Showing posts with label ব্যাকরণ. Show all posts
Showing posts with label ব্যাকরণ. Show all posts

বাংলা ব্যাকরণ- সমাস


বাংলা ব্যাকরণ- সমাস
সমাস = সম-√অস্ + অ ( ঘঞ্ )  
** 'সমাস' শব্দের অর্থ 'সংক্ষেপ' | 
সংজ্ঞা - পরপর অর্থ সম্বন্ধ যুক্ত দুই বা ততোধিক পদ মিলিত হয়ে এক পদে পরিণত হলে ,তাকে সমাস বলে | 
যেমন - ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিত | 
সমাস সৃষ্টির শর্ত:- 
1) দুই বা তার বেশি পদের অস্তিত্ব |
2) একাধিক পদের একপদে মিলিত হওয়ার উপকরণের সহাবস্থান |
3) বক্তব্যকে সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন | 

সমাস-সম্পর্কিত কিছু বিষয়:
ক) সমস্তপদ:-- সমাস-জাত পদ অর্থাত্ একপদীকরণের ফলে উতপন্ন পদকেই সমস্তপদ / সমাসবদ্ধ পদ বলে | 
যেমন:-- গায়েহলুদ, রাজপথ, প্রতিদিন  | 
খ) পূর্বপদ ও উত্তরপদ :-  সমস্তপদের পূর্বাংশের নাম পূর্বপদ |
শেষ অংশের নাম উত্তরপদ / পরপদ | 
যেমন:- 'বীণাপাণি' সমস্ত পদটিতে 'বীণা' পূর্বপদ ও 'পাণি' পরপদ / উত্তরপদ | 
গ) সমস্যমান পদ :- যে পদগুলো মিলিত হয়ে সমস্তপদটি গঠিত হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে সমস্যমান পদ বলে | 
যেমন:- পথের রাজা ( 2 টি সমস্যমান পদ ) 
ঘ) ব্যাসবাক্য / বিগ্রহবাক্য / সমাসবাক্য :- সমস্ত পদটিকে বিশ্লেষণ করে, সমাসের অর্থটি যে বাক্য বা বাক্যাংশ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়,তাকে ব্যাসবাক্য বলে | 
যেমন:- যিনি রাজা তিনিই ঋষি , চতুঃ অঙ্গের সমাহার, জানা ও অজানা | 

::সমাসের শ্রেণীবিভাগ ::
সমাসের তিনটি প্রধান বিভাগ হল--- 
1) সংযোগমূলক সমাস :-- এই প্রকার সমাসে সমস্যমান পদগুলির দ্বারা দুই বা ততোধিক পদার্থের ( ভাবের বা বস্তুর ) সংযোগ প্রকাশ পায় | 
যেমন-- দ্বন্দ্ব সমাস  | 
2) ব্যাখ্যানমূলক / আশ্রয়মূলক সমাস ::- 
 এই প্রকার সমাসে প্রথম শব্দটি দ্বিতীয় শব্দটিকে আশ্রয় করে থাকে বা তার বিশেষণ রূপে বসে |
যেমন:- ততপুরুষ সমাস , কর্মধারয় সমাস, দ্বিগু সমাস | 
3) বর্ণনামূলক সমাস :::- সমস্যমান পদগুলি একত্রে মিলিত হয়ে অন্য কোনো ভিন্ন অর্থের প্রকাশ করে |
যেমন:- বহুব্রীহি সমাস |
সব মিলিয়ে আলোচনার সুবিধার্থে আমরা সমাসকে নিম্নলিখিত ভাবে ভাগ করে বিশ্লেষণের চেষ্টা করব ----- 
1) দ্বন্দ্ব সমাস
2) দ্বিগু সমাস
3) কর্মধারয় সমাস
4) ততপুরুষ সমাস
5) বহুব্রীহি সমাস
6) অব্যয়ীভাব সমাস
7) অলোপ/অলুক সমাস 
8) নিত্য সমাস 
9) বাক্যাশ্রয়ী সমাস | 

** বিভিন্ন সমাসে বিভিন্ন পদের অর্থপ্রাধান্য ::
ক) পূর্বপদের অর্থপ্রাধান্য = অব্যয়ীভাব সমাস
খ) পরপদের অর্থপ্রাধান্য = ততপুরুষ সমাস, কর্মধারয় সমাস, দ্বিগু সমাস | 
গ) উভয় পদের অর্থপ্রাধান্য = দ্বন্দ্ব সমাস | 
ঘ) অন্যপদের অর্থপ্রাধান্য = বহুব্রীহি সমাস | 

* দ্বন্দ্ব সমাস *
সংজ্ঞা::-- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় |
* 'দ্বন্দ্ব' শব্দের অর্থ 'জোড়া' |
** এই সমাসে ব্যাসবাক্যে সমস্যমান পদগুলি ও, এবং,আর প্রভৃতি দিয়ে যুক্ত থাকে |
** এই সমাসে যে পদটি বানানে / উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত ছোট , স্ত্রীলিঙ্গ পদ, পূজনীয় ব্যক্তি --সেটি আগে বসে | তবে ব্যতিক্রম ও আছে |
** দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত ::: -
1) বিশেষ্য-বিশেষ্য দ্বন্দ্ব -- সমস্যমান পদগুলি সব বিশেষ্য হয় |
উদাহরণ--
রবি ও শশী = রবিশশী
ভাই আর বোন = ভাইবোন
কায়, মনঃ ও বাক্য = কায়মনোবাক্য
2) বিশেষণ-বিশেষণ দ্বন্দ্ব -- এখানে একাধিক বিশেষণ , বিশেষ্যবত্ ব্যবহৃত হয় |
উদাহরণ--
হিত ও অহিত= হিতাহিত
নরম ও গরম = নরমগরম
গত ও আয়াত = গতায়াত
3) সর্বনামের দ্বন্দ্ব-- একাধিক সর্বনাম পদের একপদীকরণ হয় এখানে |
উদাহরণ--
আমি ও তুমি = আমি-তুমি
যাকে ও তাকে = যাকে-তাকে
4) ক্রিয়ার দ্বন্দ্ব-- একাধিক ক্রিয়াপদের সমাসবদ্ধ পদে রূপান্তরিত করা হয় |
উদাহরণ--
হাসি ও খেলি = হাসিখেলি
ছুঁয়ে আর ধরে = ছুঁয়েধরে
চলো ও ফেরো = চলোফেরো
5) প্রায় সমার্থক শব্দের দ্বন্দ্ব-- সমস্যমান পদগুলি প্রায়-সমার্থক হয় |
উদাহরণ--
আদর ও অভ্যর্থনা = আদর-অভ্যর্থনা
মান ও ইজ্জত= মানইজ্জত
আদব আর কায়দা = আদবকায়দা
হাসি ও ঠাট্টা = হাসিঠাট্টা
6) সমার্থক শব্দের দ্বন্দ্ব-- সমস্যমান পদগুলি পরস্পর সমার্থক হয় |
উদাহরণ--
ছাই ও ভস্ম = ছাইভস্ম
দয়া আর মায়া = দয়ামায়া
পাহাড় এবং পর্বত = পাহাড়-পর্বত
7) বিপরীতার্থক শব্দের দ্বন্দ্ব -- সমস্যমান পদগুলি পরস্পর বিপরীত অর্থ বহন করে |
উদাহরণ--
আদি ও অন্ত = আদ্যন্ত
বাঁচা আর মরা = বাঁচামরা
অগ্র ও পশ্চাত = অগ্রপশ্চাত
পাপ এবং পূণ্য = পাপ-পূণ্য
8) একশেষ দ্বন্দ্ব-- সমস্যমান পদগুলি সমাসবদ্ধ হয়ে বহুবচনান্ত একটি পদে পরিণত হয় |
উদাহরণ--
আমি, তুমি ও সে = আমরা (বহুবচন )
তুমি ও সে = তোমরা ( বহুবচন ) |

:: কর্মধারয় সমাস::
সংজ্ঞা::-- যে সমাসে পূর্বপদ পরপদের বিশেষণ রূপে বসে এবং পরপদের অর্থ ই প্রধানভাবে প্রকাশ পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে |
** 'কর্মধারয়' শব্দের অর্থ 'কর্ম' বা 'বৃত্তি' ধারণকারী |
এই সমাসে বিশেষ্য-বিশেষ্য , বিশেষণ-বিশেষণ , বিশেষণ-বিশেষ্য --- সকল পদের সংযোগে সমাস হয় |
** প্রকারভেদ --
1) সাধারণ কর্মধারয় সমাস
2) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
3) উপমান কর্মধারয় সমাস
4) উপমিত কর্মধারয় সমাস
5) রূপক কর্মধারয় সমাস

সাধারণ কর্মধারয় সমাস ::::
অ) বিশেষ্য+ বিশেষ্য :--
এখানে দুটি বিশেষ্য পদ যোগে একটি বিশেষ্যপদ ই তৈরী হবে সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে |
যেমন:--
জ্ঞাতি যিনি শত্রুও তিনি = জ্ঞাতিশত্রু
যিনি রাম তিনিই কৃষ্ণ = রামকৃষ্ণ
যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি
আ) বিশেষণ + বিশেষণ :--
এই সমাসে দুটি বিশেষণ ই একসঙ্গে একই ব্যক্তি/ বস্তু তে উপস্থিত বোঝাবে |
যেমন--
কাঁচা অথচ মিঠে = কাঁচামিঠে ( একটি ফল)
আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা ( একটি স্থান )
ই) বিশেষণ + বিশেষ্য ::-
এখানে বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ পূর্বপদ - পরপদ রূপে বসে একই ব্যক্তি / বস্তু কে প্রকাশ করে |
যেমন:-
সাধারণ যে জন = জনসাধারণ
পাণ্ডু ( খসড়া ) যে লিপি = পাণ্ডুলিপি
প্রিয় যে সখা = প্রিয়সখ
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস ::::
এই কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যে অবস্থিত পদ লোপ পায় |
যেমন:--
জীবনহানির আশঙ্কায় বীমা = জীবনবীমা
আক্ষেপ- দ্যোতক অনুরাগ = আক্ষেপানুরাগ
ছাত্র থাকাকালীন জীবন = ছাত্রজীবন
সিঁদুর রাখিবার কৌটা = সিঁদুরকৌটা
** মনে রাখার বিষয় :--
ততপুরুষ সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত বিভক্তি-স্থানীয় অনুসর্গ লোপ পায় | আর মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসে অনুসর্গ নয়, কোনো পদের লোপ ঘটবে |
 উপমান কর্মধারয় সমাস ::::
উপমানের ( যার সাথে তুলনা করা হয় ) সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের সমাসকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে |
** মনে রাখার বিষয়:-
এখানে উপমান পদটি প্রথমে বসে, তারপর সাদৃশ্যবাচক শব্দ , শেষে সাধারণ ধর্মবাচক পদ বসে |
উপমান + সাদৃশ্য বাচক শব্দ + সাধারণ ধর্মবাচক পদ = উপমান কর্মধারয় সমাস
যেমন:--
শঙ্খের ন্যায় শুভ্র = শঙ্খশুভ্র
বজ্রের মতো কঠিন = বজ্রকঠিন
আলতার মতো রাঙা = আলতারাঙা
 উপমিত কর্মধারয় সমাস :::::
উপমেয় ( যাকে তুলনা করা হয় ) -র সাথে উপমান এর যে সমাস হয় , তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে |
** মনে রাখার বিষয়:--
এই সমাসে কোনো সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না |
উপমেয় + উপমান + সাদৃশ্য বাচক শব্দ = উপমিত কর্মধারয় সমাস |
যেমন:--
নয়ন কমলের ন্যায় = নয়নকমল
অধর বিম্বের ন্যায় = বিম্বাধর
কথা অমৃতের তুল্য = কথামৃত
রূপক কর্মধারয় সমাস ::::
যে সমাসে উপমেয় ও উপমান এর মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয় , তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে |
** মনে রাখার বিষয়:--
এখানে উপমেয় আর উপমান এর মধ্যে 'রূপ' শব্দটি বসে |
উপমেয় + রূপ + উপমান = রূপক কর্মধারয় সমাস
যেমন:--
যৌবন রূপ কুসুম = যৌবনকুসুম
প্রাণ রূপ প্রবাহিণী = প্রাণপ্রবাহিণী
জীবন রূপ যুদ্ধ = জীবনযুদ্ধ
সুখ রূপ দীপ = সুখদীপ |

* বহুব্রীহি সমাস *
সংজ্ঞা:-- যে সমাসে সমস্যমান পদগূলির কোনোটির অর্থই প্রধান ভাবে না বুঝিয়ে অন্য কোনো অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় , তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে |
যেমন-- বীণা পাণিতে যাহার = বীণাপাণি ( সরস্বতী )
** 'বহুব্রীহি' = বহু ব্রীহি ( ধান ) যাহার
প্রকারভেদ::::::
1) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস :--
এই সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হয় |
এখানে উভয় পদেই শূন্য বিভক্তি থাকায় এর নাম সমানাধিকরণ |
যেমন:--
দৃঢ় প্রতিজ্ঞা যাহার= দৃঢ়প্রতিজ্ঞ
ছিন্ন হয়েছে শাখা যার = ছিন্নশাখা (বৃক্ষ)
সমান পতি যাদের= সপত্নী
ব্যতিক্রম:::
** কখনও আবার বিশেষ্যপদটি পূর্বেও বসে |
যেমন:--
লক্ষ্মী ছাড়িয়াছে যাকে= লক্ষ্মীছাড়া
বুক ফাটে যার দ্বারা= বুকফাটা ( কান্না )
স্বার্থই পর ( পরম ) যার = স্বার্থপর
** কখনও আবার দুটি পদই বিশেষ্য / পূর্বপদটি বিশেষণ ভাবাপন্ন |
যেমন:--
চন্দ্র হয়েছে শেখর যার= চন্দ্রশেখর ( শিব )
পদ্ম আসন যাহার= পদ্মাসন
নদী মাতা যাহার= নদীমাতৃক
2) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস ::::
এই বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদটি বিশেষণ নয় |
এখানে সমস্যমান পদ দুটি পৃথক বিভক্তিযুক্ত হওয়ায় এর নাম ব্যধিকরণ বহুব্রীহি |
যেমন:--
মিলন অন্তে যার= মিলনান্তক
অন্য বিষয়ে মন যার = অন্যমনস্ক
আশীতে (দন্তে) বিষ যার= আশীবিষ (সর্প)
রত্ন গর্ভে যাহার= রত্নগর্ভা
অন্তঃ (অন্তরে) অপ্ যার= অন্তরীপ
3) নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস ::::::
নঞর্থক বা নাবাচক পদের সঙ্গে বিশেষ্যপদের যে বহুব্রীহি সমাস তাকেই নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস বলে |
যেমন:---
নেই অর্থ যার = নিরর্থক
নিঃ (নাই) রদ (দন্ত) যার= নীরদ
বে (নাই) তার যাতে= বেতার
নিঃ (নাই) সহায় যার = নিঃসহায়
4) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস :::::::
ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত পদের লোপ হয় এই বহুব্রীহি সমাসে |
**এই সমাসে বেশিরভাগভাগ স্থানে উপমানের সঙ্গে সমাস হয়, তাই একে উপমানাত্মক বহুব্রীহি ও বলা হয় |
** আবার ব্যাসবাক্যটি ব্যাখ্যামূলক হওয়ায় এর অপর একটি নাম ব্যাখ্যাত্মক বহুব্রীহি সমাস |
যেমন:--
ধর্মের(আদর্শের) উদ্দেশে ঘট স্থাপন পূর্বক যে আন্দোলন= ধর্মঘট
বিম্বের ন্যায় রঞ্জিত অধর যে নারীর= বিম্বাধরী
মীনের অক্ষির মতো অক্ষি যে নারীর= মীনাক্ষী
কাঞ্চনের প্রভার ন্যায় প্রভা যার= কাঞ্চনপ্রভ
5) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস :::::
পরস্পর একজাতীয় ক্রিয়ার বিনিময় বোঝালে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস হয় |
যেমন:--
কেশে কেশে আকর্ষণ করে যে যুদ্ধ= কেশাকেশি
পরস্পরের মধ্যে আড়ি= আড়াআড়ি
পরস্পরকে জানা= জানাজানি
হেসে হেসে যে আলাপ = হাসাহাসি
6) সহার্থক বহুব্রীহি সমাস ::::::::
পূর্বপদ বিশেষ্যের সঙ্গে, সহার্থক পরপদের বহুব্রীহি সমাসকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে |
যেমন:--
শ্রদ্ধার সহিত বর্তমান= সশ্রদ্ধ
প্রতিভার সহিত বর্তমান= সপ্রতিভ
বেগের সহিত বর্তমান = সবেগ
চকিতের সহিত বর্তমান= সচকিত
** পূর্বপদ যদি বিশেষণ হয় , তবে তা সহার্থক বহুব্রীহি হয় না |
7) সংখ্যাপূর্বক বহুব্রীহি সমাস :::::::
এই বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক বিশেষণ হয় |
যেমন:--
একদিকেই চোখ যার= একচোখা
দশ আনন যার= দশানন
ত্রি নয়ন যার= ত্রিনয়ন / ত্রিনয়না (স্ত্রীবাচক)
সে (তিন) তার যার= সেতার
দুই দিকে অপ্(জল) যার= দ্বীপ |

::তৎপুরুষ সমাস::
সংজ্ঞা:- যে সমাসে পূর্বপদের কারকের বিভক্তিচিহ্ন বা বিভক্তিস্থানীয় অনুসর্গের লোপ হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান হয় , তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে |
যেমন:--
রথকে দেখা = রথদেখা
লোককে দেখানো=লোকদেখানো
* প্রকারভেদ *
1) কর্ম তৎপুরুষ সমাস ::::
এই সমাসে পূর্পদের কর্মকারকের বিভক্তিচিহ্ন ( যেমন 'কে' ) লোপ পায় |
উদাহরণ:--
লুচিকে ভাজা=লুচিভাজা
মালাকে বদল = মালাবদল
ছেলেকে ভুলানো = ছেলেভুলানো
2) করণ তৎপুরুষ সমাস :::::
এই সমাসে পূর্বপদের করণকারকের বিভক্তি ('এ', 'য়', 'তে')/ অনুসর্গ ( 'দ্বারা', 'দিয়া', 'কর্তৃক' ) লোপ পায় |
উদাহরণ--
আশা দ্বারা আহত=আশাহত
প্রথার দ্বারা বদ্ধ =প্রথাবদ্ধ
জরায় জীর্ণ=জরাজীর্ণ
3) অপাদান তৎপুরুষ সমাস ::::
এই সমাসে পূর্বপদের অপাদান কারকের বিভক্তি ('এ', 'তে' ) / অনুসর্গ ( 'হইতে', 'থেকে', 'চেয়ে' ) লোপ পায় |
উদাহরণ--
জল হইতে আতঙ্ক= জলাতঙ্ক
দল থেকে ছাড়া =দলছাড়া
মৃত্যুতে ভয়=মৃত্যুভয়
4) নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস ::::
এই সমাসে পূর্বপদের নিমিত্ত / জন্য / উদ্দেশ্য প্রভৃতি নিমিত্তবাচক অংশগুলির লোপ হয় |
উদাহরণ---
স্বদেশের জন্য প্রেম =স্বদেশপ্রেম
তীর্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা = তীর্থযাত্রা
শিশুর নিমিত্ত সাহিত্য =শিশুসাহিত্য
5) অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস ::::
এখানে পূর্বপদের অধিকরণ কারকের বিভক্তিচিহ্ন ('এ', 'য়', 'এতে' ) লোপ পায় |
উদাহরণ---
গীতায় উক্ত= গীতোক্ত
ওষ্ঠে আগত= ওষ্ঠাগত
স্বার্থে পর (আসক্ত) = স্বার্থপর
6) সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস :::::
এই সমাসে পূর্বপদের সম্বন্ধের বিভক্তিচিহ্ন ( 'র', 'এর', 'দের' ) লোপ পায় |
উদাহরণ--
বসন্তের সখা= বসন্তসখ (কোকিল)
মন্ত্রীদের সভা =মন্ত্রীসভা
রোগের রাজা =রাজরোগ
7) ব্যাপ্তার্থক তৎপুরুষ সমাস ::::
এখানে 'ব্যাপিয়া' বা বিস্তার অর্থ বোঝায় |
উদাহরণ--
চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী
চিরকাল ব্যাপিয়া সুন্দর = চিরসুন্দর
8) উপপদ তৎপুরুষ সমাস :::::
উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের সমাসকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে |
উদাহরণ--
পঙ্কে জন্মে যে =পঙ্কজ
মুখে থাকে যা =মুখস্থ
গণিত জানেন যিনি =গণিতজ্ঞ
9) নঞ তৎপুরুষ সমাস ::::
নঞ অব্যয় কে পূর্বপদ করে, উত্তরপদ বিশেষ্য বা বিশেষণের সঙ্গে এই সমাস হয় |
** উত্তরপদের প্রথমবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ হলে 'নঞ' স্থানে 'অ' হয় |
আর স্বরবর্ণ হলে 'অন্' হয় |
উদাহরণ--
আবশ্যক নয়= অনাবশ্যক
আস্থা নেই =অনাস্থা
শুভ নয় =অশুভ
স্থির নয়= অস্থির
10) অকারক তৎপুরুষ / উপকারক তৎপুরুষ সমাস ::::
এখানে 'গত', 'প্রাপ্ত', 'আপন্ন', 'আশ্রিত', 'আরূঢ়', 'অতীত' ইত্যাদি শব্দযোগে পূর্বপদের 'কে' বিভক্তিচিহ্ন লোপ পায় |
উদাহরণ---
যৌবনকে প্রাপ্ত= যৌবনপ্রাপ্ত
অশ্বে আরূঢ় =অশ্বারূঢ়
দেবকে আশ্রিত =দেবাশ্রিত

*অব্যয়ীভাব সমাস *
অব্যয়ীভাব সমাস ::::
পূর্বপদ অব্যয়ের সাথে পরপদ বিশেষ্যের যে সমাস হয় , তাকে এই সমাস বলে |
** অব্যয়ের অর্থই প্রধান এবং সমস্তপদটি অব্যয়ের ভাবপ্রাপ্ত হয় | তাই নাম অব্যয়ীভাব সমাস |
** বিভিন্ন অর্থে এই অব্যয়ীভাব সমাস হয় |
যেমন ::::
1) অভাব অর্থে----
উদাহরণ :-
ভিক্ষার অভাব= দুর্ভিক্ষ
মিলের অভাব= গরমিল
হায়ার (লজ্জার) অভাব= বেহায়া
2) সামীপ্য / নিকট অর্থে -----
উদাহরণ:--
কূলের সমীপে= উপকূল
অক্ষির সমীপে= সমক্ষ
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ
3) বীপ্সা অর্থে -----
উদাহরণ:--
জনে জনে = প্রতিজন
দিনে দিনে =প্রতিদিন
রোজ রোজ = হররোজ
4) অনতিক্রম অর্থে ----
উদাহরণ:--
শাস্ত্রকে অতিক্রম না করে= যথাশাস্ত্র
রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি
ক্রমকে অতিক্রম না করে = যথাক্রম
5) সাদৃশ্য অর্থে----
উদাহরণ:--
বনের সদৃশ= উপবন
ভাষার সদৃশ = উপভাষা
কথার সদৃশ = উপকথা
6) সীমা / ব্যাপ্তি অর্থে -----
উদাহরণ:--
আদি হইতে অন্ত পর্যন্ত= আদ্যন্ত
মৃত্যু পর্যন্ত = আমৃত্যু
বাল্য হইতে = আবাল্য
7) ক্ষুদ্রতা অর্থে -----
উদাহরণ:--
ক্ষুদ্র শাখা= প্রশাখা
ক্ষুদ্র নদী = উপনদী
ক্ষুদ্র জাতি = উপজাতি
8) যোগ্যতা অর্থে----
উদাহরণ:--
রূপের যোগ্য = অনুরূপ
গুণের যোগ্য = অনুগুণ
9) সম্মুখ অর্থে----
উদাহরণ:---
অক্ষির সম্মুখে= প্রত্যক্ষ
কূলের সম্মুখে= অনুকূল
10) পশ্চাৎ অর্থে----
উদাহরণ:--
রাগের পশ্চাৎ =অনুরাগ
গমনের পশ্চাৎ= অনুগমন
রণনের পশ্চাৎ = অনুরণন
11) বিরুদ্ধ / প্রতিবাদ অর্থে ----
উদাহরণ:--
কূলের বিরুদ্ধে = প্রতিকূল
ক্রিয়ার বিপরীতে =প্রতিক্রিয়া
পক্ষের বিরুদ্ধে = প্রতিপক্ষ
12) বিবিধ অর্থে ----
উদাহরণ:--
পিতামহের পূর্ব= প্রপিতামহ
দস্তুর অনুযায়ী = দস্তুরমতো
হীন দেবতা = উপদেবতা
মুখের অভিমুখে = সম্মুখ
আত্মাকে অধিকার করিয়া= অধ্যাত্ম

*দ্বিগু সমাস*
পূর্বপদটি যখন সংখ্যাবাচক বিশেষণ, উত্তরপদটি বিশেষ্য হয় আর সমস্তপদটির দ্বারা কোনো সমষ্টি/সমাহার বোঝায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে |
উদাহরণ::---
দুইটি গোরুর সমাহারে ক্রীত=দ্বিগু
চতুঃ (চার) অক্ষরের সমাহার= চতুরক্ষর
ত্রি প্রান্তরের সমাহার= ত্রিপ্রান্তর > তেপান্তর
সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি
সপ্ত অহ(দিন) এর সমাহার= সপ্তাহ
** দ্বিগু সমাসে সমস্তপদটি কখনও 'আ' কারান্ত , কখনও 'ঈ' কারান্ত হয় |
যেমন---
ত্রি ফলের সমাহার = ত্রিফলা
পঞ্চ বটের সমাহার = পঞ্চবটী
শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী |

* অলোপ / অলুক সমাস*
সমাসবদ্ধ পদ গঠনের পরও যে সমস্ত সমাসে , পূর্বপদের বিভক্তিচিহ্নের কোনো লোপ ঘটে না, তাকে অলোপ বা অলুক সমাস বলে |
** 'লুক' কথার অর্থ হল 'লোপ' |
যেমন--
মনের মানুষ = মনের মানুষ ( বিভক্তির লোপ হয়নি ) |
প্রকারভেদ ::::
1) অলুক দ্বন্দ্ব সমাস :::
উদাহরণ :-
চোখে ও মুখে = চোখেমুখে
আগে ও পিছে = আগেপিছে
2) অলুক তৎপুরুষ সমাস ::::
অ) অলুক করণ তৎপুরুষ সমাস :::
উদাহরণ :-
হাতে কাটা = হাতেকাটা
কলে ছাঁটা = কলেছাঁটা
আ) অলুক নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস ::::
উদাহরণ :-
ভুলের (ভুলের জন্য) মাশুল = ভুলের মাশুল
পেটের (পেটের জন্য) খোরাক = পেটের খোরাক
ই) অলুক অপাদান তৎপুরুষ সমাস ::::
উদাহরণ :-
বিদেশ থেকে আনা = বিদেশ থেকে আনা ( বিভক্তিস্থানীয় অনুসর্গ 'থেকে' অলুপ্ত থেকেছে )
চোখের (চোখের থেকে) জল = চোখের জল
ঈ) অলুক অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস ::::
উদাহরণ :--
দিনে ডাকাতি = দিনেডাকাতি
অঙ্কে কাঁচা = অঙ্কেকাঁচা
উ) অলুক সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস ::::
উদাহরণ :--
চোখের বালি = চোখের বালি
মামার বাড়ি = মামার বাড়ি
ঊ) অলুক উপপদ তৎপুরুষ সমাস ::::
উদাহরণ :--
অন্তে বাস করে যে = অন্তেবাসী
কলেজে পড়ে যে = কলেজেপড়া
3) অলুক বহুব্রীহি সমাস ::::
উদাহরণ :--
গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুস্থানে = গায়েহলুদ
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি
** এই সমাসকে 'অনুষ্ঠানবাচক বহুব্রীহি' সমাস ও বলে |

*নিত্য সমাস*
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলি নিত্য বা সর্বদাই সমাসবদ্ধ থাকে, কোনো ব্যাসবাক্য হয় না বা ব্যাসবাক্য করতে গেলে অন্য পদের প্রয়োজন হয় ,তাকে নিত্য সমাস বলে |
যেমন--
কাঁচা কলা = কাঁচকলা
এখানে 'কাঁচকলা' নিত্যসমাস, কারণ 'কাঁচকলা' একটি বিশেষ ধরণের কলা বোঝায় | তাই এর ব্যাসবাক্য কখনই 'কাঁচা যে কলা' হবে না |
অ) সর্বদাই সমাসবদ্ধ এমন নিত্যসমাস :::
উদাহরণ :--
কৃষ্ণসর্প= কৃষ্ণসর্প
দাঁড়কাক = দাঁড়কাক
আ) 'অন্য' যোগে নিত্য সমাস ::::
উদাহরণ :--
অন্য মত = মতান্তর
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
ই) 'কেবল' বা 'শুধু' যোগে নিত্য সমাস ::::::
উদাহরণ :--
কেবল শোনা = শোনামাত্র
শুধু চিহ্ন =চিহ্নমাত্র
ঈ) 'তুল্য' যোগে নিত্য সমাস :::::
উদাহরণ :---
বজ্রের তুল্য = বজ্রসন্নিভ
জবাকুসুমের তুল্য = জবাকুসুমসঙ্কাশ

*বাক্যাশ্রয়ী সমাস*
কোনো বাক্য বা বাক্যখণ্ড কে সুসংহতরূপে একটি শব্দে পরিণত করে, তাকে বিশেষ্য / বিশেষণের রূপ দিলে অথবা কোনো সমাসবদ্ধ পদকে আশ্রয় করে, একটি বাক্যের অর্থ প্রকাশ পেলে , তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে |
উদাহরণ :---
গল্পকে বলা (কর্ম তৎপুরুষ), তার প্রতিযোগিতা (সম্বন্ধ তৎপুরুষ) = গল্পবলা-প্রতিযোগিতা
সবুজকে বাঁচাও (কর্ম তৎপুরুষ) , তার জন্য কমিটি (নিমিত্ত তৎপুরুষ) = সবুজ-বাঁচাও-কমিটি

** অসংলগ্ন সমাস**
সাধারণত সমাসবদ্ধ পদকে এক মাত্রায় লেখা হয় | তবে বাংলায় কিছু সমাসবদ্ধ পদকে বিচ্ছিন্ন ভাবেও লেখা হয়ে থাকে , সেগুলিকে অসংলগ্ন সমাস বলে |
উদাহরণ :----
পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতি
চায়ের দোকান
রাজার ছেলে
রাঘব বোয়াল |

ধন্যবাদান্তে
শিউলী ঘোষ | অ্যাডমিন সাকসেস বাংলা |

বাংলা ব্যাকরণে-- কারক


                            ♦♦কারক♦♦

♦কারক-- বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের সম্পর্ককে কারক বলে।।কারককে নিম্নলিখিত কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়--

          ★ কর্তৃকারক ★

কর্তৃকারক= ক্রিয়াসম্পাদনকারী ( যে / যারা )

প্রকারভেদ ---
1) প্রযোজক কর্তা -- নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে সম্পাদন করে |
উদাহরণ -- বাবা আমাকে দিয়ে আবেদনপত্রটি লেখালেন | { বাবা }

2) প্রযোজ্য কর্তা-- প্রযোজক কর্তা যাকে দিয়ে কাজটি করায় |
উদাহরণ--  আগের উদাহরণের   'আমাকে' |

3) ঊহ্য কর্তা -- বাক্যের কর্তা যখন ঊহ্য থাকে |
উদাহরণ-- ঘটনাস্থলে ছিলাম | { আমি বা আমরা ঊহ্য কর্তা }

4) অনুক্ত কর্তা -- কর্মবাচ্য বা ভাববাচ্যের কর্তা প্রধানভাবে উক্ত না হওয়ার জন্য অনুক্ত কর্তা |
উদাহরণ--
কর্মবাচ্য-- আমার দ্বারা সাহিত্যের ইতিহাসের তথ্য মনে রাখা সম্ভব হচ্ছে না | { আমার দ্বারা }
ভাববাচ্য -- আপনার পড়াশুনা কখন ভালো হয় ? { আপনার }

5) কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা --  বাক্যে ক্রিয়ার কর্তা অনুল্লিখিত থাকলে কর্মই যখন কর্তার প্রাধান্যলাভ করে |
উদাহরণ-- ভাঙল সুখের হাট | { হাট }

6) এক ক্রিয়ার বহু কর্তা --  একাধিক কর্তা যখন একটি ক্রিয়া সম্পাদন করে |
উদাহরণ-- পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠা ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল | { সুখ, সমৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠা -- তিনটি কর্তা }

7) বহু ক্রিয়ার এক কর্তা -- একটি কর্তা যখন একাধিক ক্রিয়া সম্পাদন করে |
উদাহরণ-- চিঠিটি লিখে, খামভর্তি করে রাহুল ঘর থেকে বের হল এবং পোস্ট করে বাড়ি ফিরল | { রাহুল }

8) ব্যতিহার কর্তা -- দুটি কর্তার মাঝে পারস্পরিক ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া বোঝায় |
উদাহরণ-- রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায় | { রাজায় রাজায় }

9) সহযোগী কর্তা -- দুটি কর্তার পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ক্রিয়া সম্পাদন হয় |
উদাহরণ-- ঘর বাঁধব, তোমায়-আমায় মিলে | { তোমায় -আমায় }

10) নিরপেক্ষ কর্তা -- একই বাক্যের সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা যদি আলাদা হয়, তবে অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তাটি নিরপেক্ষ কর্তা |
উদাহরণ-- দেবাশীষ কবিতাটি  বললে প্রিয়াংকা বইটি কিনতে পারবে | { দেবাশীষ }

11) সমধাতুজ কর্তা -- অকর্মক ক্রিয়ার ধাতু আর ঐ ধাতু-নিষ্পন্ন কোনো বিশেষ্য যখন সেই ক্রিয়ার কর্তা হয় |
উদাহরণ-- পরিশ্রমের ফল নিশ্চিতভাবেই ফলবে | { ফল }

12) সাধন কর্তা -- কোনো উপকরণ যখন বাক্যের কর্তা হয় |
উদাহরণ-- ডায়েরির পুরনো পাতাগুলো স্মৃতিকে জাগায় | { ডায়েরির পুরনো পাতাগুলো }

13) বাক্যাংশ কর্তা -- সমাপিকা ক্রিয়াবিহীন পদসমষ্টি যখন বিশেষ্যের মত একটি ভাব প্রকাশ করে, তখন তা বাক্যাংশ কর্তা |
উদাহরণ-- সহজভাবে বাঁচা কখনই এই খাঁচাতে সম্ভব নয় | { সহজভাবে বাঁচা }

14) উপবাক্যীয় কর্তা -- বাক্যের বিশেষ্যধর্মী উপাদান-বাক্য কর্তৃপদ পেলে তা উপবাক্যীয় কর্তা |
উদাহরণ-- বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা | { বিপদে মোরে রক্ষা করো } |



        ★ কর্মকারক ★

কর্মকারক= কর্তা যা আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পাদন করে |
* বাক্যের ক্রিয়াকে কী/কাকে/ কোন্ টি দিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর ই কর্মকারক |
উদাহরণ-- পাখিটিকে খাঁচা থেকে মুক্তি দিলাম |  {খাঁচা}

প্রকারভেদ ---
1) মুখ্যকর্ম -- যখন কোনো সকর্মিকা ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে ( একটি প্রাণীবাচক, অপরটি বস্তুবাচক )  তখন ঐ বস্তুবাচক কর্মটি হল মুখ্যকর্ম |
উদাহরণ-- বিকাশ আমাকে একটি গোলাপ দিয়েছিল | { গোলাপ }

2) গৌণকর্ম --  উপরিউক্ত দুটি কর্মের প্রাণীবাচক কর্মটি হল গৌণকর্ম |
উদাহরণ-- উপরের বাক্যের 'আমাকে' |

3) উদ্দেশ্য কর্ম-- কিছু ক্রিয়া এমন থাকে, যেখানে কর্মের পরিপূরক হিসেবে অন্য পদ ব্যবহৃত হয় | তখন বাক্যের আসল কর্মটি হল উদ্দেশ্য কর্ম |
উদাহরণ-- ভালোলাগাকেই অনেকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করেন | { ভালোলাগাকেই }

4) বিধেয় কর্ম -- যখন ক্রিয়ার কর্মের পরিপূরক হিসেবে অন্য পদ ব্যবহৃত হয়, তখন ঐ পদটিই বিধেয় কর্ম |
উদাহরণ-- আগের বাক্যের 'ভালোবাসা' |

আরেকটি উদাহরণ --
 অর্থকেই মানুষ পরমার্থ জ্ঞান করে | { উদ্দেশ্য কর্ম -- অর্থ,  বিধেয় কর্ম -- পরমার্থ }

5) সমধাতুজ কর্ম -- বাক্যের ক্রিয়া যে ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, সেই ধাতু-নিষ্পন্ন কোনো বিশেষ্যপদ যদি ঐ ক্রিয়ার কর্ম হয়, তবে তা সমধাতুজ কর্ম |
উদাহরণ-- মেয়েটি দুষ্টুমিভরা হাসি হাসছে | { হাসি }

6) অসমাপিকা ক্রিয়ারূপ কর্ম -- যখন কোনো বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়া, ভাবপ্রকাশের অর্থে কর্মভাব পায় |
উদাহরণ-- বাঁচতে চাই, আমরা সবাই | { বাঁচতে }

7) বাক্যাংশ কর্ম -- সমাপিকা ক্রিয়াবিহীন পদসমষ্টি যখন কোনো বাক্যের ক্রিয়ার কর্মভাব প্রকাশ করে, তখন তা বাক্যাংশ কর্ম |
উদাহরণ-- যেকোনো সময় তার নাম ধরে ডাকা আমি খুব পছন্দ করি | { যেকোনো সময় তার নাম ধরে ডাকা }

8) উপবাক্যীয় কর্ম -- জটিল বাক্যের অন্তর্গত অপ্রধান উপাদান-বাক্য যখন প্রধান উপাদান-বাক্যের সকর্মিকা ক্রিয়ার কর্ম হয়, তখন তা উপবাক্যীয় কর্ম |
উদাহরণ-- সকলের মনে রাখা উচিত, সততাই একমাত্র মূলধন |  { সততাই একমাত্র মূলধন }

9) ঊহ্য কর্ম-- বাক্যে যখন কর্ম অনুল্লিখিত থাকে |
উদাহরণ-- সুব্রত অনেকক্ষণ থেকেই খোঁজ করেছিল |  { কী খোঁজ -- অনুল্লিখিত }

10) অক্ষুণ্ণ কর্ম-- কর্তৃবাচ্যের দুটি কর্ম যদি কর্মবাচ্যে অপরিবর্তিত থাকে, তবে তা অক্ষুণ্ণ কর্ম |
উদাহরণ-- তোমাকে সেদিন আমি সত্যিটাই জানিয়েছিলাম | { তোমাকে, সত্যিটাই -- অক্ষূণ্ণ কর্ম }

11) কর্মের বীপ্সা -- বাক্যে কর্মের পুনরাবৃত্তিই কর্মের বীপ্সা |
উদাহরণ-- যা যা শুনেছি, এখনও মনে রেখেছি | { যা যা}


       ★করণ কারক★

করণ কারক-- কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে , তা ই করণকারক |
** বাক্যের ক্রিয়াকে 'কার দ্বারা', 'কীসে' --- প্রশ্ন করলে যা উত্তর পাওয়া যায়, সেটাই করণকারক |
** করণ কারকে দ্বারা, দিয়া, করিয়া (করে), কর্তৃক, হইতে (হতে)-- অনুসর্গের ব্যবহার হয় |

উদাহরণ-- নৌকা করে ঘাট পার হলাম আমরা | {নৌকা করে }

প্রকারভেদ--
1) সমধাতুজ করণ-- বাক্যের ক্রিয়া যে ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, করণকারক টিও যদি একই ধাতু-নিষ্পন্ন হয়, তবে তা সমধাতুজ করণ |
উদাহরণ-- তোমার মত এমন টানে আর কেউ টানে না | { টানে }

2) যন্ত্রাত্মক করণ -- কর্তা যে ইন্দ্রিয়গোচর উপায়ের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তা যন্ত্রাত্মক করণ |
উদাহরণ-- তাঁরা সকলেই দোয়াত-কালি দিয়েই লিখতেন | { দোয়াত-কালি }

3) উপায়াত্মক করণ -- কর্তার ক্রিয়া সম্পাদনের উপায়টি যদি ইন্দ্রিয়গোচর না হয়, তবে তা উপায়াত্মক করণ |
উদাহরণ-- সর্বনাশী হৃদয় , ভালোবাসায় পূর্ণ | {ভালোবাসায় }

4) করণের বীপ্সা -- করণের পুনরাবৃত্তি |
উদাহরণ-- গানে গানে আজকের রাত্রি ভরিয়ে তোলো | {গানে গানে } |


★ অপাদান কারক  ★

অপাদান কারক -- যা থেকে কোনো ব্যক্তি বা বস্তু পতিত/ চলিত / ভীত / গৃহীত / রক্ষিত / উতপন্ন / মুক্ত / অন্তর্হিত / বঞ্চিত / বিরত  হয় , তাকে অপাদান কারক বলে |

# এই কারককে সাধারণত হইতে, থেকে অনুসর্গ যোগ থাকে |

প্রকারভেদ--
1) স্থানবাচক অপাদান-- কোনো স্থান থেকে ক্রিয়াটি সম্পাদিত হলে তা স্থানবাচক অপাদান |
উদাহরণ-- গোলাপটি হাত থেকে পড়ে গেল | { হাত থেকে }

2) কালবাচক অপাদান-- কোনো সময় থেকে ক্রিয়া সম্পাদন যখন বোঝায়, তখন তা কালবাচক অপাদান |
উদাহরণ-- জন্মদিনে সকাল থেকেই গ্রুপে দারুণ পোস্ট চলেছে | { সকাল থেকেই }

3) অবস্থানবাচক অপাদান--  কোনো অবস্থান থেকে ক্রিয়া সম্পাদন বোঝায় এই কারকে |
উদাহরণ-- বাচ্চারা ছাদ থেকে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে | { ছাদ থেকে }

** স্থানবাচক অপাদানে কর্তার স্থানচ্যুতি ঘটে |
      অবস্থানবাচক অপাদানে কর্তার স্থানচ্যুতি ঘটে না |  

4) দূরত্ববাচক অপাদান -- একটি দূরত্ব থেকে ক্রিয়া সম্পাদন হয় |
উদাহরণ-- ব্যান্ডেল রাণাঘাট থেকে অনেক দূরে | { রাণাঘাট থেকে }

5) বিকৃতিবাচক অপাদান --- বিকৃতি থেকে বা বিকৃতির মাধ্যমে ক্রিয়াটি সম্পাদিত হয় |
উদাহরণ-- দুধে ক্ষীর হয়   |  { দুধে }

6) অসমাপিকা ক্রিয়াবাচক অপাদান --
  যখন কোনো অসমাপিকা ক্রিয়া অপাদানের আকারে ক্রিয়া সম্পাদন করে , তখন এই কারক হয় |
উদাহরণ-- হঠাত্ ঝুমা বলতে বিরত হল |  { বলতে , বলা থেকে অর্থে } |


        ♦অধিকরণ কারক♦

         যে স্থানে বা সময়ে  কোনো ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় , ক্রিয়ার সেই আধার  টিই তার অধিকরণ কারক |

প্রকারভেদ---
1) স্থানাধিকরণ কারক--  যে স্থানে ক্রিয়া সম্পাদন হয় |
উদাহরণ-- বাড়িতে আমি আর ভাই আছি | { বাড়িতে }

এটি তিন প্রকার ---
** একদেশসূচক ::: সমগ্র স্থানের বদলে কোনো বিশেষ অংশে কিছুর অবস্থান বোঝায় |
উদাহরণ-- চোখের কোণে একটু হাসলে তুমি | { কোণে }

** ব্যাপ্তিসূচক ::::
  সমগ্র স্থান ব্যাপিয়া ক্রিয়া সম্পাদন বোঝায় |
উদাহরণ-- শশীর মনে দ্বন্দ্ব ছিল , কুসুমের নয় | { মনে }

** সামীপ্যসূচক :::::
    নৈকট্য বুঝিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন |
উদাহরণ-- দরজায় এত ভিড় কিসের ?  { দরজায়, দরজার কাছে বোঝাতে }

2) কালাধিকরণ-- যে সময়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয় তাই কালাধিকরণ |

এটি দুই প্রকার ---
** ক্ষণমূলক::::
অতি অল্প সময়ের মধ্যে ক্রিয়া সম্পাদন বোঝায় |
উদাহরণ-- আজ সকাল ছটায় ঘুম ভেঙেছিল | { ছটায় }

** ব্যাপ্তিমূলক-- দীর্ঘসময় ব্যাপী ক্রিয়া সম্পাদন বোঝায় |
উদাহরণ-- শীতকালে রাত বড় হয় | { শীতকালে }

3) বিষয়াধিকরণ কারক--
কোনো বিষয় বা ব্যাপার যখন ক্রিয়ার আধার হয়, তখন তা বিষয়াধিকরণ |
উদাহরণ-- মেয়েটি বুদ্ধিতে বৃহস্পতি, রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী | { বুদ্ধিতে, রূপে, গুণে }

4) অধিকরণের বীপ্সা --  ক্রিয়ার আধারের পুনরাবৃত্তি হয় এখানে |
উদাহরণ--  বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে ঘরে বেকারত্ব | { ঘরে ঘরে } |


 ♦সম্প্রদান কারক / নিমিত্ত কারক ♦

** পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষত 1989 সাল থেকে পাঠ্যসূচীতে সম্প্রদান কারকের পরিবর্তে নিমিত্তকারক চালু করেছে |
বামনদেবকে অনুসরণ করে, সম্প্রদান ও নিমিত্ত কারক কে আলাদা ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হল |

সম্প্রদান কারক -- যখন কোনো কিছু নিঃস্বার্থভাবে দান করা হয়, তখন দানের সেই পাত্রকে সম্প্রদান কারক বলে |
উদাহরণ--
দরিদ্রকে অন্ন দাও | { দরিদ্রকে}
অন্ধজনে দেহ আলো, মৃতজনে দেহো প্রাণ | { অন্ধজনে, মৃতজনে }

** কর্মকারক ও সম্প্রদান কারকের প্রভেদ -----
         # কর্মকারকে 'কী দেওয়া হচ্ছে' , সেটিই মূল কথা |
        আর সম্প্রদান কারকে 'কাকে দেওয়া হচ্ছে' , দানের সেই পবিত্র পাত্রটিই প্রধান |

     # উদাহরণ---
কর্মকারক:-- দোকানীকে টাকা দিতে হবে | { দোকানীকে, টাকা --- নিঃস্বার্থ দান নয় }

সম্প্রদান কারক:--  দেবতার নৈবেদ্য সাজাতে হবে | { দেবতার -- নিঃস্বার্থ দান }

নিমিত্ত কারক ---
          এই কারকে নিমিত্ত বা জন্য অর্থটি প্রকাশ পায় |
** ক্রিয়াপদকে 'কী জন্য' দিয়ে প্রশ্ন করলে , এই কারক টি পাওয়া যায় |
উদাহরণ--
সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে | { সকলের তরে, পরের তরে }
গ্রুপের পোস্ট সাজের জন্য নয়, কাজের জন্য | { সাজের জন্য, কাজের জন্য }
পূজার জন্য দোকানে যেতে হবে এখন |



♦অালোচক -- শিউলী ঘোষ 
(ছাত্রী-- কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়,জেলা-- নদীয়া)
 ♦অ্যাডমিন -- সাকসেস বাংলা গ্রুপ♦

শব্দার্থ পরিবর্তন

■ শব্দার্থ পরিবর্তন::-

      শব্দার্থ কী বা শব্দার্থ পরিবর্তন কি বা কাকে বলে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে সর্বপ্রথম আমাদের জেনে নেওয়া দরকার 'শব্দ' কি ? 'শব্দ' কি -----এই প্রশ্নটির উওরে আমরা যদি একথা বলি যে , মুখ থেকে নির্গত কোনো ধ্বনিই হল শব্দ তবে এ উওর যথাযথ বলে বিবেচিত হবে না । প্রকৃতপক্ষে 'শব্দ' হল অর্থবোধক ধ্বনি সমষ্টি ।অর্থাৎ  মনের ভাব প্রকাশক অর্থ থাকতে হবে ।
          আর শব্দার্থ ? 'শব্দার্থ'-কে ভাঙলে হয় শব্দ+অর্থ । অর্থ বোঝানোর জন্যই শব্দের সৃষ্টি । তবে কেবলমাত্র একটি অর্থ বোঝানোর জন্যই এক একটি শব্দের সৃষ্টি নয় | যুগে যুগে কালে কালে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথেই শব্দের অর্থেরও পরিবর্তন হয়ে চলেছে নদীর স্রোতের মতো । কখনও কখনও কোনো কোনো শব্দের অধিষ্ঠান হচ্ছে উচ্চাসনে আবার কোনো কোনো শব্দ হারিয়ে যাচ্ছে তার সীমিত গন্ডীর মধ্যে ।আবার কেউ বা মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে অজানা এক রঙিন জগতে দিচ্ছে পাড়ি আবার কেউ বা পায়ে বেড়ী পড়ে নিজ নিজ জায়গাতেই অবস্থান করছে । এভাবেই একের পর এক নানাভাবে চলছে  পরিবর্তনের নিত্যকেলি ।

■ শব্দার্থ পরিবর্তনের কারণ:-  মহাকবি কালিদাস তাঁরা "কুমারসম্ভব" কাব্যের শুরুতে বন্দনা অংশে জগতের পিতা-মাত পার্বতী পরমেশ্বর এর বন্দনা করতে গিয়ে শব্দার্থ তত্ত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।
   ''বাগার্থাবিব সংপৃক্তৌ বাগর্থ প্রতিপতয়ে
জগতঃ পিতরো বন্দে পার্বতী-পরমেশ্বরৌ ।''
--অর্থাৎ শব্দার্থ বিষয়ে জ্ঞানলাভের জন্য শব্দের সাথে অর্থ যেমন সংপৃক্ত তেমনি পরস্পর সংযুক্ত জগতের পিতা-মাতা পার্বতী পরমেশ্বরকে বন্দনা করি ।

     পরিস্থিতি,স্থান,কাল প্রভৃতি পরিবর্তনের সাথে সাথে শব্দের অর্থও পরিবর্তিত হতে শুরু করে । শব্দের অর্থের এই যে পরিবর্তন তার কারণ স্বরূপ আমরা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করতে পারি-------
  ● 1)ভৌগোলিক কারণ:::------ শব্দার্থ পরিবর্তনের প্রথম কারণ হিসাবে আমরা ভৌগোলিক কারণকে উল্লেখ করতে পারি | স্থান-কাল-ধর্ম-সমাজ-জাতি-রাষ্ট্র প্রভৃতির কালানুক্রমিক পরিবর্তনের সাথে সাথে শব্দের প্রচলিত অর্থেরও রূপ ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হচ্ছে । যেমন----- ফরাসীতে 'দরিয়া' শব্দের অর্থ 'নদী' , কিন্তু বাংলাতে এর অর্থ দাঁড়িয়েছে 'সমুদ্র' ।আবার ' শাক্' শব্দের অর্থ বলতে আমরা বুঝি গাছের পাতা বিশেষ , যা আমাদের আহার্য । কিন্তু পশ্চিম ভারতে 'শাক' বলতে বোঝায় নিরামিষ সব ধরনের খাদ্য বস্তুকে ।মূলত শুষ্ক কঠিন আবহাওয়ার জন্য হয়তো এমন পরিবর্তন ।
●3) উপকরণগত কারণ:::::-----
      কোনো উপকরণ দিয়ে কোনো বস্তু তৈরী হলে সাধারণত সেই উপকরণ থেকে প্রস্তুত বস্তুর নাম হত উপকরণ হিসাবে ।কিন্তু ধীরে ধীরে সেই উপকরণের পরিবর্তন হতে থাকলেও পুরানো নামটি থেকেই যায় । যেমন----- আগে 'যবের মন্ড'-কে 'জাউ' বলা হত ।কিন্তু বর্তমানে ফেনা ভাত বা যে কোনো চাল থেকে প্রস্তুত একটু জলসানো আঠা আঠা ভাব যুক্ত খাদ্যকেই জাউ বলা হয়ে থাকে । 'জাউ' খাবারটির মধ্যে নতুনত্ব ভাব থাকলেও তার সেই পুরাতন অর্থটিই প্রাধান্য পায় । আবার তিল থেকে প্রস্তুত এক ধরনের তরল নির্যাসকে 'তৈল' বলা হত । কিন্তু বর্তমানে সরষে , বাদাম , সূর্যমুখী বীজ , সোয়া প্রভৃতি থেকে নিস্কাষিত তরল নির্যাসকেও তৈল বলা হচ্ছে ।
●4) মানসিক বিশ্বাস ও ধর্মীয় সংস্কার ::::-----
       অনেক সময় ভালোকে গোপন করবার জন্য শব্দার্থ পরিবর্তন ঘটে থাকে । আমরা অশুভ-কুরুচিকর কিংবা ভীতি জনক শব্দ পরিহার করে ঐ শব্দের পরিপ্রেক্ষিতে একই মনের ভাব প্রকাশক অন্য আর একটি শব্দ ব্যবহার করে থাকি । যেমন ::--- কানা ছেলের নাম 'পদ্মলোচন' , আবার 'খুব ফর্সা' মেয়ের নাম কালি , ঘরে চাল ফুরিয়ে যাওয়াকে 'বাড়ন্ত' , বসন্ত হওয়াকে 'মায়ের দয়া ' ইত্যাদি ।
●5) শব্দের সংক্ষিপ্তকরণ:::----
     অনেক সময় আলস্যতা বসত উচ্চারণের সুবিধার্থে বড়ো শব্দকে ছোটো করে প্রয়োগ করা হয় ।যেমন::--'ক্ষৌরকর্ম'- কে সংক্ষেপে 'কামানো' ,'জন্তু' শব্দের মূল অর্থ 'সমস্ত জীব' বা 'প্রাণী' , কিন্তু বর্তমানে মানুষকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র পশুকে বোঝানো হচ্ছে ইত্যাদি ।

●6) আলংকারিক প্রয়োগ:::----
     শব্দে অলংকার প্রয়োগের ফলে কেবল তার সৌন্দর্য্যই বৃদ্ধি পায় না বরঞ্চ শব্দের অর্থেরও পরিবর্তন ঘটে ।যেমন::-- ব্যবসায় লোকসান হওয়াকে 'গণেশ ওল্টানো ' , দেবতাদের জন্য প্রস্তুত খাবারকে 'ভোগ' ইত্যাদি ।
■ শব্দার্থ পরিবর্তনের ধারা:::::-------
     শব্দার্থ পরিবর্তন নানা ধারায় সম্পন্ন হলেও ভাষা বিজ্ঞানীগণ মূলত পাঁচটি ধারাকে স্বীকার করেছেন | নিম্নে ঐ পাঁচটি ভাগ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো::---

●1)শব্দার্থের প্রসার বা বিস্তার:::---- শব্দের মূল অর্থ যখন তার সীমিত গন্ডী পেরিয়ে বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় , তখন সেই অর্থের প্রসার ঘটে । যেমন----- আগে 'কালি' বলতে কেবলমাত্র কালো রঙ দিয়ে তৈরি এক ধরনের তরল , যা লিখবার উপযোগী ।কিন্তু বর্তমানে কালো রঙ এর যে কোনো কিছুকেই কালি বলে ।আবার আগে তিল থেকে তৈরি নির্যাসকেই তৈল বলতো , কিন্তু বর্তমানে সরিষা , নারকেল , জলপাই প্রভৃতির নির্যাসকেও তৈল বলে ।

●2) শব্দার্থের সঙ্কোচ ::---- কোনো কোনো শব্দের অর্থ অনেকগুলো থাকা সত্বেও যদি ঐ অনেকগুলো অর্থের মধ্যে একটি মাএ অর্থের গুরুত্ব দেওয়া হয় , তখন শব্দের অর্থের সঙ্কোচ ঘটে ।যেমন ::-----'পঙ্কজ' বলতে 'পাকে জন্মে যা ' (পদ্ম , শালুক ইত্যাদি) তাকেই বোঝায় । কিন্তু বর্তমানে 'পঙ্কজ' বলতে কেবল পদ্মকেই বোঝায় । 'মহৎসব' শব্দের অর্থ মহৎ অর্থাৎ বড়ো করে যে উৎসব পালন করা হয় , কিন্তু বর্তমানে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ উৎসব মচ্ছবকে বোঝায় ।

●3) অর্থ সংশ্লেষ::----
     কোনো কোনো শব্দের অর্থের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে ধীরে ধীরে সেইসব শব্দের অর্থের এমন পরিবর্তন ঘটে চলেছে যা থেকে বর্তমানে অর্থের সঙ্গে পূর্ব প্রচলিত অর্থের মিল খুঁজে পাওয়া মুশকিল । শব্দার্থের এমন আমুল পরিবর্তনকে অর্থ সংশ্লেষ বলে ।যেমন::--- পূর্বে 'সন্দেশ'-কে 'সংবাদ' বা 'খবর'বলা হত , কিন্তু বর্তমানে ছানা থেকে তৈরি একধরনের মৃষ্টি বিশেষ ।
●4) শব্দার্থের উৎকর্ষ::----
          যদি কোনো শব্দের পূর্বের অর্থ অপেক্ষা বর্তমান অর্থ অধিকতর উন্নত পর্যায়ে পৌঁছায় তবে শব্দার্থের সেই পরিবর্তনকে শব্দার্থের উন্নতি অর্থাত্ উত্কর্ষ পর্যায়ে প্রযুক্ত হয় । যেমন::--- 'দুহীতা' শব্দের আদি অর্থ ছিল 'দোহনকারিনী' কিন্তু বর্তমান অর্থ 'কন্যা' । আবার 'থান' শব্দ বলতে আগে বোঝানো কোনো স্থান , কিন্তু বর্তমানে 'থান' শব্দের অর্থ দেবস্থানকেই বোঝায় ।

5)শব্দার্থের অপকর্ষ:::---- কোনো শব্দের অর্থ যদি পূর্বতম অপেক্ষা বর্তমানে নিম্নতর হয় অর্থাত্ অনেকটা হীন প্রকৃতির হয় , তবে তাকে শব্দার্থের অপকর্ষ বলে । যেমন ::---'ঝি' শব্দের পূর্বের অর্থ ছিল 'কন্যা' , কিন্তু বর্তমানে 'ঝি' শব্দের অর্থ 'পরিচারিকা' । 'পীরিতি' অর্থাত্ 'প্রীতি' অর্থে প্রযুক্ত । এর অর্থ 'অলৌকিক প্রেম' , কিন্তু বর্তমানে 'অবৈধ প্রেম' হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে 'পীরিতি' শব্দটি  কাজেই শব্দের অর্থের অবনতি ঘটেছে |
   

♦আলোচক--মৌমিতা বাছার♦
♦অ্যাডমিন♦Success বাংলা।♦

বাংলা ব্যকরণ


ব্যাকরণ:- পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ভাষারই নিজস্ব ব্যাকরণ রয়েছে।ব্যাকরণ হলো একটি শাস্ত্র।যে শাস্ত্র কোনো একটি ভাষাকে শুদ্ধ ও পরিশিলীত ভাবে শিখতে ও লিখতে শেখায় এবং সেই সঙ্গে ভাষাকে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে।
 * প্রাচীন ভারতে সংস্কৃত ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন পানিনি।
* ব্যাকরণ পাঠের উদ্দেশ্য:- মানুষ প্রথম যখন কথা বলতে শেখে তখন ব্যাকরণের সৃষ্টি হয়নি।পরবর্তীতে মানুষের মুখের সেই ভাষাকে ঠিক ঠাক ভাবে বুঝতে এবং তাকে বিশুদ্ধ ভাবে প্রকাশ করতে ব্যাকরণ শাস্ত্রের উদ্ভব হলো।শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ বুঝতে ও নির্নয় করতে,সঠিক বাক্য গঠনের জন্য এবং ভাষাকে বিশ্লেষণ করার জন্য ব্যাকরণের প্রয়োজন দেখা দিল।
বাংলা ব্যাকরণ:-বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনি,শব্দ, পদ,বাক্য,ধাতু শব্দের গঠন প্রভৃতি সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ,নিয়ম নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ক আলোচনার যে শাস্ত্র তারই সাধারণ নাম বাংলা ব্যাকরণ।
*ব্যাকরণ শব্দের বুৎপত্তি হলো-: বি+আ-কৃ+অনট্।বুৎপত্তিগত অর্থ হলো যা কোন কিছুকে বিশিষ্ট আকৃতি দেয়।
বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ:- 
১) 1743 খ্রি: লেখা মনোএলের ব্যাকরণ অভিধান।অভিধানটির পর্তুগীজ নাম' Vocabulari em idioma Bengalla e Portuguez.অর্থাৎ পর্তুগীজ- বাংলা ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ।এটি পর্তুগীজ ভাষায় লেখা প্রথম ব্যাকরণ।
২) 1778 সালে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারী হালহেডের 'A Grammer of the Bengal Langiage '  এ সর্বপ্রথম ধাতুতে খোদাই বাংলা অক্ষর ব্যাবহার হয়।এটি ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।
৩) 1801 সালে উইলিয়াম কেরীর " A Grammer of the Bengali Langiage প্রকাশিত হয়।এটি এগারোটি অধ্যায়ে বিভক্ত।
৪) রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর 1833 সালে প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা গদ্য ব্যাকরণ গ্রন্থ"  গৌড়ীয় ব্যাকরণ"।যদিও 1826 সালে রামমোহন ইংরেজ দের বাংলা ব্যাকরণ শিক্ষা দেবার জন্য " Bengali Grammer in English Language" রচনা করেছিলেন।
৫) মদনমোহন তর্কালংকারের " শিশুশিক্ষা" প্রথম ভাগ - 1849,দ্বিতীয় ভাগ- 1850,।
৬) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের " বর্ণপরিচয়"-1855
৭) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকারের "প্রবোধ চন্দ্রিকা"-1833
৮) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের- " ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ"- 1939
৯)  সুকুমার সেন- "ভাষার ইতিবৃত্ত"।
১০) বামনদেব চক্রবর্তীর- "উচ্চতর বাংলা ব্যাকরণ"
**************
তথ্য সূত্র:- রামেশ্বর শ , সংসদ ব্যাকরণ অভিধান,এবং উপরিউক্ত কয়েকটি গ্রন্থ ।

 আলোচক - সুশান্ত সরকার
অ্যাডমিন, সাকসেস বাংলা। 

ব্যাকরণ ও তার প্রকার ভেদ



ব্যাকরণ কী?

ভাষার সংবিধান বলা হয় ব্যাকরণকে। ব্যাকরণ শব্দটির বুৎপত্তি হয়েছে- (বি + আ + কৃ + অন)। ব্যাকরণ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ । ভাষাকে বিশ্লেষণ করাই ব্যাকরণের কাজ। বিভিন্ন ভাষাবিদ বিভিন্ন ভাবে ব্যাকরণের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
ভাষাচার্য  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে - "যে বিদ্যার দ্বারা কোনো ভাষাকে বিশ্লেষণ করিয়া তাহার স্বরূপটি আলোচিত হয় এবং ভাষার পঠনে ও লিখনে এবং তাহাতে কথোপকথনে শদ্ধরূপে তাহার প্রয়োগ করা যায়, সেই বিদ্যাকে সেই ভাষার ব্যাকরণ বলে। অথবা যে শাস্ত্রে কোন ভাষাকে বিশ্লেষণ করিয়া তাহার স্বরূপ, প্রকৃতি ও প্রয়োগনীতি বুঝাইয়া দেওয়া হয়, সেই শাস্ত্রকে বলে সেই ভাষার ব্যাকরণ।"
ডঃ সুকুমার সেনের মতে -  "কোন ভাষার উপাদান সমগ্রভাবে বিচার বিশ্লেষণ যে বিদ্যার বিষয় তাহাকে সেই ভাষার ব্যাকরণ বলে।"
অর্থাৎ আমরা বলতে পারি -- যে নিয়মে ভাষা সুন্দর, শুদ্ধ ও শৃংখলাবদ্ধ করা যায় এবং ভাষার স্বরূপ, প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায় তাকেই ব্যাকরণ বলে।
বাংলা_ব্যকরণ
ডঃ সুকুমার সেন বাংলা ব্যকরণের সংজ্ঞা দিয়েছেন-  "যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতির বিচার ও বিশ্লেষণ এবং যে শাস্ত্রে জ্ঞান থাকলে বাংলা ভাষা শুদ্ধরূপে বলতে, লিখতে ও শিখতে পারা যায় তাকে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংক্ষেপে বাংলা ব্যাকরণ বলে।"
জ্যোতিভূষণ চাকী বলেছেন-  "যে ব্যাকরণ বাংলাভাষার ধ্বনি, শব্দ, পদ ও বাক্য ইত্যাদির বিশ্লেষণ করে ভাষার স্বরূপটিকে তুলে ধরে তাকেই আমরা বাংলা ব্যাকরণ বলতে পারি।"
অর্থাৎ যে নিয়মের মাধ্যমে বাংলাভাষাকে সুন্দর, শুদ্ধ ও শৃংখলাবদ্ধ করা যায় সেই নিয়মকেই আমরা বাংলা ব্যাকরণ বলি।
ব্যাকরণের প্রকারভেদ:
ব্যাকরণ প্রধাণত চার প্রকার।
১) বর্ণনাত্মক ব্যাকরণ
২) ঐতিহাসিক ব্যাকরণ
৩) তুলনামূলক ব্যাকরণ
৪) দার্শনিক বিচারমূলক ব্যাকরণ।
# বর্ণনাত্মক ব্যাকরণ: বিশেষ কোনো কালের কোনো একটি ভাষার রীতি ও প্রয়োগ বর্ণনা করা এর বিষয় এবং সে বিশেষ কালের ভাষা যথাযথ ব্যবহার করতে সাহায্য করা এর উদ্দেশ্য।
ঐতিহাসিক ব্যাকরণ: আধুনিক বা কোনো নির্দিষ্ট যুগের ভাষাগত প্রয়োগরীতি আলোচনা করে আলোচ্য ভাষার রূপটির বিকাশের ইতিহাস পর্যালোচনা করা এর লক্ষ্য।
তুলনামূলক ব্যাকরণ: যে শ্রেণীর ব্যাকরণ কোনো বিশেষ কালের বিভিন্ন ভাষার গঠন, প্রয়োগরীতি ইত্যাদির তুলনামূলক আলোচনা করে থাকে, তা-ই তুলনামূলক ব্যাকরণ।
দার্শনিক বিচারমূলক ব্যাকরণ: ভাষায় অন্তর্নিহিত চিন্তা প্রণালীটি আবিষ্কার ও অবলম্বন করে সাধারণভাবে কিংবা বিশেষভাবে ভাষার রূপের উৎপত্তি ও বিবর্তন কীভাবে ঘটে থাকে, তার বিচার করা এর পর্যায়ভুক্ত।।

আলোচক - সুশান্ত কর্মকার।
অ্যাডমিন, সাকসেস বাংলা
To see the original Post Click Here