Showing posts with label চর্যাপদ. Show all posts
Showing posts with label চর্যাপদ. Show all posts

চর্যাপদ



|| চর্যাপদ ||
● ভূমিকা:- প্রাচীন বাংলা ভাষা যখন অপভ্রংশের জঠর থেকে জন্মগ্রহণ করেছে সেই সময় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে মধ্যে বাংলা সাহিত্যের ঊষালগ্নে ২৩/২৪ জন কবির কন্ঠে আমরা শুনেছি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের সাধনতত্বের গান-" চর্যাপদ ", বাংলা কাব্য সৃষ্টি প্রচেষ্টার যা প্রাচীনতম নিদর্শন।
● আবিষ্কার:- ১৯১১ সালে প্রকাশিত দীনেশচন্দ্র সেনের The History of Bengali Language and Literature" এ বাংলা সাহিত্যের আদি পর্বে বৌদ্ধ প্রভাবের কথা উল্লিখিত হলেও তাঁর আলোচনা প্রধানত গোপীচন্দ্রের গান,ডাক,খনার বচন ইত্যাদি কতগুলি লৌকিক উপাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় বাংলার বাইরে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে।রাজেন্দ্রলাল মিত্র নেপালে গিয়ে সংস্কৃত ভাষায় রচিত বিভিন্ন বৌদ্ধ পুঁথির সন্ধান করে ১৮৮২ সালে" Sanskrit Buddhist Literature in Nepal" নামে একটি পুঁথির তালিকা প্রকাশ করেন।রাজেন্দ্রলাল মিত্রের মৃত্যুর পর বাংলা - বিহার- আসাম- উড়িষ্যার পুঁথি সন্ধান ও সংগ্রহের দায়িত্ব পান হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়। উপকরণ সংগ্রহের জন্য তিনি১৮৯৭-১৮৯৮ সালে দুবার নেপালে গিয়ে কতগুলো সংস্কৃত পুঁথি সংগ্রহ করে আনেন এবং ১৯০৭ সালে তৃতীয়বার নেপালে আরোও কিছু পুঁথি আবিষ্কার করেন।এই আবিষ্কৃত পুঁথিগুলির মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চই,সরহপাদের দোহা,অদ্বয়বজ্রের সংস্কৃতি রচিত সহজাম্নায়ন পঞ্জিকা নামক টীকা এবং কৃষ্ণাচার্যের দোহা ও আচার্য পাদের সংস্কৃতে রচিত " মেখলা" নামক টীকার পুঁথিগুলিকে প্রাচীন বাংলায় রচিত বলে মনে করেন।
● প্রকাশ কাল:- ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে  " হাজার বছরের বৌদ্ধ গান ও দোহা " নামে গ্রন্থটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রি মহাশয় প্রকাশ করেন। বাংলা ১৩২৩ বঙ্গাব্দে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে যে গ্রন্থ ছিল তা হলো চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা, ডাকার্নব।
●রচনার কারণ:-  পাল যুগে বৌদ্ধ - ব্রাক্ষ্মন্য সহবস্থানের পর সেনযুগে বৌদ্ধ- ব্রাক্ষ্মন্য সংঘর্ষে সংকটাপন্ন এক ক্রান্তিকালে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা বৌদ্ধ ধর্মের গূহ্যসাধন পদ্ধতিকে লোকচক্ষুর অন্তরালে সংরক্ষণের তাগিদ অনুভব করেন।সেই তাগিদ ও গুরুপরম্পরা সেই সাধন পদ্ধতির আত্তিকরনের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ভাষায় চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
● পুঁথি পরিচয়:-¤ হরপ্রসাদ শাস্ত্রি মহাশয় প্রকাশের সময় এই পুঁথির নাম দিয়েছিলেন "চর্য্যাচর্যবিনিশ্চয়" ।
¤ পুথিটির প্রথম পত্রের সম্মুখ পৃষ্ঠায় নাগরী হরফে "চর্য্যাচর্য্যটীকা" কথাটি লেখা আছে।
¤পুথিটি তালপাতায় প্রাচীন বাংলা হরফে লেখা।
¤শেষ পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬৯।
¤ ৩৫,৩৬,৩৭,৩৮,৫৬ সংখ্যক পৃষ্ঠা নেই।
¤ত্রয়োদশ শতকের শেষের দিকে বা চতুর্দশ শতকের গোড়ার দিকে পুথিটি লিখিত।
¤ পুথির শুরু নমঃ শ্রীবজ্রযোগিন্যৈ শব্দ দিয়ে।
¤কাআ তরুবর" নামক পদটি প্রথম পদ।
¤পুথিতে গানের সংখ্যা পঞ্চাশটি হলেও ২৩ সংখ্যক গানের ছয়টি চরণ ছাড়া ২৪,২৫,৪৮ সংখ্যক গান সম্পূর্ণ লুপ্ত।প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ছেচল্লিশ টি।
¤ পদগুলো সাধারণত দশলাইনের,এর ব্যতিক্রম আছে।
¤ চর্যার পুথির সম্মুখ পৃষ্ঠায় ৭৪১ সংবৎ তারিখটি লেখা ছিল।

● পুঁথির নামকরণ:- ¤তিব্বতী ভাষায়" চর্যা" কথাটি সংস্কৃত আচার( অর্থাৎ আচরণ শব্দের সমার্থক। চর্যা কথাটি Study পাঠ বা অধ্যয়ন অর্থে ব্যাবহার করেছিলেন।ম্যাক্সমুলার " প্রজ্ঞাপারমিতা হৃদয়সূত্র" গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদে আবার হেবজ্রতন্ত্রে "চর্যা" অর্থে যথাক্রমে যোগীর আচার ব্যবহার।
¤হরপ্রসাদ শাস্ত্রী গ্রন্থটির নাম দেন চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়।
¤বিধুশেখর ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী) তাঁর Indian Historical Quarterly " তে মন্তব্য করেছেন গ্রন্থের শুদ্ধ নাম হবে" আশ্চর্যচর্যাচয়" কারণ নির্মলগিরা টীকার বস্তু নির্দেশক শ্লোকে এই নামটি রয়েছে। 
¤ প্রবোধচন্দ্র বাগচী " Calcutta Oriental Journal" এ মন্তব্য করেছেন এর নাম হবে " চর্যাশ্চয়বিনিশ্চয়"।কারণ নেপালী পুঁথিতে এই নাম রয়েছে।
¤ সুকুমার সেন অনুমান করেছেন এর নাম ছিল" চর্যাগীতিকোষ"।
¤ জাহ্নবী কুমার চক্রবর্তী " চর্যাগীতিকোষ"নামকে যুক্তিসঙ্গত মনে করেন।
¤ ডঃ অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় " চর্যাচর্যবিনিশ্চয়" নামটি গ্রহণ করার পক্ষপাতী।

● রচনাকাল:- 
¤ ভাষাতাত্বিক সুনীতিকুমারের মতে দশম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগের মধ্যে চর্যাগান রচিত হয়েছিল।আদি সিদ্ধাচার্য লুইপাদ ও কাহ্নপাদের সময়কাল ধরে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
¤রাহুল সাংকৃত্যায়ন মনে করেন আদি সিদ্ধাচার্য সরহপাদ।
¤মহম্মদ শহীদুল্লাহ তিব্বতী ঐতিহ্য অনুসারে শবরপাদকে আদিসিদ্ধাচার্য বলেছেন।
¤(১০০০-১২০০) খ্রি: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতকেই সকলে স্বীকার করে নিয়েছেন।

● পদ ও পদকর্তা:- চর্যাপদের ২৩/২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।চর্যার পদকারদের " পাদ" শব্দটি প্রথমত পদবী অর্থে এবং সম্মান জ্ঞাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
¤ লুইপাদ রচিত পদের সংখ্যা  ২ টি।
¤ কুক্করীপাদ ৩।
¤ বিরুআপাদ ১।
¤ গুড়রীপাদ ১।
¤চাটিল ১।
¤ভুসুকুপাদ ৮।
¤কাহ্নপাদ১৩/১২।
¤কমলিপাদ ১।
¤ডোম্বিপাদ ১।
¤শান্তি ২।
¤ মহিন্ডা ১।
¤বীনাপাদ ১।
¤সরহপাদ ৪।
¤ শবরপাদ ২।
¤ আজদেব ১।
¤ টেন্টনপা ১।
¤দারিক ১।
¤ভাদে ১।
¤ তাড়ক ১।
¤কঙ্কন ১।
¤জঅনন্দি ১।
¤ধাম ১।
¤ তন্ত্রীপাদ ১।

● টীকাকার:- 
¤ চর্যার সংস্কৃত টীকা রচনা করেছেন মুনিদত্ত।তিনি লুইপাদ কে আদি সিদ্ধাচার্য বলেছেন।
¤চর্যার টীকার তিব্বতী অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ডঃ প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতী অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

● চর্যার ভাষা:- চর্যার ভাষা হচ্ছে সংকেতের ভাষা।হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয়ের মতে এজন্যই তার নাম সন্ধ্যা ভাষা।তাঁর মতে এই ভাষা -" আলো আঁধারি ভাষা,কতক আলো ,কতক অন্ধকার।"
¤ তিব্বতী ভাষায় সন্ধ্যা ভাষার অর্থ প্রহেলিকা চ্ছলে উক্ত দূরহ তত্ত্বের ব্যাখ্যা।
¤ ম্যাক্সমুলার সন্ধ্যা শব্দটিকে  প্রচ্ছন্ন অর্থে গ্রহণ করেছেন।


তথ্য সূত্র:- চর্যাপদ- ডঃ নির্মল দাশ।
আলোচনায়: সুশান্ত সরকার।
Success বাংলা, অ্যাডমিন

প্রশ্নোত্তরে চর্যাপদ

সাকসেস বাংলার চর্যাপদ আলোচনার প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: চর্যাপদ এর প্রথম পদটির রচয়িতা কে?
উঃ লুই পাদ
প্রশ্ন: .চর্যাপদ কে কবে কোথা থেকে আবিস্কার করেন
উত্:হ রপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে, নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে।
প্রশ্ন: চর্যাপদ কার সম্পাদনায় কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
উঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ১৯১৬ খ্রি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
প্রশ্ন: কত গুলি চর্যা আবিষ্কৃত হয়?
Ans.৪৬ টি সম্পূর্ণ ও ১ টি অর্ধেক
প্রশ্ন: চর্যাপদের প্রাচীন কবি কাকে মনে করা হয়?
উ: সরহ পা
প্রশ্ন: চর্যাপদ কী নামে প্রথম প্রকাশিত হয়?
#উত্তর: 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোঁহা'
প্রশ্ন: .চর্যা কথার অর্থ কী?
উঃ আচরণীয়
প্রশ্ন: .হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কত বারের প্রচেষ্টায় চর্যাপদ আবিষ্কার করেন?
উঃ.তৃতীয় বারের প্রচেষ্টায়
প্রশ্ন: 42 নং পদটি কার?
উঃ.কাহ্ন পা
প্রশ্ন: .চর্যাপদের তিব্বতী কে আবিষ্কার করেন?
উঃ প্রবোধচন্দ্র বাগচী
প্রশ্ন: হরপ্রসাদের আগে পুঁথি আবিষ্কারে কার দায়িত্ব ছিল
উঃ রাজেন্দ্রলাল মিত্র
প্রশ্ন: .চর্যার কোন পদকার নিজেকে বাঙালি বলে
পরিচয় দিয়েছেন? কত সংখ্যক পদে?
উঃ.ভুসুকুপা..৪৯ নং পদে।
প্রশ্ন: .সংস্কৃত টীকা ও টীকাকারের নাম কী?
প্রশ্ন: নির্মলগিরাটীকা/ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি---- মুনিদত্ত
উঃ.চর্যাপদের টীকাকার কে?
Ans.মুনি দত্ত
প্রশ্ন: চর্যার কোন কোন পদ গুলি পাওয়া যায় নি?
উঃ.২৩ এর কিছু  ৬ টি ছড়া এবং ২৪,২৫,৪৮ সম্পূর্ণ লুপ্ত
প্রশ্ন: .নব চর্যাপদ কী?
উঃ ১৯৬৩ সালে ড. শশীভূষন দাশগুপ্ত ২০ টি প্রাচীন পুথিঁ থেকে ২৫০ টি পদ পান, এর মধ্যে ৯৮ টি পদ নিয়ে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নবচর্যাপদ নামে প্রকাশ করেন।
প্রশ্ন: মোট ৬৪ টি পাতা পাওয়া গেছে। শেষ পাতা সংখ্যা কত
উঃ .৬৯
প্রশ্ন: .চর্যাপদ এর কবিদের শেষে  সম্মান সূচক পদ বা শব্দ ব্যবহার এর কারণ কি?
উঃ.তারা পূজনীয় বোঝাবার জনঁ
প্রশ্ন: .পুঁথি র শুরুতে কি শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে?
.উঃ. নম:শ্রীবজ্রযোগীনৈ
প্রশ্ন: চর্যাপদে কোন কোন নদীর নাম পাওয়া যায়?
উঃ.গঙ্গা যমুনা
প্রশ্ন: .চর্যাপদে উল্লিখিত একমাত্র ফলের নাম কি?
উঃ.তেঁতুল।
প্রশ্ন: .চর্যাপদের ব্যাপ্তি কাল কত বছর?
উঃ .দশম  থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি
প্রশ্ন: .চর্যার কোন কবিকে চিত্র ধর্মী কবি বলা হয়?
উঃ.ভুসুকু
প্রশ্ন: .চর্যাপদের মহিলা পদকর্তা হিসেবে কাকে অনুমান করা হয়ে থাকে?
উঃ.কুক্কুরী পা
প্রশ্ন: .টীকাটির নাম কি?
উঃ.নিমর্ল গিরা টীকা
প্রশ্ন: .চর্যাপদের পত্র সংখ্যা কত?
উঃ.৬৯
প্রশ্ন: দুই জন অবাঙালী চর্যার গবেষকের নাম লিখ
উঃ.রাহুল সাংকৃত্যায়ন জয় কান্ত মিশ্র ওবিশ্বনাথপ্রসাদ মিশ্র
Q.*চর্যার পুঁথিটি কোন অক্ষরে লিখিত?
Ans. নেওয়ারি । অনেকে কুটিল লিপি বলেন
Q.লুইপাদ কোন রাগে চর্যাপদ রচনা করেছিলেন?
Ans.পটমঞ্জরী
Q.প্রবোধ বাগচী প্রণোদিত  চর্যাপদের নাম কি ??
Ans..চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
Q.চর্যাপদের ওপর বই লিখেছেন এমন কয়েক জনের নাম বলুন?
Ans.বেনের মেয়ে,,নীল ময়ূরীর যৌবন,,কাহ্ন( হরপ্রসাদ শাস্ত্রী,সেলিনা হোসেন,শিবাশিস মুখো: ,মৈএেয় জাতক, সহজ সুন্দরী
Q.চর্যাপদের ভাষাকে কে হিন্দী বলে দাবী করেছেন?
Ans.বিজয় চন্দ্র মজুমদার
Q.চর্যাপদের ভাষাতত্ত্ব নিয়ে কে কে আলোচনা করেন?
Ans.সুনীতিকুমার,প্রবোধচন্দ্র বাগচী, বিধুশেখর শাস্ত্রী
Q.কোন পদকর্তা সর্বাধিক পদ রচনা করেন?
Ans. কাহ্ন পাদ
Q.ভুসুকু পাদ রচিত পদের সংখ্যা কত
Ans. ৮টি
Q.চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত???
Ans..পয়ার ত্রিপদি।  পাদাকুলক।
Q.চর্যা র  গান গুলো কে কেন সাধক সংগীত বলা হয়??
Ans.বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের সাধন তত্ব প্রকাশিত হয়েছে গান গুলিতে
Q.চর্যাপদ এর পুঁথি টি কার ওপর লেখা?
Ans. তালপাতা
Q.চর্যাপদের মোট পুঁথি ও প্রাপ্ত পুঁথির সংখ্যা কত?
Ans.মোট ৫০টি মতান্তরে ৫১টি।পাওয়া যায় ৪৬.৫টি।
Q. চর্যাগীতি প্রথম কবে মুদ্রিত হয়?
Ans. ১৯১৬ সালে
Qচর্যাপদের কত সংখ্যক পদে বুদ্ধ নাটকের কথা আছে?
Ans.১৭ সংখ্যক পদে
Q..চর্যায় কোন খেলার উল্লেখ আছে?
Ans.নয়বল বা দাবা
Q..চর্যায় মোট কতগুলো  রাগ আছে?
Ans.১৭ টি
Q.চর্যাপদের ভাষা যে বংলা তা কে প্রমাণ করেন?
Ans.১৯২৬ সালে সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
Q.চর্যার কোন পুঁথি গুলি পাওয়া যায়নি ?
Ans.35, 36, 37 39, 66
Q..চর্যাপদের তিব্বতী অনুবাদ কে..?
Ans.তিব্বতী টীকা কীর্তিচন্দ্র/ চন্দ্রকীর্তি
Q..চর্যার ভাষা যে হিন্দি নয় তা কে প্রমাণ করেন?
Ans.সুকুমার সেন
Q..চর্যাপদে চিত্রত জনগোষ্ঠীর নাম বলুন???
Ans.তাঁতি,ব্যাধ,শবর, মাহুত,শুঁড়ি,কাপালিক, নটনটী,
Q.পন্ডিতদের মতে চর্যার ভাষা কোন উপভাষার উপর প্রতিষ্টিত?
Ans..রাঢ়ী উপভাষা
Q..চর্যাপদের সাধনতত্ত্বে মস্তিস্কে অবস্থিত চক্রের নাম কী?
Ans.মহাসুখ চক্র
Q..চর্যাপদের দুজন বিদেশি গবেষকের নাম করুন।
Ans.জি তাকি,,আর্ণল্ড বেক।
Q..উচাঁ উচাঁ পাবত তহিঁ বসই সবরী বালী - পঙক্তি টি কত নং চর্যায় আছে?
Ans.২৪ নং
Q..চর্যাপদে উল্লিখিত মালা ও ফুলের নাম বল
Ans..গুঞ্জরি ফুলের মালা.কার্পাস ফুল
Q..কোন পদকরতা একটির বেশি পদ রচনা করেননি
Ans...চাটিল পাদ
Q..চর্যাপদের অনুসঙ্গ নিয়ে লেখা একটি আধুনিক উপন্যাসের নাম করুন
Ans.মত্রৈয়ী জাতক
Q..বাংলা ভাষার আদি কবি কে?
Ans.লুই পা
Q..চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা ?
Ans.ষোলো মাত্রার পাদাকুলক পজ্ঝটিকা
Q..কত জন পদকর্তা একটির বেশি পদ রচনা করেন নি?
Ans. চাটিল পা সহ আরও ১৫ জন
Q..দাবা খেলাটা কার কত নং পদে আছে?
Ans..কাহ্ন পা র....১২নং পদে..
Q.."রুক্মের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাও" পদটির পদকর্তা কে????,
Ans.কুক্করী পা।
Q..চর্যাপদ কোন লাইব্রেরি থেকে আবিস্কৃত হয়?,
Ans. অভিলেখালয়।
#চর্যাপদ নিয়ে গবেষণা করেছেন বিদেশী পন্ডিত-----
-> Dr. Arnold Bake, Dr. G.Tucci, Per Kvaerne.
২) #চর্যার অবাঙালী গবেষক -------
-> রাহুল সাংকৃত্যায়ণ,রামকৃষ্ণ শুক্লা, বিশ্বনাথপ্রসাদ মিশ্র, ধর্মবীর ভারতী।
৩) #চর্যাপদের ইংরেজী নাম----
->১৯৫৬ সালে বিশ্বভারতী থেকে "Caryagitikosa of Buddistic Siddhas" নামে P.C Bagchi and Santi Bhiksu দ্বারা প্রকাশিত।
->  ১৯৭৭ সালে "Caryagitikosa" নামে নীলরতন সেন প্রকাশ করেন।
৪) #হিন্দী নামে প্রকাশিত  চর্যাপদ-------
-> ধর্মবীর ভারতীর -- সিদ্ধসাহিত্য-১৯৫৫।
-> রাহুল সাংকৃত্যায়নের-- দোহাকোষ-১৯৫৭।,
Q চর্যার কোন পদকর্তা নিজেকে বাঙালি বলে দাবি করেছেন?,
Ans.ভুসুকু পা।
Q..চর্যার পদে বাংলা দেশের কোন নদীর নাম আছে??,
Ans.পদ্মা নদীর
Q..'মেখলা টীকা ' কার রচনা?
Ans.আচার্যপাদ
Q..রাইতু বলে কোন কবি নিজেকে দাবি করেছেন
Ans.ভুসুকু পা
Q..কোন কবি নিজেকে বাঙ্গালী বলেছেন?
Ans.ভুসুকু পা।
Q..চর্যাগীতির দুটি সামাজিক বৈশিষ্ট কী ?
Ans.১• বর্ণাশ্রম প্রথা । ২• অন্ত্যজ শ্রেণীর জীবন চিত্র।
Q..রাইতু কথার অর্থ কী?
ans.রাজপুত
Q..পদ্মা নদীর উল্লেখ কাঁর কততম পদে আছে?
Ans.ভুসুকু পা এর ৪৯ নং পদে
Q..ভুসুকুপা র  আসল নাম কি?
Ans..শান্তি দেব
Q..সন্ধাদেশ বলতে কোন কোন স্থান কে বোঝায়
Ans.বীরভূম , সাঁওতাল পরগনার পশ্চিমাংশ ও ভাগলপুরের (বিহার) দক্ষিণ পূর্বাংশ।
Q..কতগুলি ভণিতায় কবিনাম পাওয়া যায়নি?
Ans.৫টি
Q..বেশিরভাগ পদ কয়টি চরণে লিখিত?
Ans.১০টি
Q..চর্যার ভাষাকে কে সন্ধাদেশের ভাষা বলেছেন।
Ans.পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
Q..কুক্কুরী পা কয়টি পদ লেখেন?
Ans.৩টি
Q..করুণা পিহাড়ি খেলহুঁ নয়বল-- কার লেখা পদ?
Ans.কাহ্নপা
Q..চর্যাপদকে মৈথিলী ভাষার আদি নিদর্শন কে বলেছেন?
Ans..জয়কান্ত মিশ্র তাঁর
"A history of maithili literature" গ্রন্থে।
Q..চর্যাপদের ফটোমুদ্রণ সংস্করণ কে কবে করেন?
Ans.নীলরতন সরকার ,
Q..রাগারাগিনি ই র নাম কি?
Ans.
Q..চর্যাপদে দারোগা কে কি বলা হত?
Ans. দুষাধী
Q..চর্যাপদে থানা কে কি বলা হত?
Ans. উআরি
Q. চর্যাপদ র কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে মনে করেন?
Ans.
Q..চর্যার পঞ্চস্কন্ধ কী কী?
Ans.রূপ-বেদনা-সংজ্ঞা-সংস্কার-বিজ্ঞান।
Q..33 নাম্বার পদটি কী??এবং কার?
Ans..টেণ্টন পাদের...." টালত ঘর মোর নাহি পড়বেশী/হারিত ভাত নাহি নিতি আবেশি"
Q..কার, কোন কাব্যের ছন্দের সঙ্গে চর্যাগীতির ছন্দের মিল লক্ষ্য করা যায়?
Ans.জয়দেব , গীতগোবিন্দ
Q.কে সন্ধ্যা ভাষাকে 'প্রহেলিকায়ম ভাষা' বলেছেন ?
Ans-বুর্নফ
Q. চর্যাপদের ভাষা মৈথিলি ...কে বলেন?
Ans..জয়কান্ত মিশ্র
Q, কোন গ্রন্থে সুনীতি কুমার চর্যাপদ সম্পর্কে অালোচনা করেছেন?
Ans.Origin and Development of Bengali Language
Q..নবচর্যাপদের সম্পাদক কে?
Ans.অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
Q. চর্যাপদের সাথে আর কোনদুটি বই পাওয়া যায়?
Ans..ডাকার্নব ,দোহাকোষ,সুভাষিত সংগ্রহ
Q. চর্যাগুলি কোন ছন্দে লেখা ?
Ans.পাদাকুলক বা পজ্ঝটিকা ছন্দে রচিত।
Q..টীকাকার মুনিদত্ত কোন তন্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন?
Ans.বৌদ্ধ তন্ত্রে।
Q.মুনিদত্তের মতে পদ সংগ্রহের নাম কী?
Q..চর্যাগীতিরর প্রকৃত নাম " চর্যাশ্চর্য
Q..চৌরাশ সিনধা কী?,
Ans.বৌদ্ধ কিংবদন্তি তে চূড়াশি জন সিদ্ধাচার্যের কথা পাওয়া যায়,,এরাই চৌরাশি সিদ্ধা নামে পরিচিত
Q .চর্যাপদে কতজন বাঙ্গালী কবির নাম জানা যায়।
Ans. ১ জন.
Q..টীকাকার মুনিদত্ত কার কত সংখ্যক চর্যার ব্যাখ্যা করেন নি।,
Ans. কৃষ্ণাচার্যের ১১ সংখ্যক পদের ব্যাখ্যা করেন নি,
Q. চর্যায় ব্যবহৃত 'পুলিন্দ' শব্দের পারিভাষিক অর্থ কী?,
Ans.নপুংসক,
Q. কত নং পদে বুদ্ধ নাটকের কথা আছে?,
Ans. ১৭ নং পদে.
Q..কোন রাগে চর্যাপদ সর্বাধিক রচিত হয়েছে?,
Ans.পটমঞ্জরী,
Q..কে কবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে যুক্তি দেখান?
Ans. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 1926 খ্রিস্টাব্দে তাঁর ODBL গ্রন্থে ধ্বনিতত্ব, রূপতত্ব ও ছন্দের বিচার করে দেখান শুধুমাত্র চর্যার ভাষা বাংলা, বাকি দুটির ভাষা পশ্চিমা শৌরশেনী অপভ্রংশ।,
Q..মুনি দত্তের মতে চর্যাপদের প্রকৃত নাম কি?,
Ans.চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চিয়।
Q..'কায়া তরুবর পঞ্চ বি ডাল।'  পদটিতে 'বি' কী জাতীয় পদ?,
Ans. প্রত্যয়,
Q..চর্যাগীতি অনুযায়ী তৎকালীন বাঙ্গালীদের প্রধান খাদ্য কী ছিল?
Ans. মৎস, ভাত,
Q..চর্যাপদের রস কী?
Ans., উদ্ভট,
Q..চর্যাপদের নামপত্রে লিখিত তারিখটি  কোন অব্দে লেখা হয়েছিল,
Ans.সংবৎ,
Q..কার পদে বুদ্ধ নাটকের উল্লেখ আছে?,
Ans.১৭ নং বীণাপাদ এর পদে।
Q..কার পদে বীণাবাদন ও নৃত্য গীতের রূপক ব্যবহৃত হয়েছে?,
Ans.বীণাপা-র পদে।,
Q.. চর্যাপদের কত নং পদ 'দেশাখ' রাগ-এ রচিত হয়েছে?,
Ans. ১০ নং পদে
Q. কোন সিদ্ধাচার্যের পদে গাছ এবং তার শাখা রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
Ans .লুই পা
Q..কোন সিদ্ধাচার্যের পদে মদ চোলাই এর রূপক ব্যবহৃত হয়েছে?
Ans.বিরুবা পা
Q..কোন সিদ্ধাচার্যের পদে হরিণ শিকার রূপক ব্যবহৃত হয়েছে?
Ans.ভূসূকু
Q., কার কত সংখ্যক চর্যায় দাবা খেলার প্রসঙ্গ অাছে?
Ans. কাহ্ন পা ..১২ নং পদে
Q..ঢেন্ডন শব্দের অর্থ কী?,
Ans.জুযাড়ি, ধূর্ত/
Q..চতুর, কাহেরে ঘিণি মেলি অচ্ছহু কীস- পদটিতে কোন রাগ ব্যবহৃত হয়েছে?,
Ans. পটমঞ্জরী
Q..রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে আদি সিদ্ধাচার্য কে?,
Ans.সরহ পা,
Q..ভুসুকু পাদ চর্যাপদে কিসের চিত্রকল্প ব্যবহার করেছিলেন?,
Ans.হরিণশিকারের,
Q. চর্যার কোন কবিকে অনুত্তরস্বামী বলা হয়েছে?,
Ans.চাটিল পা,
Q..চর্যাপদে কযটি প্রবাদ বাক্য আছে?,
Ans. ৬ টি
Q. ভুসুকু পাদ নামকরনের কারন কী?
Ans.ভোজনে,শয়নে, এবং কুটিতে শান্তিভাবে থাকতেন বলে তাঁর নাম হয় ভুসুক,
Q.লুইপাদের রচিত একটি গ্রন্হের নাম লেখ।
Ans.শ্রীভগবত অভিসময়।
Q. কুক্কুরী পাদ নামের তাৎপর্য কী?,
Ans. কুক্কট  বা  ময়ূর,
Q. ভুসুকু, লুই ও কাহ্নপাদ কোন সময়ের কবি?
Ans.ভুসুকু ত্রয়োদশ,লুই দশম,কাহ্ন দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি
Q..বিবাহ ও বরযাত্রার রুপকে পরমার্থতত্ত্ব ব‍্যাখাত হয়েছে কোন পদে,
Ans.১৯নং পদে
Q..ভবণই গহণ গম্ভীর বেগেঁ বাহী  - পংক্তিটির রচয়িতা কে এবং কত সংখ্যায় পদটি আছে?,
Ans..৫ নং চর্যাপদ। চাটিল পাদ,
Q..চর্যার কী ভাষা ব্যবহার হয়?,
Ans. নব্য ভারতীয় আর্য ভাষার প্রাচীন রূপ,
Q.কোন চর্যাকবি পদ্মানদীর নাম উল্লেখ করেছেন,
Ans.ভুসুকু,
Q..কটি চক্র আছে?
Ans.. ৪ টি...নির্মান, ধর্ম, সম্ভোগ, মহাসুখ,
Q. চর্যাগীতির শেষতম পদে কোন রাগের উল্লেখ অাছে।,
Ans.রামক্রী
Q. মহিলা চর্যাপদ কার কে?
Ans.কুক্কুরী পা,
Q.চর্যাপদে উল্লিকিত ত্রিনাড়ি কি,
Ans. বামগানাড়ি বা ইরা , ডানগানাড়ি বা পিঙ্গলা ,ও  অবধূতিকা,
Q. চর্যাপদে ব্যাবহিত দুটি সর্বনাম পদ কী?,
Ans..তোহোরি,আমহে
Q..চর্যাপদে কোন কোন যান চলাচলের উল্লেখ আছে?,
Ans. রথ,হাতি,নৌকা,
Q. চর্যার ভাষায় কটি লিঙ্গ পাওয়া যায়?,
Ans. ২ টি, পুং ও স্ত্রী।
Q.লুইপাদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?,
Ans.বাংলা দেশ,
Q..বৌদ্ধ সাধনায় কটি নির্বাণ ও কী কী ?
উত্তর - ৩টি। শূণ্য , বিজ্ঞান , ও মহাসুখ।,
Q. অনূলোম কী ?,
Ans. পত্নী নীচু জাতের হলে তাকে অনূলোম বলে।
Q..ভুসূকুর লেখা দুটি গ্রন্থের নাম বলো,
Ans.শিক্ষাসমুচ্চয়, বোধিচর্যাবতার
Q.. চর্যাপদে ডোমেদের মধ্যে কোন ধরনে বিবাহ প্রচলিত ছিল ?,
Ans.সাঙ্গা বা বিধবা বিবাহ।, কাহ্নপাদের ১০ ও ১৩ নং পদে ইঙ্গিত আছে।
Q..কাহ্নপাদ কোথাকার অধিবাসী ছিলেন?,
Ans.সোমপুরী,
Q.চর্যাপদের কোন ভাষার দাবী সবথেকে কম?,
Ans.হিন্দি,
Q..লুইপাদের রচিত একটি গ্রন্থের নাম বলো,
Ans.অভিসময়বিভঙ্গ,শ্রীভগবদভিসময়
Q. চর্যাপদে কোন অলংকার বহুল ব্যবহৃত?,
Ans. রূপক,
Q.চর্যার ব‍্যবহৃত " পুলিন্দ" শব্দের অর্থ কী,
Ans.মাস্তুল(নপুংসক),
Q. চর্যার ফটোকপি কে প্রথম কত সালে ছাপান।,
Ans.ড.নীলরতন সেন।১৯৭৮,
Q..চতুরাভরন নামে বই কার,
Ans.ভুসুক পাদ,
Q.ডাকর্নব কী?
Ans.কাহ্নপাদ এর লেখা একটি পুঁথি।,
Q.চর্যাপদে কটি করে অর্থ আছে ?,
Ans.২টি । ১টি লৌকিক অর্থ। আর অন্যটি আধ্যাত্মিক অর্থ।,
Q..চর্যাপুথির "আশ্চর্য্যচর্য্যাচয় " নামকরণ কে করেন?,
উত্তর : বিধুশেখর শাস্ত্রী,
Q.আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভ‌ইলী,--- বঙ্গালী কী জাতীয় শব্দ,
Ans.স্ত্রীলিঙ্গ
Q..বিবাহ ও বরযাত্রার রুপকে পরমার্থতত্ত্ব ব‍্যাখাত হয়েছে কোন পদে,
Ans.১৯ নং পদে
Q. চর্যাপুথির "আশ্চর্য্যচর্য্যাচয় " নামকরণ কে করেন?,
উত্তর : বিধুশেখর শাস্ত্রী,
Q.কার রাজত্ব কালে লুই পাদে র আবির্ভাব,
Ans.পালরাজ রামপালের,
Q.কাহ্ন পার পুরো নাম কী?
Ans. কৃষ্ণাচার্যপাদ, কৃষ্ণপাদ
Q..অভিসময় বিভঙগ বই টি কার,
Ans.লুইপাদ,
Q.কাচ্ছি কী?
Ans. মানে দড়ি..বৌদ্ধদর্শনে কাচ্ছি হল অবিদ্যা।,
Q.চর্যাগীত যে গান তা বোঝা যায় কি দেখে,
Ans. রাগ রাগিনীর উল্লেখ থেকে,
Q.চর্যাগীতিতে রাগের সংখ‍্যা কতগুলি,
Ans.22 টি,
Q.চর্যার ভাষায় কোন অপভ্রংশের লক্ষন আছে ?,
Ans. অবা'চীন
Q., চর্যাপদের একজন মুসলিম গবেষকের নাম বলো,
Ans.সৌয়দ আলি হাসান
Q.ছদ্মনাম যুক্ত কবি কারা,
Ans.গুণ্ডরী, কুক্করী,
Q. রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে চর্যার রচনা কাল কত?,
Ans.৮ম- ১২শ শতক,
Q.চর্যাপদে ব্যবহার করা তিনটি সওা কি,
Ans. ইরা,পিঙ্গলা ও সুসুষ্ণা।
Q চর্যার দু একটি হিন্দি মুদ্রণের নাম বলুন?,
Ans. সিদ্ধসাহিত্য, দোহাকোষ,
Q.চর্যার পঞ্চ স্কন্ধ কী কী?
Ans.রূপ,বেদনা,সংঙ্গা, সংস্কার, বিজ্ঞান ।,
Q.চর্যাপদ র কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে মনে করেব,
Ans.ভুসুকু পা,
Q. রাগারাগিনি ই র নাম কি,
Ans.পটমনজুরি
Q.ভৈরবী, চর্যাপদে কোন অলংকার ব্যবহার করা হয়েছে,
Ans.অনুপ্রাস,শ্লেস,সমাসক্তি, রুপক,
Q.করুণা পিহাড়ি খেলহুঁ নয়বল-- কার লেখা পদ?,
Ans.কাহ্নপা
Q.চর্যার ভাষাকে কে সন্ধাদেশের ভাষা বলেছেন।,
Ans.পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়,
Q.বেশিরভাগ পদ কটি চরণে লিখিত?
Ans. ১০ টি
Q.কতগুলি ভণিতায় কবিনাম পাওয়া যায়নি?,
Ans. ৫টি
Q. সন্ধাদেশ বলতে কোন কোন স্থান কে বোঝায়,
Ans.বীরভূম , সাঁওতাল পরগনার পশ্চিমাংশ ও ভাগলপুরের (বিহার) দক্ষিণ পূর্বাংশ।,
Q.ভুসুকুপা র  আসল নাম কি?,
Ans. শান্তি দেব,
Q. পদ্মা নদীর উল্লেখ কাঁর কততম পদে আছে?
Ans, ভুসুকু পা এর পদে, 49,
Q.রাইতু কথার অর্থ কি,
Ans.রাজপুত
Q., চর্যাগীতির দুটি সামাজিক বৈশিষ্ট কী ?
Ans., ১• বর্ণাশ্রম প্রথা । ২• অন্ত্যজ শ্রেণীর জীবন চিত্র।
Q.কুক্কুরী পা কয়টি পদ লেখেন?,
Ans.৩ টি. ২,২০, ৪৮,
Q.করুণা পিহাড়ি খেলহুঁ নয়বল-- কার লেখা পদ?,
Ans.কাহ্নপা,
Q.চর্যাপদকে মৈথিলী ভাষার আদি নিদর্শন কে বলেছেন?,
Ans.জয়কান্ত মিশ্র "A history of maithili literature" গ্রন্থে,
Q.চর্যার ভাষাকে কে সন্ধাদেশের ভাষা বলেছেন।,
Ansপাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
Q.কার, কোন কাব্যের ছন্দের সঙ্গে চর্যাগীতির ছন্দের মিল লক্ষ্য করা যায়?,
Ans.জয়দেব , গীতগোবিন্দ,
Q.চর্যাপদ এর প্রথম পদটির রচয়িতা কে?,
Ans.লুইপাদ,
Q. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কত বারের প্রচেষ্টায় চর্যাপদ আবিষ্কার করেন?,
Ans.তৃতীয় বারের প্রচেষ্টায়,
Q. হরপ্রসাদের আগে পুঁথি আবিষ্কারে কার দায়িত্ব ছিল,
Ans. রাজেন্দলাল মিত্র।
কাহ্নপাদের কত সংখ্যক পদে কৌলীন্য প্রথার উল্লেখ আছে?
Q. চর্যাপদের সাধনতত্ত্বে মস্তিস্কে অবস্থিত চক্রের নাম কী?,
Ans.মহাসুখ চক্র
Q. কার ভণিতায় সবথেকে বেশি পদ পাওয়া যায় ?,
Ans.কাহ্ন পাদ
Q.বিনিশ্চিয়" কথার অর্থ কী?
উত্তর - চর্যাগুলির অপূর্ব ব্যাখ্যা।
Q. চর্যাপদ কোন রাজবংশের সময়কালে রচিত হয়েছিল?,
Ans. পাল বংশের রাজা গোপাল
Q. " নব চর্যাপদ" কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
Ans. কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
Q.. নব চর্যাপদগুলি কে সংগ্রহ করেছিলেন?
Ans. ডঃ শশিভূষণ দাশগুপ্ত 1963
Q..চর্যার কয়েকটি প্রবাদের নাম বলুন?
Ans..1. আপনা মাঁসে হরিণা বৈরী
2. গাছের তেন্তুলি কুম্ভীরে খায়ে
Q.. নাটক কথাটি প্রথম বাংলাসাহিত্যে কোথায় পাওয়া যায় ?
Ans.চর্যাপদে
Q..প্রবোধচন্দ্র বাগচী মহাশয় চর্যাপদের যে তিব্বতী অনুবাদ আবিষ্কার করেন, তাতে মোট গানের সংখ্যা কয়টি?, ans..৫০ টি
কাহ্নপাদ- ১২টি,
ভুসুকুপাদ- ৮টি,
সরহপাদ- ৪টি,
কুক্কুরীপাদ- ৩টি,
লুইপাদ, শান্তিপাদ, সবরপাদ- ২টি,
ডোম্বীপাদ, চাটিলপাদ, দ্বারিকপাদ, ধামপাদ, বিরুবাপাদ, গুন্ডরীপাদ, কামলি বা কমলাম্বরপাদ, মহিন্ডা বা মহীধরপাদ, বীনাপাদ, আজদেব বা আর্যদেবপাদ, ঢেন্ডনপাদ, ভাবেপাদ বা ভদ্রপাদ, তাড়কপাদ, কঙ্কণ বা কৌঙ্কনপাদ, জয়নন্দিপাদ, তন্ত্রীপাদ- ১টি; পদ রচনা করেন।
Q.., চর্যা শব্দের অর্থ কী?,
Ans. তিব্বতী ভাষায় 'চর্যা' কথাটি সংস্কৃত আচার শব্দের সমার্থক। যার বাংলা অর্থ 'আচরণ '।
Q..চর্যাপদে কয়টি রাগের সন্ধান মেলে?
সবচেয়ে বেশি গান গাওয়া হয় কোন রাগে?
Ans.. ৫টি কি? তবে সব চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে পটমন্জুরী।,
Q..চর্যার সংস্কৃত ভাষায় রচিত টীকার টীকাকারের নাম কি??,
Ans.. মুণি দত্ত।
Q..মুণি দত্তের টীকার হিন্দি অনুবাদ কে করেন?,
Ans..রাহুল সাংকৃত্যায়ন

তথ্যদাতা : সাকসেস বাংলার সকল সক্রিয় সদস্য
তথ্য সংগ্রহ : আমিয়তোষ ঘোষ
আরো তথ্যের জন্য আমাদের গ্রুপে যুক্ত হোন Click Here

বাংলা সাহিত্যে নব চর্যাপদ

শশিভূষণ দাশগুপ্তের নেপাল থেকে নতুন ভাবে উদ্ধার করা চর্যাপদ সংকলন নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। ডঃ শশিভূষন দাশগুপ্ত ১৯৬৩খ্রিঃ নেপাল থেকে ২৫০টি পদ আবিষ্কার করেন,যার মধ্যে ৯৮টি পদকে তিনি নবচর্যাপদ নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশ করতে চাইলেও হঠাৎ মৃত্যুর কারনে তা হয়ে ওঠেনি। এগুলি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের  সম্পাদনায় "নব চর্যাপদ" নামে সংকলিত ও প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটিতে সংকলিত হয়েছে মোট ৯৮ টি পদ। ৯৮টি পদের মধ্যে ৬ টি অগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। আবার তার মধ্যে ৫ টি পদ অবহটঠে,  একটি বিকৃত সংস্কৃতে লিখিত। তবে বেশির ভাগ পদ বাংলা ভাষায় রচিত। মনে করা হয় পদ গুলি সম্ভবত ৮ম-১২শ শতকের সময় রচিত, তবে অধিকাংশ রচনাই ১২শ - ১৫শ শতকের মধ্যেই লিখিত।
আলোচক: সুশান্ত কর্মকার
অ্যাডমিন, সাকসেস বাংলা

চর্যাপদ আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট

* ১৮৮২ সালে প্রকাশিত রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের "The Sanskrit Buddhist Literature in Nepal" গ্রন্থটি পাঠ করে সবচেয়ে বেশী যিনি  উৎসাহিত হন, তিনি হলেন  মহামহোপধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। যিনি পরবর্তী কালে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হন। তিনি ১৯০৭ খ্রীস্টাব্দে তৃতীয় বারের চেষ্টায় নেপালের রয়েল লাইব্রেরী থেকে চর্যাপদ সহ চারটি গ্রন্থ আবিষ্কার করেন। অন্য তিনটি হচ্ছে অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। যথা:
▪ সরহপাদের দোহা
▪ কৃষ্ণপাদের দোহা
▪ ডাকার্ণব
উল্লেখিত চারটি গ্রন্থ একসঙ্গে কলিকাতার ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯১৬ সালে তখন চারটি গ্রন্থের একত্রে নাম দেয়া হয় ‘হাজার বছরের পুরোনো বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধ গান ও দোহা’। এটি প্রকাশিত হবার পর পালি সংস্কৃত  ওড়িয়া অসমিয়া সহ বিভিন্ন ভাষাবিদরা চর্যাপদকে নিজ নিজ ভাষার আদি নিদর্শন বলে দাবী করেন। এসব দাবী মিথ্যা প্রমাণ করেন ড. সুনীতি কুমার চট্রোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ‘The Origin and Development of Bengali Language’ গ্রন্থে। তিনি অত্যন্ত নিপূণ ভাবে চর্যাপদ এর ভাষা বিষয়ক গবেষণা করেন এবং প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন। এছাড়াও পরবর্তী কালে অনেক ভাষাবিদ চর্যার ভাষা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন। এবং সকলেই চার্যাপদকে আদি বাংলা ভাষার নিদর্শন বলেই মনে করেন।

আলোচক – সুশান্ত কর্মকার
অ্যাডমিন, সাকসেস বাংলা।

চর্যাপদের অজানা কিছু কথা


    ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগারে তালপাতায় লেখা চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। পুথিটি আসলে মুনিদত্তের টীকার পুথি। চর্যাগানগুলো সঙ্গে রয়েছে। তালপাতার এই পুথিটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল থেকে নিয়ে আসেননি। তিনি এনেছিলেন পুথির প্রতিলিপি। এই প্রতিলিপিটিই কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে, যার ক্যাটালগ নম্বর ৮০৬৩। তাহলে ‘আদি ও আসল’ পুথির কি খবর তা অজ্ঞাতই রয়েছে গেছে? ড. সুকুমার সেন একজন জাপানি গবেষকের কাছে মূল পুথির ফটোকপি দেখেছিলেন ১৯৬৬ সালে। এরপর ১৯৭৮ সালে নীলরতন সেন পুরো চর্যাপদের ফটোমুদ্রণ (ফ্যাক্সিমিলি) সংস্করণ প্রকাশ করেন। সিমলা থেকে বড় আকারে পুথির আলোচিত্রসহ ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয় নীলরতন সেনের সম্পাদনায়। যদিও সে সংস্করণ ছিল সাদাকালো কিন্তু সংস্করণটি  ছিল স্পষ্ট ।
*  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের যে পুথিটি দেখেছিলেন সেটি নাগরি হরফে লেখা ছিল। তাঁর মতে, এর ভাষা বাংলা। এর লিপি দেখে পণ্ডিতদের অনুমান, পুথিটি লেখার সর্বোচ্চ সীমা বারো শতক থেকে ষোড়শ শতক পর্যন্ত। অনেকে আবার মনে করেন, পুথিটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি থেকেও অর্বাচীন। নীলরতন সেন পুথি সম্পর্কে জানান এর লিপি বাংলা। যদিও অনেক পণ্ডিত মনে করেন এই লিপি কুটিল লিপি। তালপাতার পুথিটির উভয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে। এর আয়তন পৌনে তেরো ইঞ্চি পার্শ্বে কিন্তু প্রায় দুই ইঞ্চি। প্রতি পৃষ্ঠাতেই রয়েছে পাঁচটি করে লাইন। কেবল একটি পাতায় ছয়টি লাইন রয়েছে। পুথিতে ১ থেকে ৬৯ পর্যন্ত পাতা পাওয়া গেলেও কয়েক জায়গায় পাঁচটি পৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি। দেশি-বিদেশি অনেক পণ্ডিত এর নতুন নতুন পাঠান্তর তৈরি করেছেন। তবে যে যাই করুক, ভিত্তি কিন্তু অনুলিপিকৃত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পুথি ও তাঁর পাঠ।