।

3- কাব্যিক রীতি--- একরাত্রি।

4- রূপক রীতি-- গড্ডালিকা(পরশুরাম)।

5- ব্যঙ্গমূলক--- ডমরুচরিত(ত্রৈলোক্যনাথ)।

☆☆☆ কৃতজ্ঞতা স্বীকার••••••

ড.শুদ্ধসত্ব বসু।
ড.কন্তল চট্টোপাধ্যায়।
হীরেন চট্টোপাধ্যায়।

• উক্ত লেখকদের সাহিত্যের রূপরীতি বিষয়ক বই।।

     ♦আলোচক-- মহুয়া দাস♦
♦অ্যাডমিন -- success বাংলা♦

           

কাব্যনাট্য ও নাট্যকাব্য


কাব্যনাট্য ও নাট্যকাব্য


♦কাব্যনাটক:--

কাব্যনাটক হচ্ছে কবিতা ও নাটকের সংমিশ্রণে পাওয়া সমন্বিত শিল্প। যে নাটকের অন্তর গীতিকবিতার সুরমূর্ছনায় ঝংকৃত হয় এবং চরিত্রসমূহের সংলাপে কবি-মানসের বিচিত্র ভাব-কল্পনার প্রকাশ ঘটে, সহজ কথায় তাই কাব্যনাটক।    


♦কাব্যনাটকের বৈশিষ্ট্য:-- 

(১) এ ধরনের নাটকে কবির কল্পনা-আবেগ-উচ্ছ্বাস বহুবর্ণিল রঙের উজ্জ্বল আলোকছটায় একক রূপ লাভ করে এবং অনেক সুরও একটি ঐক্যতানের সৃষ্টি করে। 

(২)তবে এ ধরনের নাটকে সাধারণ নাটকের মতো গতিময়তা এবং ঘটনার যৌক্তিক বিন্যাস ও কার্যকারণ আবিষ্কৃত নাও হতে পারে। কাব্যনাটকে চরিত্রসমূহের অন্তর্গত চিন্তা-চেতনা কবি গভীরভাবে বিশ্লেষণ সাপেক্ষে কবিতার মায়াজাল রচনা করেন; ফলে কাব্যনাটকে সামগ্রিক ঘটনা-বিশ্লেষণ ধারাবাহিক পরম্পরায় নাও ঘটতে পারে।

(৩)নাট্যরসের পরিণামের দিকে মনোসংযোগ না করেই নাট্যকার কাহিনীর বিচ্ছিন্ন শতছিন্ন অংশগুলোকে ভাব-কল্পনার অজস্র ধারায় প্রবাহিত করতে পারেন।   

(৪)কাব্যনাটকে গীতিকবিতার আবেগ-উচ্ছ্বাসজনিত নাট্যিক দুর্বলতা থাকাও অস্বাভাবিক নয়। কেননা কাব্যনাটক রচনার ক্ষেত্রে নাট্যকার প্রত্যক্ষভাবে চরিত্রের মনোজগত বিশ্লেষণের সময় উপস্থিত থাকেন বলে, এখানে ‘লিরিক’-এর প্রাধান্য থেকেই যায়।

(৫)বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাব্যনাটকের পরিসমাপ্তি সন্তোষজনক হয় না। কেননা এখানে নাট্যকারের প্রধান লক্ষ্য থাকে, চরিত্রের অন্তর্রহস্য উদ্ঘাটন করে দর্শক-পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা।

:নাট্যকাব্য:
     নাট্যআঙ্গিকে লেখা কবিতাই নাট্যকবিতা বা নাট্যকাব্য।এর বিষয়ে নাটকীয়তা থাকে সামান্য কিন্তু কাব্যময়তার পরিমাণ বেশি।কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংলাপধর্মীতা এর একমাত্র নাট্যলক্ষণ হয়ে থাকে।

বৈশিষ্ট্য:- 
(১)নাট্যকাব্যে নাটকের তুলনায় কাব্যগুণ বেশি থাকে।
(২)নাট্যকাব্য পাঠের জন্য লেখা হয়।
(৩)নাট্যকাব্যে conflict- এর যে রূপ দেখা যায় তা মূলত অন্তর্সংঘাত।
(৪) নাট্যকাব্যে বর্ণনার আধিক্য দেখা যায়।
(৫)নাট্যকাব্যে ভাব ও আবেগের প্রাধান্য রয়েছে বলে সংলাপ দীর্ঘহয়।
(৬)এটি কাব্যশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত বলে অলংকরণ চাতুর্য বেশি থাকে।
(৭) নাট্যকাব্য objective form of poetry তাই নিজের বক্তব্য চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করে।

   উদাহরণ:--- 
   রবীন্দ্রনাথের 'কর্ণকুন্তীসংবাদ', 'গান্ধারীর আবেদন' এছাড়া বুদ্ধদেব বসুর ' সংক্রান্তি'  পুর্নেন্দু পত্রীর  'আমরা আবহমান ধ্বংসে ও নির্মাণে' প্রভৃতি।


'কাব্যনাট্য' ও 'নাট্যকাব্য' এই দুটি বিষয় নিয়ে সমালোচকদের মনে দ্বন্দ্ব রয়েছে তবু ও নিম্নে কয়েকটি মূলগত পার্থক্য দেখিয়ে বিষয়টি বোঝানো হল:--

(১)নাট্যকাব্য, নাট্যআধারে রচিত হলেও কাব্যময়তার আধিক্যে নাট্যকাব্য আসলে কাব্য। কাব্যনাট্য কবিতার আধারে রচিত হলেও এটি একপ্রকারের নাটক।

(২) নাট্যকবিতা বা নাট্যকাব্য গীতিকবিতার সমধর্মী।অভিনয়ের জন্য নয়,পড়ার জন্য লেখা হয়।
কাব্যনাট্য নাট্যধর্মী রচনা, অভিনয়ের জন্য লেখা হয়।

(৩)নাট্যকাব্যে নিজের বক্তব্য চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করলেও কবি নিজেকে গোপন পারেন।
কাব্যনাট্য poetic drama তাই কাব্যের চরিত্রের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ভাবে মিশলেও  কবি নিজেকে নিরাসক্ত দর্শক করে রাখতে পারেন।

(৪)নাট্যকাব্যে অন্তর্সংঘাত বা বহি:সংঘাত থাকে না, কিন্তু কাব্যনাট্যে এই বিষয়টি থাকে।

(৫)নাট্যকাব্যের সংলাপ আকারে দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু কাব্যনাট্যের সংলাপ আকারে ছোট হয়ে থাকে।

(৬)নাট্যকাব্য কাব্যশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হলেও এর কাব্যময়তা, অলংকরণ চাতুর্য এর আবেগময়তা কাব্যনাট্যের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে।


সুব্রত সরকার।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।
মডারেটর সাকসেস বাংলা।।

সাহিত্যের রূপ ও রীতি


সাহিত্যের রূপ ও রীতি

* সাহিত্যের রূপ ও রীতি আলোচনা প্রসঙ্গে প্রথমেই আমাদের জানা দরকার, সাহিত্য কী? এবং তার রূপ ও রীতি বলতেই বা আমরা কী বুঝি। ইংরেজ কবি ম্যাথ্যু আর্নল্ড বলেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মনুষ্যত্ব বিকাশ করা। জ্ঞানস্পৃহা সৌন্দর্যস্পৃহা প্রভৃতি মানুষের যতগুলি উচ্চ প্রবৃত্তি আছে তার প্রত্যেকটার পরিপূর্ণ পরিণতির সহায়তা করা। তাহলে আমরা বলতে পারি, মানুষের জাগতিক বা মহাজাগতিক চিন্তা চেতনা, অনুভূতি, সৌন্দর্য্য ও শিল্পের লিখিত বা লেখকের বাস্তব জীবনের অনুভূতিই হল সাহিত্য।
অর্থাৎ যদি উদাহরণ দিয়ে একটু বোঝনো যায় গাইড-বই এবং ভ্রমণবৃত্তান্তের মধ্য গাইড-বই কে সাহিত্য বলা যায় না।
কিন্তু ভ্রমণব্রত্তান্তকে অবশ্যই সাহিত্যে বলতে পারি। এর মূল পার্থক্য হল গাইড-বইয়ে কেবলমাত্র তথ্যসংগ্রহ থাকে, ভ্রমণবৃত্তান্তে ভ্রমণকারী লেখকের ব্যক্তিগত প্রভাব বিদ্যমান,। সেখানে লেখকের চিন্তা, চেতনা, অনুভূতি, সৌন্দর্য্য ও শিল্পের বিকাশ লক্ষ্য করা যায়।এবং রয়েছে হৃদয়ের ভাব। তাহলে গাইড-বই এবং ভ্রমণবৃত্তান্তের বিষয় এক, কেবল রচনাপ্রণালীর প্রভেদ মাত্র, তাই ভ্রমণবৃতান্ত সাহিত্য হয়ে উঠেছে।তাই বলতে পারি সাহিত্য হল তাই যার মধ্য দিয়ে মানুষের অনুভূতি, সৌন্দর্য্য ও শিল্পের  বা বাস্তব জীবনের অনুভূতি লক্ষ্য করা যায়।  মোট কথাটা এই, সাহিত্যের বিষয় সুন্দর, নৈতিক এবং যুক্তিসংগত।
* আমরা সামগ্রিকভাবে ‘সাহিত্য’ বলি বটে কিন্তু বিচারের সময়ে গদ্য, পদ্য কিংবা গল্প উপন্যাস কবিতা নাটক ইত্যাদি স্বতন্ত্রভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে হৃদয়ঙ্গম করি। সার্বিকভাবে সাহিত্যের রূপ বলতে আমরা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা বুঝে থাকি। যেমন: কবিতা, মহাকাব্য, নাটক, কাব্যনাট্য, ছোটগল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা, প্রবন্ধ ইত্যাদি। আর ‘রীতি’ হলো ঐ শাখাগুলো কিভাবে নির্মিত হয়েছে সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা। যেমন ছন্দোবদ্ধ ভাষায় অর্থাৎ পদ্যে যা লিখিত হয় তাকেই আমরা ‘কবিতা’ বলে থাকি। আবার প্লট বা আখ্যানভাগ,  গল্প ও তার ভিতরে উপস্থিত বিভিন্ন চরিত্রের সমন্বয়ে  বিস্তারিতভাবে  বর্ণনাত্মক যে  কাহিনি গড়ে ওঠে তা হল উপন্যাস।
ছোটগল্পেও থাকে উপন্যাসের মতোই কোনো না কোনো কাহিনির বর্ণনা তবে তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নয়। কাহিনির ভিতর থেকেই বেছে নেওয়া কোনো অংশ থাকে মাত্র। ইংরেজি সাহিত্যের উদাহরণ অনুসরণ করে বাংলায় যেমন উপন্যাস লিখিত হয়েছে। ছোটগল্পেরও অনুপ্রেরণা এসেছে পাশ্চাত্য সাহিত্য থেকেই।
আবার, পাত্রপাত্রী বা চরিত্রগুলোর সংলাপ অথবা পারস্পরিক ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার ভেতর দিয়ে একটি কাহিনি গড়ে ওঠেলে তাকে আমরা নাটক বলতে পারি। গদ্যে লিখিত এমন রচনা যার  উদ্দেশ্য পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণাকে পরিতৃপ্ত করা। কোনো সন্দেহ নেই-এজাতীয় লেখায় তথ্যের প্রাধান্য থাকবে যার ফলে অজ্ঞাত তথ্যাদি পাঠক জানতে পারবে। সাহিত্যের এই রীতিকে প্রবন্ধ বলা যায়।
* সুতরাং সাহিত্যকে আমরা গদ্য, পদ্য ও নাটক এই তিনভাগে বিভক্ত করতে পারি। গদ্যের মধ্যে প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ছোটগল্প, উপন্যাস ইত্যাদি এবং পদ্যের মধ্যে ছড়া, কবিতা কাব্যগ্রন্থ ইত্যাদিকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। আর নাটক ও নাটিকা।

আলোচক: সুশান্ত কর্মকার।
অ্যাডমিন, সাকসেস বাংলা
গ্রন্থপঞ্জি
রবীন্দ্ররচনাবলী:
সাহিত্যের রূপ ও রীতি