Showing posts with label কবি ও সাহিত্যিক. Show all posts
Showing posts with label কবি ও সাহিত্যিক. Show all posts

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ভিন্নরকম কাব্যগ্রন্থ



শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ভিন্নরকম কাব্যগ্রন্থ 
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
(জন্ম : ২৫/২৬/২৭ নভেম্বর, ১৯৩৩; মতান্তরে ২৫     নভেম্বর, ১৯৩৪ --- মৃত্যু : ২৩ মার্চ, ১৯৯৫)

★★ যৌথ কাব্যগ্রন্থ :-
        ~~~~
¤ ১) 'তিন তরঙ্গ' (ডিসেম্বর, ১৯৬৫)  :-

♦প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- সাহিত্যিক মলয়শংকর দাশগুপ্ত।
♦তথ্য :- এই কাব্যগ্রন্থে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের চারটি নাতিক্ষুদ্র কবিতা আছে। সহকবিরা হলেন মলয়শংকর দাশগুপ্ত, সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত।

¤ ২) 'এখন রাখাল বাণীপ্রিয়র জন্য শাশ্বত স্বীকারোক্তি' (সেপ্টেম্বর, ১৯৭১) :-

♣প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- বিশ্বজ্ঞান পৃথ্বীশ গঙ্গোপাধ্যায়। 
♣উৎসর্গ :- 'কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতির উদ্দেশ্যে'।

¤ ৩) 'যুগলবন্দী' (আগস্ট, ১৯৭২) :- 

♥প্রকাশনা :- "বেঙ্গল পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড" প্রকাশনী। 
♥প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- গৌতম রায়।
♥তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুগ্মভাবে রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
♥উৎসর্গ :- 'দুজনের প্রিয়বন্ধু সুনন্দ গুহঠাকুরতাকে'।

¤ ৪) 'সুন্দর রহস্যময়' (সেপ্টেম্বর, ১৯৮০) :-

♠প্রকাশনী :- "আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড" প্রকাশনী। 
♠তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের নীরদ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে একত্রে রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
♠উৎসর্গ :- 'কমলকুমার মজুমদারের স্মৃতির প্রতি'।

¤ ৫) '১০০ বছরের শ্রেষ্ঠ নিগ্রো কবিতা' (নভেম্বর, ১৯৮০) :-

♦প্রকাশনী :- "দে'জ পাবলিশিং"।
♦তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মুকুল গুহ-র সঙ্গে যুগ্মভাবে অনূদিত কাব্যগ্রন্থ। 
♦উৎসর্গ :- 'তরুণতম আফ্রো-আমেরিকান কবিদের প্রতি উৎসর্গীকৃত - সবিনয়ে, পরম ভালোবাসায়'।

★★ কাব্য-সংকলন গ্রন্থ :-
        ~~~~~
¤ ১) 'অগ্রন্থিত শক্তি চট্টোপাধ্যায়' (জানুয়ারি, ১৯৯০) :- 

♣প্রকাশনা :- "প্রতিক্ষণ পাবলিকেশনস প্রা. লি." প্রকাশনী।
♣প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- প্রকাশ কর্মকার।

★★ অনূদিত কাব্যগ্রন্থ :-
        ~~~~
¤ ১) 'ওমর খৈয়ামের রুবাই' (এপ্রিল, ১৯৬৯) :- 

♥প্রকাশনা :- "বিশ্ববাণী" প্রকাশনী। 
♥প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- অমর পাল। 
♥তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অনূদিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। 
♥উৎসর্গ :- 'পদ্যমাখা পুস্তিকাটির সঙ্গে তুমি সই রুচিরা : 'রুচিরা শ্যাম প্রীতিভাজনেষু'।

¤ ২) 'কালিদাসের মেঘদূত' (ডিসেম্বর, ১৯৭২) :-

♠প্রকাশনা :- "বিশ্ববাণী" প্রকাশনী। 
♠প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- খালেদ চৌধুরী।
♠তথ্য :- এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ। 
♠উৎসর্গ :- 'বিজয়া মুখোপাধ্যায়, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায় প্রীতিভাজনেষু'।

¤ ৩) 'গালিবের কবিতা' (জানুয়ারি, ১৯৭৫) :-

♦প্রকাশনা :- "বিশ্ববাণী" প্রকাশনী।
♦প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- নীতীশ মুখোপাধ্যায়।
♦তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের আয়ান রশীদ খানের সঙ্গে যুগ্মভাবে অনূদিত কাব্যগ্রন্থ। 
উৎসর্গ :- 'রথীনদাকে' (রথীন সেনগুপ্ত)।

¤ ৪) 'পাবলো নেরুদার প্রেমের কবিতা' (জানুয়ারি, ১৯৭৬) :- 

♣প্রকাশনা :- "দে'জ পাবলিশিং"।
♣প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- পূর্ণেন্দু পত্রী।
♣উৎসর্গ :- 'গণেশদাকে' (দ্বিতীয় পর্যায়ের "কৃত্তিবাস" পত্রিকার প্রকাশক গণেশচন্দ্র দে)।

¤ ৫) 'কুমারসম্ভব কাব্য' (মে, ১৯৭৬) :- 

♥প্রকাশনা :- "বিশ্ববাণী" প্রকাশনী।
♥প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- গৌতম রায় ।
♥উৎসর্গ :- 'শ্রী পাঁচুগোপাল ভট্টাচার্য শ্রদ্ধাস্পদেষু'।

¤ ৬) 'হাইনের প্রেমের কবিতা' (জুন, ১৯৭৯) :-

♠প্রকাশনা :- "দে'জ পাবলিশিং"।
♠প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- গৌতম রায়। 
♠উৎসর্গ :- 'বিক্রমন নায়ার বন্ধুবরেষু'।

¤ ৭) 'লোরকার কবিতা' (অক্টোবর, ১৯৭৯) :- 

♦প্রকাশনা :- "দে'জ পাবলিশিং"।
♦প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- গৌতম রায় ।
♦তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অমিতাভ দাশগুপ্ত-র সঙ্গে যুগ্মভাবে অনূদিত কাব্যগ্রন্থ। 
♦উৎসর্গ :- 'বাচ্চুদাকে' (সুরজিৎ বসু)।

¤ ৮) 'কহলীল জিব্রানের শ্রেষ্ঠ কবিতা' (সেপ্টেম্বর, ১৯৮১) :-

♣প্রকাশনা :- "করুণা" প্রকাশনী ।
♣প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- খালেদ চৌধুরী।
♣তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মুকুল গুহ-র সঙ্গে যুগ্মভাবে অনূদিত কাব্যগ্রন্থ।

¤ ৯) 'প্রীতীশ নন্দীর কবিতা' (নভেম্বর, ১৯৮১) :- 

♥প্রকাশনা :- "আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড" প্রকাশনী। 
♥প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- অমিয় ভট্টাচার্য।
♥উৎসর্গ :- 'সুভাষ মুখোপাধ্যায় শ্রদ্ধাস্পদেষু'।

¤ ১০) 'মায়াকোভ্‌স্কির শ্রেষ্ঠ কবিতা' (ডিসেম্বর, ১৯৮১) :-

♠প্রকাশনা :- "দে'জ পাবলিশিং"।
♠প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- সমরজিৎ।
♠তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সিদ্ধেশ্বর সেন ও মুকুল গুহ-র সঙ্গে যৌথভাবে অনূদিত কাব্যগ্রন্থ। উৎসর্গ :- 'অগ্রজ কবি-অনুবাদক সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত শতবার্ষিকী স্মরণে'।

¤ ১১) 'ডুইনো এলেজি' (এপ্রিল, ১৯৮২) :-

♦প্রকাশনা :- "দে'জ পাবলিশিং"।
♦প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- সুনীল শীল।
♦তথ্য :- এটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মুকুল গুহ-র সঙ্গে যুগ্মভাবে অনূদিত কাব্যগ্রন্থ। 
♦উৎসর্গ :- 'বুদ্ধদেব বসু চিরস্মরণীয়েষু'।

¤ ১২) 'পাবলো নেরুদার শ্রেষ্ঠ কবিতা' (এপ্রিল, ১৯৮8) :- 

♣প্রকাশনা :- "দে'জ পাবলিশিং"।
♣প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- অজয় গুপ্ত।
♣উৎসর্গ :- 'দুলুকে' (পৃথ্বীশ গঙ্গোপাধ্যায়)।

¤ ১৩) 'আমেরিকান ইণ্ডিয়ান শ্রেষ্ঠ কবিতা' (এপ্রিল, ১৯৯২) :- 

♥প্রকাশনা :- "দে'জ পাবলিশিং"।
♥প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- অজয় গুপ্ত।
♥উৎসর্গ: 'হয়ত ওখানেই আশা/শেষ আশা/আমাদের নিত্য পরম্পরা/বাঁচার/অনন্ত মহিমা অফুরন্ত/ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য/নেত্রগ্রাহ্য, প্রাণস্পর্শী/অনন্ত সম্প।'

♠ তথ্যসূত্র :- 
১) "শক্তি চট্টোপাধ্যায়-এর গ্রন্থপঞ্জী / ধর্মে আছো জিরাফেও আছো" --- সমীর সেনগুপ্ত (সম্পাদক)। 

#ধন্যবাদান্তেসৌম্যমাইতি
# অ্যাডমিন
#Success_Bangla
#তারিখ :- ০২•০৮•২০১৮

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সমস্ত উপন্যাস



♠ শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সমস্ত উপন্যাস ♠
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

¤ ১) 'কুয়োতলা' (১৯৬১) :-

♦প্রকাশনা :- 'সৃজনী' প্রকাশনী। 
♦প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- পৃথ্বীশ গঙ্গোপাধ্যায়। 
♦তথ্য :- এটি তাঁর প্রথম প্রথম উপন্যাস। 
♦উৎসর্গ :- 'শ্রীমতী বেলা রায়চৌধুরী ও শ্রীসমীর রায়চৌধুরী'।

¤ ২) 'লুসি আর্মানীর হৃদয়রহস্য' (জুন, ১৯৬৬) :-

♣প্রকাশনা :- 'বিশ্ববাণী' প্রকাশনী। 
♣প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- নিতাই ঘোষ। 
♣তথ্য :- উপন্যাসটি তিনি 'রূপচাঁদ পক্ষী' ছদ্মনামে রচনা করেন। 
♣উৎসর্গ :- 'যার মুখের কথায় উপন্যাসের হারানো পাণ্ডুলিপি ফিরে পেয়েছি সেই মুখরা মীনাক্ষী বিশ্বাসের করকমলে' (শ্রীমতি মীনাক্ষী বিশ্বাস)।

¤ ৩) 'হাই সোসাইটি' (অক্টোবর, ১৯৬৮) :-

♥প্রকাশনা :- 'মণ্ডল বুক হাউস' প্রকাশনী। 
♥প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- গণেশ বসু। 
♥উৎসর্গ :- 'ডাক্তারভাই আর দিদির হাতে' (ডঃ সুনীল দত্ত ও শ্রীমতী গায়ত্রী দত্ত)।

¤ ৪) 'অবনী বাড়ি আছো?' (আগস্ট, ১৯৭৩) :-

♠প্রকাশনা :- 'আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড' প্রকাশনী। 
♠প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- সুধীর মৈত্র। 
♠উৎসর্গ :- 'সুভাষ মুখোপাধ্যায় শ্রদ্ধাস্পদেষু'।

¤ ৫) 'দুজন একাকী' (আগস্ট, ১৯৭৪) :-

♦প্রকাশনা :- 'পূর্ণ' প্রকাশনী। 
♦প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- শচীন বিশ্বাস।
♦উৎসর্গ :- 'নিখিলকে' (শ্রীনিখিল মুখোপাধ্যায়)।

¤ ৬) 'হৃদয়পুর' (আগস্ট, ১৯৭৪) :-

♣প্রকাশনা :- 'রামায়ণী প্রকাশ ভবন' প্রকাশনী। 
♣প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- গৌতম রায় । 
♣উৎসর্গ :- 'নন্দিতা শ্যামলেন্দুকে' (শ্রীমতি নন্দিতা মুখোপাধ্যায় ও শ্রীশ্যামলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়)।

¤ ৭) 'আমি চলে যাচ্ছি' (আগস্ট, ১৯৭৬) :-

♥প্রকাশনা :- 'শৈব্যা পুস্তকালয়' প্রকাশনী। 
♥প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- গৌতম রায়। 
♥উৎসর্গ :- 'মিনতি ও তারাপদর জন্যে' (শ্রীমতি মিনতি রায় ও শ্রীতারাপদ রায়)।

¤ ৮) 'কিন্নর কিন্নরী' (মে, ১৯৭৭) :-

♠প্রকাশনা :- 'বিশ্ববাণী' প্রকাশনী। 
♠প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- পূর্ণেন্দু পত্রী। 
♠তথ্য :- এটি তাঁর আত্মজীবনী মূলক উপন্যাস। 
♠উৎসর্গ :- 'শান্তি আর খুকুকে' (শ্রীশান্তি লাহিড়ী ও শ্রীমতী রীতা লাহিড়ী)।

¤ ৯) 'দাঁড়াবার জায়গা' (মে, ১৯৮৬) :-

♦প্রকাশনা :- 'আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড' প্রকাশনী। 
♦প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়। 
♦উৎসর্গ :- 'ঊষা আর বিটুকে' (শ্রীমতি ঊষা বসাক ও ডঃ শম্ভুলাল বসাক)।

¤ ১০) 'বিবি-কাহিনী' (আগস্ট, ১৯৮৬) :-

♣প্রকাশনা :- 'জগদ্ধাত্রী পাবলিশার্স' প্রকাশনী। 
♣প্রচ্ছদ অঙ্কন করেন --- গৌতম রায় । 
♣তথ্য :- এটি তাঁর শেষ প্রকাশিত উপন্যাস। 
♣উৎসর্গ :- 'মায়া আর সমীরকে' (শ্রীমতি মায়া সেনগুপ্ত ও শ্রীসমীর সেনগুপ্ত)।

♥ তথ্যসূত্র :- 
১) "শক্তি চট্টোপাধ্যায়-এর গ্রন্থপঞ্জী / ধর্মে আছো জিরাফেও আছো" --- সমীর সেনগুপ্ত (সম্পাদক)। 

●ধন্যবাদান্তেসৌম্যমাইতি।
●অ্যাডমিন।
●Success_Bangla
●তারিখ :- ১৯•০৮•২০১৮

কবিশেখর কালিদাস রায়ের গ্রন্থতালিকা ও উৎসর্গ তালিকা



কবিশেখর কালিদাস রায়ের গ্রন্থতালিকা ও উৎসর্গ তালিকা
-------------------------------------------------------------------
কাব্যগ্রন্থঃ-
---------------
১. কুন্দ (১৯০৮)। উৎসর্গ— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২. কিশলয় (১৯১১)। উৎসর্গ:- তারকমোহন সেন।
৩. পৰ্ণপুট (১৯১৪)। উৎসর্গ— দেবকুমার রায়চৌধুরী।
৪. ব্ৰজবেণু (১৯১৫)। উৎসর্গ— মহারাজ মহিমচন্দ্ৰ নদী।
৫. বল্লৱী (১৯১৫)। উৎসর্গ- কলকাতা মেরিগোল্ড ক্লাবের সদস্যদের।
৬. ঋতুমঙ্গল (১৯১৬)। উৎসর্গ— 'সন্ধ্যাতরার কবির শ্ৰীচরণে”।
৭. পৰ্ণপুট (২য় খণ্ড, ১৯২১)। উৎসর্গ- শ্ৰীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন।
৮. ক্ষুদকুড়া (১৯২২)। উৎসর্গ- সাহিত্যের অনুজদের করকমলে।
৯. লাজাঞ্জলি (১৯২৪, দোলপূর্ণিমা)। উৎসর্গ— কৃষ্ণবিহারী গুপ্ত।
১০. রসকদম্ব (১৯২৩) । উৎসর্গ:- বন্ধু হৃষিকেশ ভট্টাচার্য।
১১. চিত্তচিন্তা (১৯২৫)। উৎসর্গ— শ্ৰীযুত যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত।
১২. আহরণী (১৯২৮)। উৎসর্গ- ড. সুশীলকুমার দে ও বন্ধুবর অমল হােম।
১৩. হৈমন্তী (১৯৩৪)। উৎসর্গ- প্রমথনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৪. বৈকালী (তারিখহীন)। উৎসর্গ- বাংলার শিক্ষকবন্ধুদের।
১৫. ব্ৰজবাঁশরী (তারিখহীন)। উৎসর্গ— বন্ধু নিবারণচন্দ্ৰ ঘোষ।
১৬. আহরণ (১৯৫০)। উৎসর্গ— যাঁরা তাকে পুস্তক উৎসর্গ করেছেন তাদেরকে।
১৭. গাথাঞ্জলি (১৯৫৭)। উৎসর্গ— অধ্যাপক অমিয়কৃষ্ণ রায়চৌধুরী।
১৮. সন্ধ্যামণি (১৯৫৮)। উৎসর্গ— বন্ধু উমানাথ ভট্টাচার্য।
১৯. দস্তারুচিকৌমুদী (১৯৬১) । উৎসর্গ - শ্রী পরিমল গোস্বামী।
২০. পূর্ণাহুতি । উৎসর্গ - কবিজায়া স্বর্গতা সুকৃতি দেবী ।
-------------------------
অনুবাদ সাহিত্যঃ-
-------------------------
১. গীতগোবিন্দ (তারিখহীন)। উৎসর্গ- অধ্যাপক খগেন্দ্ৰনাথ মিত্র।
২. গীতালহরী (তারিখহীন)। উৎসর্গ— বন্ধু অক্ষয়কুমার দত্তগুপ্ত।
৩. কাব্যে শকুন্তলা (১৯৪৬) । উৎসর্গ— পুত্রসম জগমোহন সেন।
৪. ইন্দুমতী (রঘুবংশ) (১৯৫২) । উৎসর্গ— স্নেহাস্পদ সুধীন্দ্রনাথ রায়।
৫. কুমারসম্ভব (১৯৫৩) । উৎসর্গ— আত্মীয় নলিনীরঞ্জন সেনগুপ্ত।
---------------
গদ্যগ্রন্থঃ-
--------------
১. বঙ্গসাহিত্য পরিচয় ১ম (১৯৪৯) । উৎসর্গ— তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
২. বঙ্গসাহিত্য পরিচয় ২য় (১৯৫০) । উৎসর্গ— শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
৩. বঙ্গসাহিত্য পরিচয় ৩য় (১৯৫১) । উৎসর্গ— প্রমথনাথ বিশী ।
৪. প্রাচীন বঙ্গসাহিত্য (১৯৪২) । উৎসর্গ— শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় , সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
৫. পদাবলী সাহিত্য (১৯৫৫) । উৎসর্গ— সতীশচন্দ্র ঘোষ।
৬. শরৎ-সাহিত্য ১ম (১৯৫৬) । উৎসর্গ— বনফুল, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়।
৭. শরৎ-সাহিত্য ২য় । উৎসর্গ— প্রবোধ কুমার সান্যাল , অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।
৮. 'চণকসংহিতা' (১৯৬১) । উৎসর্গ— রমাপদ চৌধুরী।
৯. চালচিত্র (১৯৬১) । উৎসর্গ— অমিতা ঘোষাল।
১০. রঙ্গচিত্র (১৯৬৩) । উৎসর্গ— আশাপূর্ণা দেবী।
-------------------------------------------------------------------
।।ধন্যবাদ ।। 
।।SUCCESS বাংলা ।।
প্রীতম চক্রবর্তী 

ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ


ঔপন্যাসিক  বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪ - ১৯৫০)
     ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর মামার বাড়ি হালিশহর কাঁচড়াপাড়ার কাছাকাছি ঘোষপাড়া মুরাতিপুর গ্রামে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন । বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতার নাম মহানন্দ মাতা মৃণালিনী দেবী । মহানন্দ এবং মৃণালিনী দেবীর দুই ছেলে এবং তিন মেয়ের মধ্যে বিভূতিভূষণই ছিলেন সবার মধ্যে বড় । বিভূতিভূষণের পিতা মহানন্দ বন্দোপাধ্যায় যজমানি এবং পূজার্চনা করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন । মহানন্দ সংস্কৃত ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন এবং কাশি থেকে শাস্ত্রী পদ লাভ করেছিলেন । বিভূতিভূষণ জানিয়েছেন বাবা-আমাকে জাগতিক অর্থে কোন অর্থ দিয়ে যেতে পারেননি । কিন্তু জীবনের পরম মূল্যবান বিত্ত সেই বিত্তে বিত্তশালী করে দিয়ে গিয়েছিলেন । পঠন পাঠন স্পৃহা দৃঢ় ভাবে জাগ্রত করে দিয়েছিলেন আমার ভিতর ।
শিক্ষাজীবন :- বিভূতিভূষণের শিক্ষাজীবন শুরু হয় গ্রামের হরি রায়ের পাঠশালায় । বনগাঁ হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন । ১৩১৮ বঙ্গাব্দে বিভূতিভূষণ যখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন তখন বিভূতিভূষণের পিতা মহানন্দ মারা যান । এই স্কুল থেকেই ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন । রিপন কলেজ থেকে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে আই এ  এবং ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে ডিস্টিংশনসহ বিএ পরীক্ষায় পাশ করেন । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন নিয়ে ভর্তি হন ।
কর্মজীবন :- ১৩২৪ বঙ্গাব্দের ৩১ শে শ্রাবণ কাশি ভূষণ মুখোপাধ্যায়ের কন্যা গৌরী দেবীর সঙ্গে বিভূতিভূষণের বিবাহ হয় । কিন্তু এক বছরের মধ্যেই গৌরী দেবী মারা যান । নিদারুণ আর্থিক সংকটে পড়ে বিভূতিভূষণ । শুরু করেন তার নিজের কর্মজীবন । বসিরহাট ছেড়ে চলে আসেন হুগলি জঙ্গিপাড়ায় । সেখানে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ৬ ফেব্রুয়ারি একটা শিক্ষকতা কর্ম শুরু করেন । সেখান থেকে চলে যান সোনারপুর এবং সোনারপুর হরিনাভি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন । ১৯২২ খ্রি: বিভূতিভূষণ চাকরি নিয়ে চলে যান পূর্ববঙ্গ । সেখানে নানা স্থান ভ্রমণ করেন । কক্সবাজার থেকে ব্রহ্মদেশে যান । ১৯২৪ সালের জানুয়ারিতে এস্টেটের সহকারী ম্যানেজার রূপে ভাগলপুর যান । এখানকার দিনগুলোর কথা ধরা আছে তার আরণ্যক উপন্যাসে । এখানে বসেই লেখেন পথের পাঁচালী । ১৯২৯ খ্রি: ডিসেম্বর মাসে বিভূতিভূষণ ভাগলপুর থেকে চলে আসেন কলকাতার ধর্মতলা স্ট্রিটের খেলাৎ চন্দ্র ঘোষ স্টেটের - "খেলাৎ চন্দ্র ক্যালকাটা ইনস্টিটিউশনে" র শিক্ষকতায় কর্মের জন্য ।
রচিত উপন্যাস সমূহ :-  
পথের পাঁচালী 
অপরাজিত 
দৃষ্টি প্রদীপ 
আরণ্যক 
আদর্শ হিন্দু হোটেল 
বিপিনের সংসার 
দুইবাড়ী 
অনুবর্তন 
দেবযান 
কেদার রাজা 
ইছামতি 
অশনিসংকেত
পথের পাঁচালী :-  বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস "পথের পাঁচালী" (১৯২৯) । এই উপন্যাসের মধ্য দিয়েই বিভূতিভূষণের বাংলা সাহিত্যের আবির্ভাব ঘটে । সত্য ও সুন্দরের সাধক বলেই "পথের পাঁচালী" উপন্যাস লিখতে পেরেছিলেন । বিভূতিভূষণ পথের পাঁচালীতে  অশিক্ষা; কুসংস্কার এর কথা বলেছেন । "পথের পাঁচালী"তে আছে সেকালের বাংলার ঘটনাবলী। ভাবুক মানুষের মতো, কবির মতো, শিশুর মতো অদেখা জগতকে লেখক বার বার দেখেছেন নিজে দৃষ্টিকোণ থেকে । আবার এরইমধ্যে উপন্যাসের ইন্দিরা ঠাকুরণ  হয়েছেন যুগ  ইতিহাসের প্রতীক । ইন্দিরা ঠাকুরণ কৌলিন্য প্রথার বলি ।
  বাংলা সাহিত্যের এক যুগান্তকারী উপন্যাস  পথের পাঁচালী । উপন্যাসটি "বিচিত্রা" পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় । ভাগলপুরে অবস্থানকালে বিভূতিভূষণ পথের পাঁচালী রচনা করেন । লেখক জানিয়েছেন গ্রাম্য চিত্রগুলি স্বগ্রাম বারাক পুর এর । আর দুর্গা চরিত্রের পরিকল্পনা করেন ভাগলপুরের এক তরুনীকে দেখে । লেখক বলেছেন পথের পাঁচালী যখন প্রথম লিখা তাতে দুর্গা চরিত্রটি ছিল না ছিল । একদিন ভাগলপুরের রঘুনন্দন হলে একটি মেয়েকে দেখি । চুলগুলি তার হাওয়ায় উড়ছে । যে আমার দৃষ্টি এবং মন দুটোই আকর্ষণ করলো । উপন্যাসের  আবার নতুন করে সংশোধিত হল । উপন্যাসের পঞ্চদশ পরিচ্ছদে দুর্গা মারা যায় । 
পথের পাঁচালী উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র হল :- হরিহর, সর্বজয়া, ইন্দিরা ঠাকুরণ, অপু এবং দুর্গা ।

অপরাজিত:-  বিভূতিভূষণের দ্বিতীয় উপন্যাস অপরাজিত । প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে । পথের পাঁচালী যেখানে শেষ সেখান থেকেই অপরাজিত উপন্যাস এর শুরু । পথের পাঁচালী র শেষে অপু অপরাজিত জীবনের সন্ধান পেতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে আর অপরাজিত তে অপু তরুণ, তবুও শৈশবের স্বপ্নকে হারায়নি । চরিত্র :- অপু, অপর্ণা , রেবা। 

দৃষ্টিপ্রদীপ :- দৃষ্টিপ্রদীপ উপন্যাসটি অনেকটা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্তর ঢঙে লেখা । প্রেম, উপাখ্যান, ব্যর্থ প্রেমের স্মৃতি, প্রকৃতি চিন্তা সবকিছু মিলিয়ে এই উপন্যাসে এটা রোমান্টিক পরিবেশ লক্ষ্য করা যায় । দৃষ্টিপ্রদীপ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে । এই উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র জিতু ও মালতী ।

আরণ্যক :- বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আরণ্যক  উপন্যাস । আরণ্যক উপন্যাস প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে । "আরণ্যক" এর আগে ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । মানুষ নয় অরণ্য এই উপন্যাসের পটভূমি রচনা করেছে । বিভূতিভূষণ বলেছেন যতদিন আমি বন জমিদারের ম্যানেজ ছিলাম ততদিন জঙ্গল আমাকে বেশ কামড়াত । "আরণ্যক" উপন্যাসের পটভূমি সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয় । কুশী নদীর অপর পাড়ে এখনো দিগন্তবিস্তৃত অরণ্য আছে এবং পূর্বেও  ছিল । পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন-  "বিভূতিভূষণ আজ থেকে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি আগে "উন্নতি" সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্ন তুলেছিলেন এই উপন্যাসে । আমাদের এখানে সবুজ আন্দোলনের তিনিই প্রথম অভিযাত্রী । "আরণ্যক" ঐ প্রচলিত উন্নতির তীব্র প্রতিবাদ" ।
আরণ্যক উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গুলো হল সত্যচরণ , দোবরু পান্না, ভানুমতি, যুগলপ্রসাদ ।

আদর্শ হিন্দু হোটেল :- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে । উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে রানাঘাটের হোটেলকে কেন্দ্র করে । উপন্যাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে হল পদ্ম এবং হাজারী ঠাকুর ।

বিপিনের সংসার :- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে । উপন্যাসে বিপিনের জীবনকে দুজন বিবাহিত নারী কতখানি প্রভাবিত করেছে তা বিবৃত হয়েছে । এই উপন্যাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বিপিন, শান্তি, মানী, বিনা , পটল  বিশ্বেশ্বর ।

দুই বাড়ি :- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে । উপন্যাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল নিধিরাম মোক্তার, মঞ্জুরি, এবং হৈম ।

অনুবর্তন :- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯৪১ সালে । বিভূতিভূষণের শিক্ষার জীবনের অভিজ্ঞতা এই উপন্যাসে ধরা পড়েছে । শিক্ষকদের দুর্দশা ও সামাজিক অবস্থার উপন্যাসে যথাযথভাবে চিত্রিত হয়েছে ।

দেবযান :- দেবযান উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে। চরিত্র : যতীন,  পুষ্প,  আশা ।

ইছামতি :- "ইছামতি" উপন্যাস ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয় । এই উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন । ইছামতির তীরের জনজীবন এবং ইতিহাস এই উপন্যাসের বিষয় । ইছামতী উপন্যাসে জীবনের প্রবহমানতা প্রতীক হয়ে এসেছে । ইছামতী এক কূল ভাঙে অন্যকূল গড়ে, জীবনের প্রবহমানতা তেমনই । উপন্যাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ভবানী বাড়ুজ্জে,  রাজা রাম, নিস্তারিণী, গয়ামেম ।

অশনি সংকেত :- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে । ইছামতীর ধারা সেই জীবন প্রবাহ নদীর গতিপথে বাধা থাকেনি, মহাসমুদ্রে গিয়ে মিশেছে । দ্বন্দ্ব সঙ্ঘাতময় জীবনের ছবি এখানে প্রতিফলিত হয়েছে ।
চরিত্র : গঙ্গা চরন চক্রবর্তী,  কাপালি বউ
চট্টোপাধ্যায় ।

আলোচক:  সঞ্জিতকুমার মাহাতো।
■ তথ্যঋণ
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত : অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ।
২) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : তপন কুমার চট্টোপাধ্যায় 

নরেন্দ্রনাথ মিত্র



নরেন্দ্রনাথ মিত্র (মৃত্যু- ১৪ই সেপ্টেম্বর ,১৯৭৫) :-

     নরেন্দ্রনাথ মিত্রের সাহিত্যিক হয়ে ওঠার নেপথ্যে যাঁদের অব্দান আছে তারা হলেন -
১. বাবা মহেন্দ্রনাথ মিত্র ("সবচেয়ে জীবন্ত প্রাণ পুরুষ ছিলেন আমার বাবা। এমন পুরুষ মূর্তি আমি আর জীবনে দেখিনি। তিনি একাধারে ছিলেন বৈষয়িক ও শিল্পরসিক।")
২. ঠাকুরমা (ঠাকুরমার কাছেই ছোটবেলায় রূপকথা আর পারিবারিক গল্পকথা শুনেছি। তিনি আমায় "ভাই" বলে ডাকতেন।)
৩. অক্ষয় মাস্টার (আমার গৃহশিক্ষক আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। তিনি ছিলেন কীর্তনীয়া। সংস্কৃত শ্লোক আবৃত্তি করতেন। ভাবতে ভালো লাগে জীবনপ্রভাতে সেই গীতগুঞ্জিত ছেলেবেলাগুলি আমার মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে। কলমে প্রতিধ্বনিত হয়েছে )।
৪. চাকলাদার ঠাকুরদা (ইনি আমার বাবার মামা। আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। সাংসারিক জীবনে অসার্থক কিন্তু অনেক গুণ ছিল। আমার লেখক জীবনের প্রথম পর্বেই তাকে নিয়ে গল্প লিখেছি।)
৫. বড়দা বিরূপাক্ষ মিত্র ( তিনি আমাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবার কারনে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। যা আমি ডেয়েরিতে লিখে রাখতাম। সেই থেকেই আমার লেখা লিখির শুরু।)
৬. বন্ধু দিগিন্দ্রনাথ রাহা ( এর সাথেই মিলে যৌথভাবে প্রথম স্কুলে হাতে লেখা পত্রিকা "আহ্বান" প্রকাশ করি)
৭. বন্ধু নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ( "জয়যাত্রা" পত্রিকার প্রকাশ করি । আমার প্রথম কাব্য সংকলন যৌথ ভাবে "জোনাকি" র প্রকাশ।)
৮. সন্তোষ কুমার ঘোষ ( সন্তোষদা তখন দেশের সম্পাদক। তার উদ্যোগ আর অনুপ্রেরণা না থকলে আমার প্রথম উপন্যাস "হরিবংশ" প্রকাশের মুখ দেখত না।)
------------------------------
------------------------------
-----------------
নরেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পর্কে বিশিষ্ট কয়েকজনের মন্তব্য :-
১. " তরুণ লেখকদের মধ্যে এককালে তিনি দারুণ সাড়া জাগিয়েছিলেন। নিজেও তরুণ বয়সী এবং তরুণতর মহলে তাকে নিয়ে শোরগোলের অন্ত ছিল না। তার লেখায় যেমন কোন জনতোষিনী প্রতিশ্রুতি নেই, তেমনি কোন কিম্ভুত কষ্ট কল্পনাও নেই। একতা বিশ্বাস তিনি সংগোপনে লালন করতেন যা স্বাভাবিক তাই সত্য। সেই সত্যের বাইরে তিনি পা বাড়ান নি।" ------------ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
২. "চল্লিশের শেষ থেকে গোটা পঞ্চাশের দশক এবং তারপরেও নরেন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যে উত্তেজনার রেশ বজায় রাখতে পেরেছিলেন। প্রবীনত্বের সাথে সাথে তার লেখা আরো সরল, স্নিগ্ধ, বাহুল্যহীন হয়ে ওঠে। গত তিরিশ বছরে যদি এমন বাংলা ছোটগল্পের চল হয়ে থাকে যা নিরাভরণ, সহজ, জীবনের সত্য উপলব্ধির ক্ষণিক প্রকাশ - তবে নরেন্দ্রনাথই তার সৃষ্টিকর্তা।" -------------- বিমল কর (অভিনন্দ ছদ্মনামে) ।
৩. "আপনার গল্প পড়ছি আর ভাবছি, কলমকে কুর্শিকাটা কিম্বা সূচিসূক্ষ্ম করে এমন নিপুণ কারুকাজ আমার পক্ষে কোন দিন সম্ভব হবে না। ছোট দুঃখ, ছোট সুখ, আমাদের চারদিকে ছড়ানো, তাকে খুটে খুটে তুলে ধরার কী যে জাদু জানতেন আপনি !" ---------সন্তোষ কুমার ঘোষ।
------------------------------
------------------------------
-----------------------
সিনেমা নাটকে নরেন্দ্র - কাহিনী :-
১. শাস্তি
২. বিলম্বিত লয়
৩. পালঙ্ক
৪. গোধূলি
৫. হেডমাস্টার
৬. সওদাগর (রস)
৭. দূরভাষিনী
৮. সূর্যসাক্ষী
৯. মহানগর
------------------------------
------------------------------
--------------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
১.উপন্যাস
২.দ্বীপপুঞ্জ
৩.রূপমঞ্জরী
৪.অক্ষরে অক্ষরে
৫.চেনামহল
৬.দেহমন
৭.দূরভাষিণী
৮.সঙগিণী
৯.অনুরাগিণী
১০.সহৃদয়া
১১.গোধুলি
১২.শুল্কপক্ষ
১৩.চোরাবালি
১৪.তিন দিন তিন রাত্রি
১৫.পরস্পরা
১৬.জলপ্রপাত
১৭.কণ্যাকুমারী
১৮.সুখ দুঃখের ঢেউ
১৯.প্রথম তোরণ
২০.তার এক পৃথিবী
২১.সেই পথটুকু
২২.নীড়ের কথা
২৩.নতুন ভূবন
২৪.জলমাটির গন্ধ
২৫.শিখা
২৬.অনাত্মীয়া
২৭.নতুন তোরণ
২৮.সূর্যমুখী
২৯.সিঁদূরে মেঘ
৩০.নির্বাসন
গল্প সংকলনঃ-
অসমতল
হলদে বাড়ি
চড়াই-উৎরাই
বিদু্যৎলতা
সেতার
উল্টোরথ
পতাকা
কবিতা সংকলনঃ-
জোনাকি
------------------------------
আনন্দ পুরস্কার (১৯৬২)


আলোচক -- প্রীতম চক্রবর্তী

বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়



|| বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ||

     সময়টা বিশ শতকের তিনের দশক। বাংলা সাহিত্যের মধ্যগগনে বিরাজ করছেন রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্র। তাঁদের সৃষ্টিতে পাঠককুল মুগ্ধ।এর সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত ভাবনার বিপরীতে, এক পাল্টা হাওয়ার প্রবাহ নিয়ে বাংলা সাহিত্যে হাজির হলেন কল্লোল গোষ্ঠীর লেখককূল। পাঠক হল তাতে চমকিত, বিস্মিত।আর ঠিক এমনই সময়ে এই দুই ভাবনা - রীতির বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব ভঙ্গিতে মানুষ, প্রকৃতি আর ঈশ্বর ভাবনার সম্মিলিত রূপকে সহজ সরল ভাবে তুলে ধরে সাহিত্যাকাশে আবির্ভূত হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সভ্যতা ও সংস্কৃতির এক অস্থির, সংকটময় সময়ে অবস্থান করেও জগৎ ও জীবনের আনন্দময় রূপকে অনুভব করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, "জীবনকে যারা দুঃখময় বলেছে, তারা জীবনের কিছুই জানে না, জগৎটাকে দুঃখময় মনে করা নাস্তিকতা। জগৎ হল সেই আনন্দময়ের বিলাস বিভূতি" ।আজকের আলোচনা সেই মহান সাহিত্যিক কে ঘিরেই।

* জন্ম ও বংশপরিচয় :
* জন্ম:12 ই সেপ্টেম্বর 1894খ্রিস্টাব্দ। 
* জন্মস্থান :নদীয়ার ঘোষপাড়া মুরাতিপুর গ্রাম (মাতুলালয়)। 
* পৈত্রিক বাসস্থান :উ:24 পরগনার ব্যারাকপুর। 
* আদি বাসস্থান :24 পরগনার পানিতর গ্রাম। 
*পিতা-মাতা'র নাম :মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মৃনালিনী দেবী। 
*মৃত্যু : 1 লা নভেম্বর 1950 খ্রিস্টাব্দ।


* শিক্ষাজীবন 
*1914 সালে বনগ্রাম বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। 
*1916 সালে রিপন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আই. এ পাশ করেন। 
*এখান থেকেই 1918 সালে ডিস্টিংশন নিয়ে বি. এ. পাশ করেন।


*কর্মজীবন 
*কর্মজীবন শুরু স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে। শিক্ষকতা করেন জঙ্গীপাড়া, হরিনাভি, কলকাতার খেলাতচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুল এবং গোপালনগর স্কুলে। 
*এর মাঝে গোরক্ষিণী সভার ভ্রাম্যমাণ প্রচারক রূপে বাংলা, আসাম, ত্রিপুরা ও আরাকান অঞ্চলে ভ্রমণ করেন এবং পাথুরিয়াঘাটার খেলাত ঘোষ এস্টেটের অ্যাসিস্ট্যানট ম্যানেজার রূপে ভাগলপুর সার্কেলে কিছুকাল কাজ করেন। এই দুই ভিন্ন বৃত্তির অভিজ্ঞতা যথাক্রমে "অভিযাত্রিক" ও "আরণ্যক" - এ স্থান পেয়েছে।


*সাহিত্য কর্ম:
i ) উপন্যাস :
*"পথের পাঁচালী" (1929)>>>বিচিত্রা পত্রিকা >>>প্রকৃতি আর মানুষের জীবন ছবি। 
* "অপরাজিত"(1932) >>>প্রবাসী পত্রিকা >>>প্রকৃতির কোল থেকে মানুষের শহর যাত্রার ছবি। 
* "দৃষ্টিপ্রদীপ" (1935)>>> মুক্তমন আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা। 
*" আরণ্যক "(1939)>>>বিহারের অরণ্য প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং আরণ্যক মানুষের সরলতা। 
* " আদর্শ হিন্দু হোটেল" (1940)>>>হোটেল রাঁধুনীর কর্মনিষ্ঠা ও হোটেল ব্যবসা। 
*  "বিপিনের সংসার" (1941)>>>বিপিনের জীবনে বিবাহিতা দুই স্ত্রীর প্রভাব। 
*  "দুই বাড়ী" (1941)>>>দুই নারীকে কেন্দ্র করে স্বপ্নের জলছবি। 
*  "অনুবর্তন"(1942) >>>শিক্ষক সমাজের জীবন চর্চার কাহিনি। 
* " দেবযান" (1944)>>>অধ্যাত্ম চেতনা। 
*  "কেদার রাজা" (1945)>>>সিংহাসন দখলকারী রাজার বৃত্তান্ত। 
*  "অথৈ জল" (1947)>>>রাজনীতি স্পর্শী সামাজিক বিষয়। 
*  "ইছামতী" (1950)>>>প্রকৃতি, মানুষ, ঈশ্বর, নীলকর অত্যাচার। 
*  "অশনি সংকেত" (1959)>>>সংকটময় সামাজিক অবস্থা। পঞ্চাশের মন্বন্তরের কাহিনি ।

ii) গল্পগ্রন্থ:
" মেঘমল্লার" (1931),"মৌরীফুল"(1932),"যাত্রাবদল" (1934),"জন্ম ও মৃত্যু"
(1937),"কিন্নরদল"(1938),"বেনীগির ফুলবাড়ি" (1941),"নবাগত"(1944),"উপলখন্ড"(1944),"বিধু মাস্টার "(1945),"ক্ষণভঙ্গুর" (1945),"অসাধারণ" (1946),"মুখোশ ও মুখশ্রী" (1947),"নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব"(1948)'"জ্যোতিরঙ্গন"(1949),"কুশল পাহাড়ী"(1950),""রূপ হলুদ "(1957),"ছায়াছবি"(1960),"অনুসন্ধান "(1960) ।
iii) শিশু সাহিত্য :
" চাঁদের পাহাড় "(1937),"মরণের ডঙ্কা বাজে"(1940),"মিসমিদের কবজ"(1942),"তালনবমী"(1944),"হীরামাণিক জ্বলে "(1946)।

iv)দিনলিপি :
" স্মৃতির রেখা "(1941)," তৃনাঙ্কুর "(1943),"ঊর্মিমুখর"(1944),"উৎকর্ণ"(1946),"হে অরণ্য কথা কও"(1948),"বিভূতিভূষণের অপ্রকাশিত দিনলিপি "(1983)।

v)ভ্রমণ কাহিনি :
" অভিযাত্রিক" (1941),"বনে পাহাড়ে "(1945)।
vi) বিবিধ গ্রন্থ :
" বিচিত্র জগৎ"(1937),"আইভ্যানহো"(1938)," টমাস বাটার আত্মজীবনী "(1943)-এই দুটি অনুবাদ রচনা, "অভিনব বাংলা ব্যাকরণ" (1940),"আমার লেখা" (1961)-প্রবন্ধ সংকলন।

Vii)  অন্য লেখকের সঙ্গে রচনা :
"সুন্দরবনে সাত বৎসর "(1359 বঙ্গাব্দ) - ভুবনমোহন রায়ের সঙ্গে যৌথভাবে লিখিত," অনশ্বর" (1379 বঙ্গাব্দ) - গজেন্দ্রকুমার মিত্র এবং তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।


 উৎসর্গীকৃত গ্রন্থ:-
*পথের পাঁচালী >>পিতৃদেব- কে ।
*অপরাজিত >>মাতৃদেবী-কে ।
* আরণ্যক >>গৌরীদেবী-কে ।
* চাঁদের পাহাড় >>খুকু - কে ।
* আদর্শ হিন্দু হোটেল >>নুটুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় কে। 
* বিপিনের সংসার >> চারুচন্দ্র মুখোপাধ্যায় - কে ।
*দেবযান >>ষোড়শীকান্ত চট্টোপাধ্যায়-কে ।
*কেদার রাজা >>নীরদরঞ্জন দাশগুপ্ত - কে ।
* ইছামতী >>রমা বন্দ্যোপাধ্যায় - কে ।

##বিভূতিভূষণের সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ ~
*অপু, দুর্গা, সর্বজয়া, হরিহর, ইন্দির ঠাকরুণ ="পথের পাঁচালী" ।
*জিতু, সীতা = "দৃষ্টিপ্রদীপ" ।
* সত্যচরণ, ভানুমতী, মঞ্চী, কুন্তা, রাজু পাঁড়ে, গনোরি তেওয়ারী,দোবরু পান্না ="আরণ্যক" ।
*হাজারি ঠাকুর, পদ্ম =" আদর্শ হিন্দু হোটেল "। 
*নিধিরাম, মঞ্জরী, হৈম =  "দুই বাড়ি"। 
* কেদার রাজা, শরৎ = "কেদার রাজা"। 
* শশাঙ্ক  =" অথৈ জল "। 
*নীলু, বিলু, তিলু, ভবানী বাঁড়ুয্যে = "ইছামতী" ।
* গঙ্গাচরণ পন্ডিত, অনঙ্গ বউ, কাপালী-বউ = "অশনি সংকেত "। 
*ক্ষেন্তী, সহায়হরি চাটুয্যে, অন্নপূর্ণা =" পুঁইমাচা" ।
* সুনন্দা, প্রদ্যুম্ন =" মেঘমল্লার" ।
*  সুশীলা  ="মৌরীফুল "।


*বিভূতিভূষণের কাহিনির উপর নির্মিত চলচ্চিত্র এবং তার পরিচালক:-
* পথের পাঁচালী (1955)>> সত্যজিৎ রায়। 
* অপরাজিত (1956)>>সত্যজিৎ রায়। 
* অপুর সংসার (1959)>>সত্যজিৎ রায়। 
* বাক্স বদল (1970)>> নিত্যানন্দ দত্ত ।
*নিশিপদ্ম (1970)-"হিংয়ের কচুরি" অবলম্বনে নির্মিত বাংলা ছবি >>অরবিন্দ মুখার্জি। 
* অমর প্রেম (1972)-"হিংয়ের কচুরি "অবলম্বনে নির্মিত হিন্দি ছবি >>শক্তি সামন্ত। 
*নিমন্ত্রণ (1971)>> তরুণ মজুমদার। 
*অশনি সংকেত (1973)>> সত্যজিৎ রায়। 
*  ফুলেশ্বরী(1974)>>তরুণ মজুমদার। 
* আলো (2003)-" কিন্নরদল" অবলম্বনে নির্মিত ছবি >>তরুণ মজুমদার। 
*চাঁদের পাহাড় (2013)>> কমলেশ্বর মুখার্জি ।


*কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:-
*1922 সালে "প্রবাসী" পত্রিকার মাঘ(1328 বঙ্গাব্দে) সংখ্যায় প্রকাশিত হয় বিভূতিভূষণের প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' ।পাঁচুগোপাল চক্রবর্তী নামে এক বালক কবির প্ররোচনায় তিনি গল্পটি লেখেন। 
*গল্পটি পড়ে খুশি হয়ে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় এক চিঠিতে বিভূতিভূষণকে লেখেন, - "তোমার গল্পটি বড়ই মনোরম হইয়াছে। রচনা যেমন সুললিত, তেমনি প্রাঞ্জল।" 
*বিভূতিভূষণের প্রথম গল্পগ্রন্থ "মেঘমল্লার" ।
* 1935 বঙ্গাব্দের আষাঢ় সংখ্যা থেকে "বিচিত্রা" পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে তাঁর প্রথম উপন্যাস "পথের পাঁচালী" প্রকাশিত হয়। 
*1929 খ্রিস্টাব্দে "পথের পাঁচালী" প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। প্রকাশক - সজনীকান্ত দাস, রঞ্জন প্রকাশালয়। 
*রোমাঁ রোলাঁর 'Jean christophe' - এর সঙ্গে 'পথের পাঁচালী' র মিল আছে। 
*1944 সালে " পথের পাঁচালী "-ছোটদের জন্য প্রকাশিত হয়। 
*" উমারানী" গল্পের জন্য বিভূতিভূষণকে হরিনাভি স্কুল ছাড়তে হয় বলে শোনা যায়। 
* "ইছামতী" উপন্যাসের জন্য তিনি মরনোত্তর রবীন্দ্র পুরষ্কার (1951)লাভ করেন। 
* বিভূতিভূষণ সাপ্তাহিক ' চলচ্চিত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
* সুকুমার সেনের মতে - "পুঁইমাচা" গল্পটি  "পথের পাঁচালী" র বীজ। 
*"কাজল" - যা  "অপরাজিত" উপন্যাসের শেষ পর্ব - সমাপ্ত করেন তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।


*কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:-
* "বইখানা দাঁড়িয়ে আছে আপন সত্যের জোরে" - 'পথের পাঁচালী' সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ। 
*"বিভূতিভূষণ আর অপু দুই নয়, এক। তাই 'স্মৃতির রেখা' আর 'পথের পাঁচালী' একই মনের দুই প্রকাশ।"- অরুণ কুমার মুখোপাধ্যায়। 
* "আমরা শুধু দেখিলাম বিভূতিভূষণ বাংলা সাহিত্যে তাঁহার আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে নবশুচিতা ও সহৃদয়তার আমদানি করিলেন, আমরা দীর্ঘবিরোধ ও কঠিন প্রতিবাদের দ্বারা যাহা করিতে পারি নাই বিভূতিভূষণ অবলীলাক্রমে  দৃষ্টান্তের দ্বারা সাহিত্যে সেই চিরন্তন সত্যের প্রতিষ্ঠা করিয়া গেলেন।"- সজনীকান্ত দাস। 
*" বিভূতিভূষণ কেবল মাটি ও মানুষের শিল্পী নন, আকাশভরা আনন্দলোক ও ঐশী মহিমারও রূপকার। "-  অরুণ কুমার মুখোপাধ্যায়। 
*" বিভূতিভূষণের সংলাপ পড়লে কথা কানে শুনতে পাওয়া যায়, চরিত্রের বর্ণনা না থাকলেও কেবল সংলাপের গুনে চরিত্রের চেহারা চোখের সামনে ফুটে ওঠে।" - সত্যজিৎ রায়। 
*" কেউ কেউ আছেন যিনি তুচ্ছকে মহৎ করে তোলেন, বিভূতিভূষণ সে শ্রেণীর লেখক নন। তাঁর কাছে কিছুই তুচ্ছ নয় - তিনি যা কিছু দেখেছেন তা সবই পূর্ণ। "- সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় ।


তথ্যসূত্র :
* বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত - অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়। 
*বাংলা সাহিত্য পরিচয় - পার্থ চট্টোপাধ্যায়। 
* আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - তপন কুমার চট্টোপাধ্যায়। 
*কালের প্রতিমা - অরুণকুমার মুখোপাধ্যায়। 
* বাংলা উপন্যাসের কালান্তর - সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় ।
                                এবং 
                     সাকসেস বাংলা গ্রুপ।

আলোচনায়- তাপস ঘোষ, 
(বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, 
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, success বাংলা)

বাংলার মপাসাঁ : প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়


বাংলার মপাসাঁ : প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়
--------------------------------
জন্ম:---১৮৭৩ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি।
মৃত্যু--১৯৩২ সালের ৫ ই এপ্রিল।
জন্মস্থান:- বর্ধমান জেলার ধাত্রীগ্রামে
পৈতৃক নিবাস - পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার গুরাপ গ্রামে।
পিতার নাম -- জয়গোপাল মুখোপাধ্যায় ও মাতার নাম-- কাদম্বরী দেবী।
বাংলা উপন্যাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাঙালি কথাসাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়। প্রভাতকুমার বিশেষ সিদ্ধি অর্জন করেছিলেন ছোটোগল্প-রচনায়। এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের পরেই তাঁর স্থান স্বীকৃত হয়েছিল। তিনি বাস্তব পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, কিন্তু তার গভীরে প্রবেশ করেননি, এমন কথা বলা হয়ে থাকে। তবে দেশ ও বিদেশের পটভূমিকায় তিনি বহু ঘটনা ও চরিত্র এমনভাবে স্থাপিত করেছেন যাতে তারা প্রাণের স্পর্শ লাভ করেছে। সরল,অনাবিল হাস্যরসের গল্প লেখক রূপেই সমধিক প্রসিদ্ধ| কেরানি থেকে হন ব্যারিস্টার,পরে পত্রিকা সম্পাদক এবং শেষ জীবন কাটে অধ্যাপনায়| সম্পাদিত পত্রিকার নাম 'মানসী' ও' মর্মবাণী'| ১৪ বছর ধরে পত্রিকাটি সুষ্ঠভাবে চালিয়েছেন|
রবীন্দ্র সমকালের একজন ছোটগল্পকার হয়েও গল্প সাহিত্যের আকাশে তিনি স্বমহিমায় উজ্জ্বল । মূলত ছোটগল্পকার হিসাবেই তাঁর খ্যাতি। রবীন্দ্র সমকালেই তার ছোটগল্প রচনা শুরু।সমকালীন লেখক হলেও দুজনের মধ্যে পার্থক্য অনেক।রবীন্দ্রনাথ মুখ্যত কবি,প্রভাতকুমার সেখানে মূলত কথাবিদ।রবীন্দ্র
নাথের বেশিরভাগ ছোটগল্পগুলো যেখানে কল্পনাভূমিষ্ঠ ,প্রভাত কুমারের লেখা সেখানে বাস্তবসত্যে নিষ্ঠাবান।তাঁর লেখা জীবনের আত্মস্বরূপ প্রকাশ পরায়ণ।তাঁর গল্পের প্রাথমিক আবেদন গল্পের মধ্যেই।ভাবাত্মা তাঁর গল্পদেহে অনুবিষ্ঠ নয়,গল্পদেহেই তার উদ্ভব।তাঁর রচনা পরিদৃশ্যমান জীবনের পরিছন্ন অনুকৃতি।
তাঁর সম্পর্কে জগদীশ ভট্টাচার্য্য মহাশয় বলেছেন,---"উৎসমুখে আধুনিক বাংলা ছোটগল্প গঙ্গা-যমুনার যুগল ধারায় প্রবহমান রবীন্দ্রনাথ ও প্রভাত কুমার।রবীন্দ্র-কবিমানসের স্বমন্দাকিনীই ছোটগল্পে মর্ত্যভাগীরথীরূপে মানুষের আনন্দ-বেদনায় কলনাদিনী,তাই তার পাবনপ্রবাহে মৃতপুত্তলিকাও ক্ষণে ক্ষণে দেবতার অমর মহিমায় দীপ্তিমান।প্রভাত কুমারের যমুনা মৃত্যুসহোদরা কালিন্দী, তার নির্মল নীলাভ জলে পার্থিব জীবনেরই স্বমহিমছায়া প্রতিবিম্বিত।তার কূলে কূলে হৃদয়বৃন্দাবনে না প্রেমের বংশীধ্বনি ওঠে তাও জন্মমৃত্যুশাসিত মরজীবনেরই প্রাণবায়ুতে নিঃশ্বসিত। "
সমকালীন জনপ্রিয়তায় প্রভাতকুমার ' বাংলার মপাসাঁ ' বলে খ্যাত হোন। জগদীশ ভট্টাচার্য্য বলেছেন--" মপাসাঁ র মতোই প্রভাত কুমার ছোটগল্পের রূপদক্ষ শিল্পী। মপাসাঁ 'র মতোই প্রভাতকুমার জীবনের ভাষ্যকার নন,উন্মেষকার। "
সরল ও অনাবিল হাস্যরসের গল্পলেখক-রূপেই তাঁর খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা। সাধারণ আটপৌরে জীবনের লঘু ও দুর্বল দিক তাঁর গল্পে হাস্যরসচ্ছটাযোগে উপস্থাপিত। বাংলা ছোটগল্পকারদের মধ্যে তিনিই প্রথম যাঁর গল্প ইংরেজিতে অনুবাদ হয়ে বিদেশে প্রচারলাভ করেছে | তাঁর গল্পগুলি কাহিনীপ্রধান এবং সুখপাঠ্য। ছোটগল্পে তিনি যতখানি সফল, উপন্যাসে ততটা নন । তাঁর গল্পের সরসতা অনেক সময়ে প্রকাশলাভ করেছে রঙ্গ ও ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে, তাই বলে গুরুতর ও বেদনাবহ গল্প যে তাঁর নেই, তা নয়।
১৮৯৭ সালে রাধামণি দেবী ছদ্মনামে ছোটোগল্প লিখে প্রথমবারের কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন ।
গল্প সংকলন:-- প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়ের লেখা গল্পের মোট সংখ্যা হলো ১০৮ টি। এই গল্পগুলি মোট ১২ টি গল্প সংকলনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তাঁর এই গল্পসংকলন গুলো হলো--
১) ' নবকথা' (১৮৯৯)
২) 'ষোড়শী' (১৯০৬)
৩) ' দেশি ও বিলাতি'(১৯০৯)
৪) 'গল্পাঞ্জলি' (১৯১৩)
৫) ' গল্পবিথী'(১৯১৬)
৬) 'পত্রপুষ্প'(১৯১৭)
৭) 'গহনার বাক্স ও অন্যান্য গল্প'(১৯২১)
৮) 'হতাশ প্রেমিক ও অন্যান্য গল্প' (১৯২৪)
৯) 'বিলাসিনী ও অন্যান্য গল্প'(১৯২৬)
১০) 'যুবকের প্রেম ও অন্যান্য গল্প'(১৯২৮)
১১) 'নতুন বউ ও অন্যান্য গল্প'(১৯২৯)
১২) 'জামাতা বাবাজী ও অন্যান্য গল্প'(১৯৩১)
জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতাই প্রভাত কুমারের ছোটগল্পগুলোকে এক অনন্য মাত্রা দান করেছে। বাঙালি জীবনের দুঃখ সুখের জীবন দোলার ছন্দে প্রভাত কুমারের গল্পগুলো এক নতুন জীবন পেয়ে সার্থক হয়ে উঠেছে। তাঁর লেখা পড়ে অভিভূত রবি ঠাকুর এক চিঠিতে তাঁকে লিখেছিলেন --" তোমার গল্পগুলি ভারি ভালো।হাসির হাওয়ায় কল্পনার ঝোঁকে পালের উপর পাল তুলিয়া একেবারে হু হু করিয়া ছুটিয়া চলিতেছে ,কোথাও কিছুমাত্র ভার আছে বা বাধা আছে তাহা অনুভব করিবার জো নাই ।"
উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছোট গল্প:---
'দেবী'---- 'ভারতী' পত্রিকায় ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ভাদ্র সংখ্যায় গল্পটি প্রকাশিত হয়।
'বলবান জামাতা'----'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৩১৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় গল্পটি প্রকাশিত হয়।
'রসময়ীর রসিকথা'--- হাস্যরসে পরিপূর্ণ এই গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৩১৬ বঙ্গাব্দের পৌষ সংখ্যায়।
' আদরিণী' ----একটি অবোলা জীব হাতী কে নিয়ে লেখা এই গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'সাহিত্য' পত্রিকায় ১৩২০ বঙ্গাব্দের ভাদ্র সংখ্যায়।
ঔপন্যাসিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
------------------------------
প্রভাতকুমারের উপন্যাস সম্পর্কে সমালোচকেরা সাধারণত একমত যে, তাঁর ছোটোগল্পের শিল্পচাতুর্য তাঁর উপন্যাসে নেই। তিনি জীবনকে দেখেছেন উপর থেকে, জীবনের গভীরতায় প্রবেশ করেননি। তাই এতে যত ঘটনা আছে বা চরিত্র আছে, তুলনায় তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ নেই, অনেক সময়ে ধারাবাহিকতা নেই। তাঁর উপন্যাসে নাটকের গুণ আছে, উপন্যাসের সমগ্রতা অনুপস্থিত। ‘তিনি প্রথম শ্রেণীর ঔপন্যাসিক নহেন’ একথা বলেও শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বাংলা উপন্যাসে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী"।
প্রভাত কুমার মোট ১৪ টি উপন্যাস রচনা করেন।
১) 'রমাসুন্দরী'(১৯০৮)--প্ৰথম লেখা উপন্যাস। ' ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত।
২) 'নবীন সন্ন্যাসী'(১৯১২)
৩) 'রত্নদীপ'(১৯১৫)--- প্রভাত কুমারের লেখা শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
৪)' জীবনের মূল্য'(১৯১৭)
৫)'সিন্দুর কৌটা'(১৯১৯)
৬) 'মনের মানুষ'(১৯২২)
৭) 'আরতি' (১৯২৪)
৮) 'সত্যবালা '(১৯২৫)
৯) 'সুখের মিলন'(১৯২৭)
১০)'সতীর পতি'(১৯২৮)
১১)'প্রতিমা'(১৯২৯)
১২) 'বিদায় বাণী'(১৯৩৩)
১৩)'গরীব স্বামী'(১৯৩৮)
১৪) 'নবদুর্গা'(১৯৩৮)

আলোচনায় ---অমিয়তোষ ঘোষ
আলোচনা সহায়তায় গ্রন্থঋণ---
' প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প' ---জগদীশ ভট্টাচার্য